কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ১৫.৬ °C
 
১৭ জানুয়ারী ২০১৭, ৪ মাঘ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

‘ককটেলে যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে তাদের ভোট দিলে বেঈমানী হবে’

প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘আমার ছেলে অভি কী দোষ করেছিল, তাকে ককটেল মেরে হত্যা করা হয়েছে। সে তো কলেজে যেতে চেয়েছিল, বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে চেয়েছিল। হরতাল-অবরোধ ডেকে আমার ছেলেকে কেন হত্যা করা হলো এভাবে? পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে তারা কিভাবে জনগণের কাছে ভোট চাইতে আসেন। তাদের এখন ভোট দিলে আমার ছেলের আত্মার সঙ্গে বেইমানি করা হবে, তার আত্মা শান্তি পাবে না।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আহাজারি করতে করতে কথাগুলো বলছিলেন নূরজাহান বেগম। তাঁর ছেলে সানজিদ অভি গত ১৪ জানুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধের সময় রাজধানীর বঙ্গবাজারের কাছে পেট্রোলবোমায় আহত হন। এক সপ্তাহ পর ২১ জানুয়ারি ছেলেটি মারা যায়। নিহত অভি ছিলেন কবি নজরুল সরকারী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতাল-অবরোধে সহিংস ঘটনায় হতাহতদের স্বজনরা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। নূরজাহানের মতোই পেট্রোলবোমায় হতাহতদের অনেকের স্বজনই এসেছিলেন ডিআরইউতে। তারা পেট্রোলবোমা হামলাকারীদের বিচার দাবি করেছেন। ‘খালেদা জিয়া আমার স্বজনকে কেন পোড়ালেন, জবাব দিন’, ‘খালেদা জিয়া আমার অগ্নিদগ্ধ স্বজনের দোহাই, আমাদের কাছে ভোট চাইবেন না’- লেখা ব্যানার ঝুলিয়ে স্বজনরা এই সংবাদ সম্মেলন করেন। নূরজাহান বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে কবি নজরুল সরকারী কলেজে পড়ত। কোচিং করে বাসায় ফেরার সময় বঙ্গবাজার এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হয়। হাসপাতালে চোখের সামনে ছেলেটা আমার একটু একটু করে শেষ হয়ে গেল। আমি কিছুই করতে পারলাম না। ম্যাডাম জিয়ার কাছে অনুরোধ, আর কাউকে পেট্রোলবোমা মেরে হত্যা করবেন না।’

‘মায়ের বুক থেকে সন্তানকে কেন চিরদিনের জন্য কেড়ে নেয়া হয়েছে? ছেলের হত্যাকা-ে জড়িত বিএনপি-জামায়াতের বিচার চাই’- কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন নূরজাহান।

বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ খোকনের বোন সালমা বলেন, ‘আমার ভাই ফুটপাথে জুতা বিক্রি করত। ২৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ীতে বাসে বোমা হামলায় ভাইয়ের হাত ও চোখ নষ্ট হয়ে যায়। এখনও তিনি বার্ন ইউনিটে। আমরা এর বিচার চাই।’ আহত সালাহউদ্দিন ভূঁইয়ার স্ত্রী রুমি আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী কিংবা আমরা তো কোন রাজনীতি করি না। তাহলে আমাদের কেন এভাবে কষ্ট পেতে হবে?’ আহত শফিকুলের বাবা আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলেটা বার্ন ইউনিটে কাতরাচ্ছে। বাবা হয়ে এ দৃশ্য সহ্য করা কঠিন।’ তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে পুড়িয়ে কী লাভ হলো? ছেলেটার ভবিষ্যত নষ্ট হয়ে গেছে। অসহনীয় কষ্ট নিয়ে ছেলের বাকি জীবন পাড়ি দিতে হবে!’ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার প্রতি উদ্দেশ করে ফেরিওয়ালা আলাউদ্দিন বলেন, ভোট নয়, আপনি (খালেদা) ছেলেকে দেখে যান। কী নিদারুণ যন্ত্রণায় সে কাতরাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ইসমাইল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ সুজন, রিয়াজ হোসেনের ভাই মিনহাজুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলীর বাবা মোহাম্মদ শফিকসহ আরও কয়েকজন বক্তব্য রাখেন।

প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল ২০১৫

২৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ:
যমুনায় নাব্য সঙ্কট ॥ বগুড়ার কালীতলা ঘাটের ১৭ রুট বন্ধ || আট হাজার বেসরকারী মাধ্যমিকে প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো নেই || সেবা সাহসিকতা ও বীরত্বের জন্য পদক পাচ্ছেন ১৩২ পুলিশ সদস্য || দু’দফায় আড়াই লাখ টন লবণ আমদানি, সুফল পাননি ভোক্তারা || বাংলাদেশের আর্থিক খাত উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক রোডম্যাপ করছে || নিজেরাই পাঠ্যবই ছাপানোর চিন্তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের || গণপ্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে, প্রমাণ হয়েছে বিচার বিভাগ স্বাধীন || নিহতদের স্বজনদের সন্তোষ ॥ রায় দ্রুত কার্যকর দাবি || আওয়ামী লীগ আমলে যে ন্যায়বিচার হয় ৭ খুনের রায়ে তা প্রমাণিত হয়েছে || নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ৭ খুন মামলার রায় ॥ ২৬ জনের ফাঁসি ||