মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ভেটেরিনারিয়ানরা

প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল ২০১৫
  • মোঃ আবদুর রহমান

শীতকাল মানেই ভ্রমণ। বন্ধুরা যখন একের পর এক ভ্রমণে যাচ্ছে, তখন তো আর নিজেদের গুটিয়ে রাখা যায় না। ভেটেরিনারি সায়েন্সের শিক্ষার্থী হিসেবে পশু-পাখির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার নেশায় ঠিক করলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে যাব। এটি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে অবস্থিত।

বাকৃবি থেকে সকালে নাস্তা করে রওনা দিলাম আমরা এগারজন। ব্রিজ মোড় থেকে বাসে উঠলাম, উদ্দেশ গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। বাসের মধ্যে হৈ-হুল্লোর করে মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে গেলাম গাজীপুরের বাঘের বাজার। বাঘের বাজারে নামতেই চোখে পড়ল সাফারি পার্কের বিরাট সাইনবোর্ড। সেখান থেকে তিন কিলোমিটার পথ সিএনজিতে চড়ে পৌঁছে গেলাম সাফারি পার্কে। ২০১০ সালে এই পার্কের কাজ শুরু হয় এবং ২০১৩ সালে পূর্ণাঙ্গ সাফারি পার্ক হিসেবে চালু করা হয়। জনপ্রতি ৬০ টাকা করে দিয়ে ঢুকে পড়লাম এশিয়ার বৃহত্তম সাফারি পার্কে। সাফারি পার্কটি ৫টি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। ১. কোর সাফারি। ২. সাফারি কিংডম। ৩. বায়োডাইভার্সিটি পার্ক। ৪. এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারি পার্ক। ৫. বঙ্গবন্ধু স্কয়ার।

প্রথমেই প্রবেশ করলাম ‘কোর সাফারি’ পার্কের মধ্যে। এখানে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে দুটি জিপ ও দুটি মিনিবাস। মিনিবাসে চড়ে খুব কাছ থেকে দেখলাম প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে রাখা বাঘ, সিংহ, কালো ভালুক, আফ্রিকান চিতা, চিত্রা হরিণ, সাম্বার ও গয়াল, হাতি ও মায়া ও প্যারা হরিণ। এর পরে প্রবেশ করলাম সাফারি কিংডমে। ৫৫৬ একরের ওপরে তৈরি করা এই অংশে ঢুকতেই চোখে পড়ল নজরকাড়া ম্যাকাওল্যান্ড। এখানে আরও আছে নীল-সোনালি ম্যাকাও, সবুজ ম্যাকাও, টিয়া, আফ্রিকান গ্রে প্যারট, পেলিক্যান, লুটিনো রিংনেক প্যারটসহ প্রায় ৩৪ প্রজাতির পাখি, রয়েছে প্রায় ২০ প্রজাতির মাছ। ক্রোকোডাইল ফিশ, টাইগার ফিশ ও অস্কার। রয়েছে চিকলেট মাছ যা ২০ সেকেন্ড পরপর রং পরিবর্তন করে।

এরপর দেখলাম প্রজাপতি সাফারি। যেখানে প্রায় ২৬ প্রজাতির প্রজাপতি রয়েছে। সাফারি কিংডমের একটি অংশে আলাদাভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল তিনটি পাখিশালা। ধনেশ পাখিশালায় রয়েছে প্রায় আট প্রজাতির পাখি। এর মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির প্যারট, পিজেন্ট ধনেশ, ফ্লেমিঙ্গো, কালো সোয়ান ও বিরল প্রজাতির ম্যান্ডারিন ডাক। পার্কের ভেতরে রয়েছে দুটি বিশাল আকারের পর্যবেক্ষণ রেস্তরাঁ, একটির নাম টাইগার রেস্তরাঁ অপরটি সিংহ পর্যবেক্ষণ রেস্তরাঁ। এখানে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর বের হয়ে পড়লাম বাংলাদেশের মিনি আফ্রিকা থেকে। বাংলাদেশের মিনি আফ্রিকার সৌন্দর্য বাকৃবির এই তরুণ ভেটেরিনারিয়ানদের বিমোহিত করেছে, রেখে দিয়েছে আবার ফিরে আসার অতৃপ্ততা যা দিয়ে যাবে সেই সময়ের জানান।

প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল ২০১৫

২৪/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: