মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

জলাবদ্ধতা, আবর্জনা, ভাঙাচোরা রাস্তা ॥ সমাধানের প্রতিশ্রুতি

প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল ২০১৫

আনোয়ার রোজেন ॥ দরজায় কড়া নাড়ছে সিটি নির্বাচন। তাই দম ফেলার ফুরসতও মিলছে না ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচার ও নির্বাচনী কৌশল নির্র্ধারণের কাজ। সুপেয় পানির সঙ্কট, জলাবদ্ধতা, আবর্জনা, যানজট, ভাঙাচোরা রাস্তাঘাটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত ওয়ার্ডগুলোর বাসিন্দাদের মনেও লেগেছে উৎসবের আমেজ। শুক্রবার জুমার নামাজকে ঘিরে লিফলেট বিলির মাধ্যমে মসজিদে মসজিদে শেষ প্রচার চালিয়েছেন এই তিন ওয়ার্ডের প্রার্থীরা। ভোটাররা হাসিমুখে আশ্বাসও দিয়েছেন তাদের। তবে কাল ভোটারদের নীরব রায়ই ঠিক করে দেবে কাউন্সিলর হিসেবে এই তিন ওয়ার্ডে কারা হাসবেন বিজয়ীর হাসি।

৩৭ নম্বর ওয়ার্ড ॥ ওয়ার্ডটি আগে ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড নামে পরিচিত ছিল। পুরান ঢাকার ইসলামপুর, পাটুয়াটুলী, বাংলাবাজারের ওয়ার্ডে রয়েছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, আহসান মঞ্জিল, বুলবুল ললিতকলা একাডেমিসহ আরও বেশ কিছু স্থাপনা। ওয়ার্ডভুক্ত অন্য এলাকাগুলো হলো-সিমসন রোড, কুমারটুলী লেন, জিএল সাহা লেন, কবিরাজ লেন, আহসানউল্লাহ রোড, লিয়াকত এভিনিউ, ওয়াইজঘাট, লয়াল স্ট্রিট ও চিত্তরঞ্জন এভিনিউ। ওয়ার্ডের ৭টি কেন্দ্রে মোট ১১ হাজার ৯৪৯ জন ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন। ভোটারদের দুই-তৃতীয়াংশই পুরুষ, যা সংখ্যায় ৭ হাজার ৯৫৫ জন। বিপরীতে নারী ভোটার মাত্র ৩ হাজার ৯৯৪ জন।

প্রার্থী পরিচিতি ॥ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে এই ওয়ার্ডে মোট কাউন্সিলর প্রার্থী আছেন ৭ জন। মোঃ আব্দুর রহমান নিয়াজী (ঘুড়ি প্রতীক) পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সমর্থন। আর এবিএম পারভেজ রেজার ট্রাক্টর মার্কায় আস্থা রেখেছে বিএনপি। এই ওয়ার্ডের অন্য প্রার্থীরা হলেন- আমির আহম্মেদ জ্যোতি (ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট), মোঃ জাফর পাঠান (রেডিও), মোঃ বাচ্চা নওয়াব (ঝুড়ি), মোঃ শফিকুল ইসলাম (করাত) এবং মোঃ শাহাবুদ্দিন (ঠেলাগাড়ি)। বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ঘেঁষা এই ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা পানি। শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা- সারাবছরই সুপেয় পানির সঙ্কট লেগেই আছে। এছাড়া জলাবদ্ধতা, অপরিসর রাস্তার কারণে যানজট ও মাদকের সহজলভ্যতা নিত্যদিনের সমস্যা হলেও পানির কষ্টটাই বেশি ভোগায় বলে জানালেন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। সব প্রার্থীই বলছেন, নির্বাচিত হলে পর্যায়ক্রমে সব সমস্যার সমাধান তারা করবেন।

৩৮ নম্বর ওয়ার্ড ॥ ডিসিসির সাবেক ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডটি নতুন ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড। পুরান ঢাকার নবাবপুর রোড, বনগ্রাম কাপ্তানবাজার, টিপু সুলতান রোড ও এর আশপাশের কয়েকটি এলাকা নিয়ে এই ওয়ার্ড গঠিত। অন্তর্ভুক্ত অন্য এলাকাগুলো হলো- মদন পাল লেন, বিসিসি রোড, ঠাঁঠারী বাজার, যুগীনগর রোড ও লেন, চন্দ্রমোহন ও শশী মোহন বসাক স্ট্রিট, তাহেরবাগ লেন, বরেন্দ্র বসাক ও গোপী মোহন বসাক লেন, লালচাঁদ মুকিব লেন, গোয়াল ঘাট, গুপি কিষান লেন, রাদেশসাম সাহা লেন, রথ খোলা ও ধোলাই খাল (আংশিক)।

ঘনবসতিপূর্ণ এই ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ হাজার ৪১৬। নির্বাচনের দিন মোট ১৫টি কেন্দ্রে ১৬ হাজার ৮৫৮ পুরুষ ভোটারের পাশাপাশি ১২ হাজার ৫৫৮ জন নারী ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন।

প্রার্থী পরিচিতি ॥ এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ৬ জন। এর মধ্যে আবু আহমেদ মন্নাফীর ঘুড়ি প্রতীকে আস্থা রেখেছে আওয়ামী লীগ। কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন একজন নারী। দলের সমর্থনে রেডিও প্রতীকে লড়ছেন মেহেরুন নেছা। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন- কাজী আনোয়ার হোসেন (ঠেলাগাড়ি), নূর আহমেদ মোল্লা (ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট), মোঃ জাকির হোসেন (লাটিম) এবং মোঃ শাফায়েত আলী (ঝুড়ি)।

ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে রাস্তার বেহাল দশা। বনগ্রাম লেন থেকে ঠাঁঠারী বাজার যাওয়ার পুরো রাস্তারই বেহাল দশা। স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। ওয়ার্ডজুড়ে এ চিত্র চোখে পড়ে। আছে আবর্জনা অব্যবস্থাপনা, পানির কষ্ট ও যানজটের দুর্ভোগ। এসব সমস্যার সমধানে ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক প্রার্থীর মধ্যে থাকলেও, স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই জয়-পরাজয়ে নিয়ামক ভূমিকা পালন করবেন বলে সাধারণ ভোটারদের ধারণা।

৩৯ নম্বর ওয়ার্ড ॥ তিন বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ওয়ার্ডটি সাবেক ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড। পুরান ঢাকার সূত্রাপুর ও এর আশপাশের কয়েকটি এলাকা নিয়ে ওয়ার্ডটি গঠিত। ওয়ার্ডে রয়েছে বলধা গার্ডেন, রোজ গার্ডেন, রামকৃষ্ণ মিশন, জয়কালী মন্দিরের মতো স্থাপনা। ওয়ার্ডভুক্ত এলাকাগুলো হলো- কে এম দাস লেন, অভয় দাস লেন, টয়েনবী সার্কুলার রোড, জয়কালী মন্দির রোড, হাটখোলা রোড ও আর কে মিশন রোড (আংশিক)। মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ হাজার ৮৬২। ১২ হাজার ৮২৬ পুরুষ ভোটারের পাশাপাশি ১১ হাজার ৩৬ নারী ভোটার ১২টি কেন্দ্রে ভোট দেবেন।

প্রার্থী পরিচিতি ॥ কাউন্সিলর পদে নির্বাচনী দৌড়ে টিকে আছেন ৭ প্রার্থী। ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন পেয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর (১৯৯৪ সালে নির্বাচিত) ময়নুল হক মঞ্জু (রেডিও প্রতীক)। দলের লোক হিসেবে পরিচিতি থাকলেও সাবেক কাউন্সিলর (২০০২ সালে নির্বাচিত) মোঃ মোজাম্মেল হক (ট্রাক্টর), সাব্বির আহমেদ আরেফ (ঘুড়ি) এবং তারিক হোসেনের (লাটিম) কেউই এককভাবে বিএনপির সমর্থন পাননি। জাতীয় পার্টির সমর্থনে নির্বাচন করছেন খুরশিদ আহমেদ নোমানী (ঠেলাগাড়ি)। বাকি দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন- নিয়ামুল হক কার্জন (কাটা চামচ), মোঃ আতাহার আলী (মিষ্টি কুমড়া)। ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, অভয় দাস লেন সড়কের দুই পাশে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় ও আশ্রম রয়েছে। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই ওই সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। শিক্ষার্থীসহ এই সড়কে হাজার হাজার মানুষকে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। ওই সড়কেই অল্প দূরত্বে রয়েছে দুটি ডাস্টবিন। এসব দৃশ্যমান সমস্যার দ্রুত সমাধান চান ভোটাররা। নির্বাচিত হলে প্রথমেই ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট সংস্কারের উদ্যোগ নেবেন বলে জানান প্রার্থীরা।

প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল ২০১৫

২৭/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: