কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নাটোরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৫
  • কালবৈশাখী ঝড়ে বিধ্বস্ত

সংবাদদাতা, নাটোর, ২৫ এপ্রিল ॥ গত কয়েক দিন ধরে দফায় দফায় বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার বিধ্বস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে খোলা আকশের নিচে পাঠদান। কালবৈশাখী ঝড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কবলে পড়ায় লেখাপড়া ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে চিন্তিত শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া বিধ্বস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মেরামতের কোন উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।

সূত্র জানায়, ২০০৩ সালে সোহাগবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বেসরকারীভাবে স্থাপিত হয়ে সুনামের সঙ্গে পাঠদানকালীন ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী ও চারজন শিক্ষক রয়েছে বিদ্যালয়টিতে। গত বুধবারের কালবৈশাখী ঝড়ে অফিসকক্ষসহ মোট ছয়টি টিনশেড কক্ষের চারটিই উড়ে গেছে। এতে শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ক্লাস ও প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছে। মাত্র একটি ল্যাট্রিনের দুরাবস্থায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোাগ পোহাতে হচ্ছে। তাছাড়া বিদ্যালয়টি ভেঙ্গে পড়ায় যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রধান শিক্ষক নাজমা খাতুন বলেন, দু’দফা ঝড়ে চারটি কক্ষ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্লাস ও প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের খোলা মাঠে বসতে হচ্ছে। তাই কক্ষগুলো সংস্কারের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বরাবর পৃথক আবেদন জমা দেয়া হয়েছে।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম আবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাঠদান যেন ব্যাহত না হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, বুধবারের ঝড়ে জেলার লালপুর উপজেলার কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের টিনের চালা উড়ে যায়। ফলে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করছে।

কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন জানান, বিদ্যালয়টি ১৯৯৪ সালে স্থাপিত হলেও এ পর্যন্ত সরকারীভাবে কোন ভবন বা অনুদান পায়নি, সম্পূর্ণ নিজস্ব ও সামাজিক অর্থায়নে অনেক আগে নির্মিত তিন কক্ষবিশিষ্ট কাঁচাঘরের টিনের চালাটি ঝড়ে উড়ে গেছে যা মেরামত করার মতো অর্থ বিদ্যালয়ের নেই। অর্থের যোগান না হওয়া পর্যন্ত খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই কষ্টদায়ক। অপরদিকে, ঝড়ে জেলার নলডাঙ্গায় ঠাকুর লক্ষ্মীকূল উচ্চ বিদ্যালয় এবং সোনাপাতিল মহিলা কলেজ ও মাধনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় বিধ্বস্ত হয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানেও খোলা আকাশের নিচে স্কুল ও কলেজ ছাত্রীরা ক্লাস করছে।

তলিয়ে গেছে

হালতি বিল

গত কয়েক দিন নাটোর জেলায় ঝড়ের পাশাপাশি ভারি বর্ষণে তলিয়ে গেছে নলডাঙ্গা উপজেলার হালতি বিলের নিচু এলাকার পাকা বোরো ধান। হঠাৎ করেই ভারি বর্ষণে ধান তলিয়ে যাওয়ায় নতুন বোরো ধান কাটতে হিমশিম খাচ্ছে এলাকার কৃষকরা।

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৫

২৬/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: