মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নেপালে নিহতের সংখ্যা ১৯০০ ছাড়িয়ে ॥ উদ্ধার তৎপররতা পর্যাপ্ত নয়

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৫, ১২:০৭ পি. এম.

অনলাইন ডেস্ক ॥ নেপালে শনিবারের শক্তিশালী ভুমিকম্পে নিহতের সর্বশেষ সংখ্যা ১৯০০ ছাড়িয়ে গেছে। এই সংখ্যা আরও তিনগুণ বাড়তে পারে বলে নেপালের সরকার আশংকা করছে। তবে, উদ্ধার তৎপররতা পর্যাপ্ত নয়। খবর বিবিসি, রয়টার্স, এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অনলাইন ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

দেশটিতে বিগত ৮০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে আঘাত হানা ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনার নিচে অনেক লাশ আটকা পড়ে আছে বলে ধারণা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হলেও তারা বলছেন এটা পর্যাপ্ত নয়। এর আগে, ১৮৩৪ সালে নেপালে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই সময় দেশটিতে সাড়ে আট হাজার লোক মারা যায়।

এদিকে নেপালকে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে অনেক দেশ। ভূমিকম্প বিধ্বস্ত নেপালে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে জরুরীভিত্তিতে ওষুধ, মেডিক্যাল টিম সহ মানবিক সহায়তা পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ।

ভুমিকম্পের পর বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে, আর ধ্বংসস্তুপের নিচে আটকে রয়েছে অনেকে। রাজধানী কাঠমান্ডু ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

নেপালের তথ্যমন্ত্রী মিনেন্দ্র রিজাল গণমাধ্যমকে বলেছেন, এই বিপর্যয়ের মোকাবিলায় তার দেশের আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমরা বিস্তৃত পরিসরে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছি এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরুর পরিকল্পনা করছি। তবে এর জন্য অনেক কিছু করতে হবে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অনলাইন জানায় দুযোর্গ ত্রান, ওষুধ, উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে ভারতে কয়েকটি বিমান নেপাল পৌছেছে। সেখানে ১০টি দলে রয়েছে ভারতের ৪৫০ উদ্ধারকর্মী। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা থেকে ইতিমধ্যে সাড়ে ৫শ ভারতীয় নগরিককে উদ্ধার করে আনে দেশটির বিমান বাহিনীরা সদস্যরা।

ভেঙে পড়া অসংখ্য ভবনের নিচে এখনো অনেকে চাপা পড়ে আছেন, অনেককেই গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আহতের সংখ্যা এত বেশি যে হাসপাতালগুলোতে জায়গা হচ্ছে না। অনেককেই খোলা আকাশের নিচে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। রাত নেমে আসায় শনিবার দেশটির হাজার হাজার লোক খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন। এতে অনেকেই ঠাণ্ডার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানা গেছে।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু ও পোখারার মাঝখানে লামজুং এলাকায় ছিল ভুমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল, এবং রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.৯।

কাঠমান্ডু, ভক্তপুর, গোরখা, লামজুং ইত্যাদি ঘনবসতিপূর্ণ জায়গাগুলোয় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভুমিকম্পের কেন্দ্রস্থলে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনো অজানা। নেপাল ছাড়াও সমগ্র উত্তর ভারত, চীনের তিব্বত অঞ্চল, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ জুড়ে এই ভূকম্পন অনুভুত হয়।

রাজধানী কাঠমান্ডুর ঐতিহ্যবাহী ধারাহারা টাওয়ার সহ বহু ভবন এবং অনেকগুলো প্রাচীন মন্দির ধ্বংস হয়ে গেছে।

রাজধানীর ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিমান ওঠানামা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

হিমালয়ের এভারেস্ট শৃঙ্গ এলাকায় ভৃমিকম্পের কারণে হিমবাহে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে বিদেশী পর্যটক আর শেরপারাও রয়েছেন। হিমালয় অভিযানে যাওয়া পর্বতারোহীদের একটি ′বেস ক্যাম্পের′ একাংশ বরফের ধসে চাপা পড়েছে।

ভূমিকম্পের কারণে মাকালু পর্বত থেকে বড় বড় পাথর এবং বরফের টুকরো নেমে আসছে। এ ভুমিকম্পে ভারতের নানা স্থানে অন্তত ৪০ জন এবং বাংলাদেশে অন্তত ৩ জন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে। তিব্বতে নিহত হয়েছেন ৬ জন।

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৫, ১২:০৭ পি. এম.

২৬/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: