কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মাদক, চাঁদাবাজি, জলাবদ্ধতা নিত্যসঙ্গী ॥ প্রতিকার চান ভোটাররা

প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল ২০১৫

মশিউর রহমান খান ॥ অবাধ মাদকের ছড়াছড়ি, ইচ্ছেমতো রেলওয়ে ও ঝিলের সরকারী জমি দখল করে অবৈধ বাড়ি ও স্থাপনা তৈরি, নিয়মিত চাদাঁবাজি, সন্ত্রাসীর হুমকি, সরু রাস্তা, নেই কোন খেলার মাঠ, বিনোদনের জন্য নেই পার্ক আর বর্ষাকালে বৃষ্টি হলে হাঁটু পানি এ নিয়েই বসবাস করছেন রাজধানীর উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২২, ২৩ ও ২৪ নং ওয়ার্ডের নাগরিকরা। সন্ত্রাসীদের দ্বারা অবৈধভাবে সরকারী জমি দখল সমস্যা যেন এ তিন ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের কাছে অতি পুরনো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

২২ নং ওয়ার্ড ॥ ভাঙ্গাচোরা রাস্তাঘাট, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, খাবার পানির সমস্যা, পানির যোগাযোগের জন্য পরিবহনের কোন ব্যবস্থা না থাকা, জলাবদ্ধতা, কোন প্রকার সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকা, অপরিকল্পিত আবাসনের কারণে সৃষ্ট যানজট সমস্যা নিয়েই ২২ নং ওয়ার্ডের অবস্থান।

ওয়ার্ড পরিচিতি ॥ বনশ্রী, পূর্ব ও পশ্চিম রামপুরা, ওয়াপদা লেন, ওমর আলী লেন, পশ্চিম হাজীপাড়া, বাগিচারটেক, নাসিরের টেক, মহানগর প্রজেক্ট, উলন, দাসপাড়াসহ ছোট ছোট কয়েকটি এলাকা নিয়ে এ ওয়ার্ডটি অবস্থিত। এ ওয়ার্ডে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার ভোটার রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে এটি অন্যতম বড় একটি ওয়ার্ড।

প্রার্থী পরিচিতি ॥ এ ওয়ার্ডে মোট প্রার্থী ৮ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিতই ৫ জন। বিএনপির ২ জন ও জামায়াতের ১ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থিত প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক কমিশনার লিয়াকত আলী। দলে বিদ্রোহী প্রার্থীরা হচ্ছেন মোঃ নুরুল ইসলাম, খাজা সলিমুল্লাহ, এ বি এম আহম্মদ উল্লাহ ও শামীম আনোয়ার। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সদ্য সাবেক কমিশনার হাজী আক্কেল আলী ও বিদ্রোহী প্রার্থী ফয়েজ আহমেদ। কাউন্সিলর প্রার্থী লিয়াকত আলী বলেন, জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে বৃহৎ এ এলাকায় শিশুদের পড়াশোনার জন্য প্রথমেই একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করব। এছাড়া সরকারী খাস জমি প্রাপ্তি সাপেক্ষে একটি খেলার মাঠ ও পার্ক তৈরি করব। বিএনপির সাবেক কমিশনার আক্কেল আলী বলেন, আমি কমিশনার থাকাকালীন প্রায় সকল সমস্যা দূর করেছি। তবে খাস জমি না থাকায় কোন খেলার মাঠ বা পার্ক করা যায়নি। এবার তা করব।

২৩ নং ওয়ার্ড ॥ মালিবাগ চৌধুরীপাড়া, খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া, তালতলা, মাটির মসজিদ, রিয়াজবাগ, নতুনবাগ, মৌলভীরটেক, হাজীপাড়া, রামপুরা বাজারসহ আরও কয়েকটি এলাকা নিয়ে এ ওয়ার্ডটি গঠিত। এ ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪৬ হাজার। এ এলাকায় সরকারী জমি দখল করে অসংখ্য স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। যার অংশীদার সরকারী, বিরোধী দল ও স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। বৃষ্টি এলেই হাঁটুপনি জমা এ এলাকার স্বাভাবিক চিত্র। কোন কোন স্থানে কয়েকদিন পর্যন্ত পানি থেকে যায়। এছাড়া অবৈধভাবে গড়ে তোলা বস্তিতে চলে রমরমা মাদকের ব্যবসা। সম্প্রতি এ এলাকায় ভাসমান টিনের টংঘর দেবে ১২ জনের মৃত্যু হয়। কিন্তু অবৈধ এসব ঘর তৈরির সময় কেউ বাধা দেয় না।

প্রার্থী পরিচিতি ॥ নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী মোট ৭ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৩ জন, বিএনপির ৩ জন রয়েছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সরদার ফয়সাল বাশার ফুয়াদ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তাক আহমেদ, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবুল মেছের, বিএনপির বিদ্রোহী মজিবুর রহমান চৌধুরী ও নীলাফার ইয়াসমিন নীলু। জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল হক নুরু। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সরদার ফয়সাল বাশার বলেন, জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে আদর্শ ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে কোন রাস্তায় হর্ন না বাজানো, ফুটপাথে গাছ লাগানো, পৃথক রিক্সা লেন তৈরি, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও মাদক এবং সকল অবৈধ স্থাপনা দখলমুক্ত করব।

২৪ নং ওয়ার্ড ॥ মাদকের অবাধ ছাড়াছড়ি, মাদক ব্যবসা নিয়ে খুন, গুম, প্রতিনিয়ত মারামারি, অবৈধ দখল, রাস্তার ওপর ট্রাক স্ট্যান্ড তৈরি করে জায়গা দখল, অসংখ্য বস্তি, নিয়মিত রাস্তা কাটাকাটির সমস্যা নিয়েই এ ওয়ার্ডের মানুষের নিত্য বাস। নেই কোন পার্ক, খেলার মাঠ কিংবা কমিউনিটি সেন্টার। চাঁদাবাজি নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ। উঁচু এলাকা বিধায় জলাবদ্ধতা নেই বললেই চলে। রেললাইন ঘিরে গড়ে উঠা বস্তি সন্ত্রাসীদের অন্যতম আখড়া। যেখানে অস্ত্র, মাদক, ছিনতাইকারীদের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ওয়ার্ড পরিচিতি ॥ তেজগাাঁও শিল্প এলাকা, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড, কুনিপাড়া, বেগুনবাড়ি, সাতরাস্তা মোড়, উত্তর ও মধ্য বেগুনবাড়ি, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় ও সিরামিক কলেজ এলাকা ও মহাখালী রেলক্রসিং থেকে বিএফডিসি গেট পর্যন্ত এ ওয়ার্ড অবস্থিত। ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৭২ হাজার ৫০০ জন।

প্রার্থী পরিচিতি ॥ এ ওয়ার্ডে মোট প্রার্থী ৪ জন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত সফিউল্লাহ সফি, দলের বিদ্রোহী প্রার্থী তালুকদার সারোয়ার হোসেন। বিএনপি সমর্থিত মাহমুদুল ইসলাম মন্টু ও দলের অপর বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলাম। পূর্ব থেকেই এ ওয়ার্ডের ভাসমান অর্থাৎ বস্তিবাসীদের ভোটের গুরুত্ব অনেক। এর বাইরে মাদক ব্যবসায়ী, গার্মেন্ট ও অন্য কারখানার শ্রমিকদের রয়েছে বিশাল ভোট ব্যাংক। শিল্পসমৃদ্ধ এলাকার সুবাদে আবাসিক এলাকা কম হওয়ায় প্রকৃতপক্ষে ভাসমান শ্রেণীর লোকদের যে প্রার্থী আয়ত্ত করতে পারবেন তিনিই ভোটে জয়ী হবেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তালুকদার সারওয়ার হোসেন বলেন, আমি নির্বাচিত হলে প্রথমেই অবৈধ তেজগাাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে বৈধভাবে বহুতল বিশিষ্ট ট্রাকস্ট্যান্ড তৈরি করে উক্ত এলাকার যানজট সমস্যা দূর করতে কাজ করব। আওয়ামী লীগ দলীয় সমর্থিত প্রার্থী সফিউল্লাহ সফি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে এলাকায় মাদকের বর্তমান অবস্থা দূর করা, কমিউনিটি সেন্টার স্থাপন করা, সন্ত্রাসী, কর্মকান্ড, চাঁদাবাজি প্রতিরোধে কাজ করব। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি নির্বাচিত হলে এলাকার ভাসমান অসহায় দরিদ্রদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করব। স্থ’ানীয়দের মতে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা আওয়ামী লীগের আবুল বাশার ফয়সল ও মোস্তাক আহমেদের মধ্যেই হবে।

প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল ২০১৫

২৫/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন



ব্রেকিং নিউজ: