মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

গাইবান্ধায় নৌঘাট ও মুন্সীগঞ্জে জমি নিয়ে সংঘর্ষ

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৫
  • পুলিশসহ আহত ১

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা, ২৫ এপ্রিল ॥ গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নে রসুলপুর নৌ-ঘাটের ইজারা দেয়াকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ থামাতে শনিবার দুপুর ১২টায় পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। রসুলপুর ঘাট এলাকায় ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেখানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

এলাকাবাসী জানায়, কঞ্চিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক মুন্না রসুলপুর হালুয়া নৌ-ঘাটটি অনিয়মের মাধ্যমে গত বছর ৩৬ হাজার টাকায় তার ভাই সাজেদুল ইসলামকে ইজারা প্রদান করেন। এ বছর ওই ঘাটটি ইজারা দেয়ার জন্য গত ১১ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১৩ এপ্রিল দরপত্র জমাদানের শেষ দিনে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাবিবুর রহমান ঘাটটির এক লাখ আট হাজার টাকার দরপত্র দাখিল করেন। আর কেউ দরপত্র দাখিল না করার কারণ দেখিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ওই দরপত্রটি বাতিল ঘোষণা করেন। এতে দরদাতা হাবিবুর রহমান বিক্ষুব্ধ হয়ে জেলা প্রশাসক ও ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘাটটি সুষ্ঠুভাবে ইজারা দেয়ার জন্য ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান শনিবার দুপুরে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট এলাকায় উভয়পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও হাবিবুর রহমানের লোকদের মধ্যে বাকবিত-ার সৃষ্টি হয়। এ সময় দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করানো হয়। খবর পেয়ে গাইবান্ধা থেকে সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ জহুরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। এতেও অবস্থা স্বাভাবিক না হলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ৪ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে।

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ থেকে জানান, মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় খাস জমিতে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ককটেল বিস্ফোরণে পুলিশসহ আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন।

জানা যায়, উপজেলার গাওদিয়া ইউনিয়নের বড় মোকাম বাজার সংলগ্ন একটি খাস জমিতে এলাকাবাসীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করতে ইট বালি নিয়ে রাখা হয় জমিতে। শুক্রবার কমিউনিটি সেন্টারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের কথা। কিন্তু এলাকার অপরপক্ষ জাহিদ দেওয়ান দীর্ঘদিন ধরে এই খাস জমিটি দখল করে ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছে। তাই জমিতে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণে বাধা প্রদান করেন জাহিদ দেওয়ান গংরা।

এ সময় গাওদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুব আলম হিমু শিকদার কমিউনিটি সেন্টারের পক্ষে কথা বলতে গেলে তার ওপর হামলা চালায় জাহিদ দেওয়ান, শান্ত, জহির দেওয়ান ও হায়দার গংরা। হিমুর ওপর হামলার খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে বিকেল ৬টার দিকে হামলা শুরু করে। প্রতিপক্ষ দুই গ্রুপে চলে হামলা পালটা হামলা। খবর পেয়ে লৌহজং থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে পুলিশের উপস্থিতিতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয় লৌহজং থানার এসআই হাফিজুর রহমান। এছাড়া ওই হামলায় আহত হন মোঃ মাহবুব আলম হিমু শিকদার, সুকেল শেখ, লিটন ব্যাপারী, নয়ন শেখসহ মোট ১০ জন।

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৫

২৬/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: