আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ওরা জঙ্গী গোষ্ঠীর সদস্য ॥ জামায়াত-শিবিরের নীল নক্সা বাস্তবায়ন টার্গেট

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৫
  • আশুলিয়ায় কমার্স ব্যাংক ডাকাতিতে জড়িত দুই ডাকাত ৭ দিনের রিমান্ডে

শংকর কুমার দে ॥ জঙ্গী অর্থায়নের উদ্দেশে দিনে দুপুরে আশুলিয়ায় কমার্স ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দলের সদস্যরা সবাই চিহ্নিত, তারা জঙ্গীগোষ্ঠীর সদস্য। গ্রেফতার হওয়া বাবুল সর্দার ও মিন্টু প্রধান- এ দুই ডাকাতকে শনিবার ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাত দলের সদস্যরা স্বীকার করেছে তারা, আগে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিল, এখন তারা জঙ্গীগোষ্ঠী জেএমবি ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য হিসেবে সক্রিয়। জামায়াত-শিবিরের নীল নক্সা বাস্তবায়ন করতেই বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনে যুক্ত হয়েছে ডাকাত দলটি। তদন্তকারী সূত্রে এ খবর জানা গেছে। আশুলিয়ার ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ ডাকাত ধরা পড়েছে এবং ১ ডাকাত গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে। ধরা পড়া ডাকাতদের মধ্যে রয়েছে বাবুল সর্দার, মিন্টু প্রধান, বোরহান মৃধা, সাইফুল ইসলাম। গণপিটুনিতে নিহত ডাকাতের নাম আরিফ ওরফে সুমন। ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় ডাকাতদের গুলিতে, ছুরিকাঘাতে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৯ জন। ধরা পড়া ব্যাংক ডাকাতরা পুলিশকে ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে তাদের পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ ধরনের কথা জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তকারী সূত্র জানান, আশুলিয়ায় ব্যাংক ডাকাতিসহ হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় জড়িতদের সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। ডাকাত দলের সদস্যরা সবাই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। জামায়াত-শিবিরের নাশকতার নীল নক্সা বাস্তবায়ন করতেই বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনে যুক্ত হয়েছে তারা। বিক্ষুব্ধ জনতা ও পুলিশের হাতে যে ৪ জন ধরা পড়েছে তারা সবাই জঙ্গীগোষ্ঠী আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও জেএমবির সঙ্গে জড়িত। তবে এর আগে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেছে, জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল।

পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান জানিয়েছেন, আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজারে কমার্স ব্যাংকে ডাকাত দলের সদস্যদের রাজনৈতিক উৎস একই জায়গায়, আর সেটা হচ্ছে জামায়াত-শিবির। এই রাজনৈতিক দলটির নাশকতার নীল নক্সা বাস্তবায়ন করতে তারা বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনে যোগ দিয়েছে তারা। একেক সময় একেক নামে বিভিন্ন স্থানে নাশকতা চালালেও উৎস একই জায়গায় বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে মোটামুটি তথ্য পাওয়া গেছে। পলাতক ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। খুব সত্বর পলাতক ডাকাত দলের সদস্যরা গ্রেফতার হবে।

২ ডাকাত ৭ দিনের রিমান্ডে ॥ আশুলিয়ায় কমার্স ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় টঙ্গী থেকে গ্রেফতার করা ২ ডাকাত বাবুল সর্দার ও মিন্টু প্রধানকে শনিবার ৭ দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে। শনিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলাম শুনানি শেষে ডাকাত দলের ২ সদস্যের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ২ ডাকাতকে ঢাকার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবদেন করেন ডাকাতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার পুলিশ পরদির্শক (তদন্ত) দীপক চন্দ্র সাহা। গত ২১ এপ্রিল দিনে-দুপুরে আশুলিয়ায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে দুর্ধর্ষ ডকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ব্যাংক ম্যানেজারসহ ৮ জন নিহত হন। পরে আরও একজন নিহত হন, যিনি সাবেক বিজিবির সদস্য আয়ুব আলী। ব্যাংক ডাকাতরা ডাকাতি করে ৬ লাখ ৮৭ হাজার ১৯৩ টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময়েই তা উদ্ধার করা হয়। এ সময়ে বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে ধরা পড়ে গণপিটুনির শিকার হয়ে আহত হয় ২ ডাকাত বোরহান উদ্দিন ও সাইফুল। বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে আহত দুই ডাকাত এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার রাতে আশুলিয়া এলাকা থেকে পুলিশ বাবুল সর্দার ও মিন্টু প্রধান নামে দুজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী টঙ্গীর আউচপাড়ার কলমা এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত গ্রেনেড ও বোমা তৈরির মেশিন ও সরঞ্জাম, গান পাউডার, একটি মেশিন, চারটি চাপাতি, আটটি ডেগার, পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২টি মোটরবাইক, জামায়াত-শিবিরসহ বিভিন্ন সংগঠনের জিহাদি বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়।

ডাকাতরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও পারদর্শী ॥ তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক ডাকাতরা খুবই প্রশিক্ষিত ও পারদর্শী। তারা ডাকাতির সময়ে যেভাবে নিরীহ মানুষজনকে গুলি ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে, তাদের আঘাতের চিহ্নে ও আলামতে অনুমিত হয় যে, তাদের নিষ্ঠুরতার কায়দা ও কৌশলও একই। যেসব অস্ত্র ও গ্রেনেড ও বোমার ব্যবহার করেছে, সেগুলোও দেশের বাইরে থেকে আনা হয়েছে বলে তারা মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছেন।

মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে ॥ ডাকাতির ঘটনার দিন জনতার হাতে আটক হয়ে গণধোলাইয়ে আহত চিকিৎসাধীন সাইফুল ইসলাম তার পরিচয় সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছিল। প্রথমে সে বলেছিল, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি তার গ্রামের বাড়ি। পরবর্তীতে আবার সে বলেছে, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে তার গ্রামের বাড়ি। প্রকৃতপক্ষে সে কামরাঙ্গিরচর এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। তাকেও পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডাকাতির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাবুল সর্দার নিজেকে একজন গার্মেন্টস শ্রমিক ও মিন্টু নিজেকে পুলিশের কাছে রিক্সাচালক হিসেবে পরিচয় দেয়। ডাকাতি ও জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা তারা অস্বীকার করে তারা।

নেপথ্যের কুশীলবরাও গ্রেফতার হবে ॥ তদন্তের সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তা জানান, জঙ্গীরা নিজেদের সুবিধার্থে বিভিন্ন পেশায় জড়িত হয় এবং প্রয়োজনে পেশা পরিবর্তন করে ছদ্মবেশ ধারণ করে। ব্যাংক ডাকাতরা জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হয়ে দলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জঙ্গী সংগঠনে যোগ দিয়ে নাশকতা চালাচ্ছে। এসব ঘটনার পেছনে কারা জড়িত সেই পর্যন্ত তদন্তের শেষ পর্যায়ে এখনও পৌঁছাতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, তদন্তের শেষ পর্যায়ে এলে নেপথ্যের কুশীলবদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৫

২৬/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: