কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জনে কেন ব্যর্থ চীন

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৫
  • পারভেজ হোসেন

মোট দেশজ উৎপাদনের ভিত্তিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীন। দেশটির অর্থনীতি ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯০ সালের পর এটিই তাদের অর্থনীতির সবচেয়ে ধীরগতি। চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রথম প্রান্তিকে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ শতাংশ। চীন সরকার সম্প্রতি তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করে বলে, প্রবৃদ্ধি অর্জনের এই হার ২০০৯ সালের বৈশ্বিক মন্দার পর সর্বনিম্ন। এর আগে ২০১৪ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে চীনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। আর বছর জুড়ে প্রবৃদ্ধি হয় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। যেখানে তাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ১৫ বছর পর ২০১৪ সালে, দেশটি এবারই প্রথম প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়। অর্থনৈতিক মন্দার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে চীনের পুঁজি বাজারেও। মার্চ মাস জুড়ে পুঁজি বাজারের সূচক ছিল খুবই কম। গত সপ্তাহে হ্যাংসেং ও সাংহাই কম্পোজিটের সূচক কমেছে যথাক্রমে ২.০২ শতাংশ ও ১.৬৪ শতাংশ। দাতা সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলছে, চলতি বছরে চীনের সার্বিক প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২ যা ২০১৬ কমে হবে ৭ শতাংশ। এডিবি আরও জানায়, এ বছর প্রবৃদ্ধি অর্জনে চীনকে ছাড়িয়ে যাবে ভারত। বছর শেষে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেয় সংস্থাটি।

মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ভিত্তিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ এ দেশটির নির্ধারিত প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যর্থতা, বিশ্ব অর্থনীতিতে আলোড়ন তুলেছে। মন্দার কারণ, বিশ্ববাজারে এর প্রভাব, এবং এর থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজছেন অর্থনীতিবিদগণ। হংকং-এর সিনিয়র অর্থনীতিবিদ কেভিন বলেন, পণ্য রফতানি কমে যাওয়া, শিল্প উৎপাদন হ্রাস পাওয়া, স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ কমে যাওয়া, এমনকি খুচরা বিক্রয় হ্রাস পাওয়ায় চীনের প্রবৃদ্ধি কমেছে। আবাসন ব্যবসার ধীরগতিকে প্রবৃদ্ধি কমার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন অনেকে। উল্লেখ্য, এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনের আবাসন খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ, যা এই খাতে গত ৬ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। সুদের হার নির্ধারণে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থান প্রবৃদ্ধি কমার আরেকটি কারণ। দেশটির কেন্দ্রীয়ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়না ঋণের ওপর সুদের হার গত বছরের নবেম্বরের পর থেকে এ পর্যন্ত দুবার কমিয়েছে। এমন পদক্ষেপ অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি বাজারে তারল্য সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধি কমছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যদিও চীনের এ প্রবৃদ্ধিকে এখনও বিশ্বের যে কোন অর্থনীতির চেয়ে অনেক বেশি বলে উল্লেখ করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। প্রবৃদ্ধি কমার এই ধাক্কা সামলানোর ক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেশি রয়েছে দেশটিরÑ এমন মন্তব্য করছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, যেহেতু চীন তাদের ব্যাংকিং অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত খাত এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করেছে, তাই সময়ের ব্যবধানে চীন প্রবৃদ্ধির এই নেতিবাচক প্রভাব অতিক্রম করতে পারবে। কিংবা প্রয়োজনে চীন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারে। এখন দেখার বিষয় দেশটি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কতটা কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৫

২৬/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: