কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সঙ্গীহীন জীবন কি মৃত্যুর কারণ!

প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল ২০১৫
  • ইব্রাহিম নোমান

রহিম সাহেবের বয়স ৬৮ বছর। মাস তিনেক আগে তাঁর স্ত্রী মারা গেছেন। ইদানীং রহিম সাহেবের শরীরটাও ভাল যাচ্ছে না। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীরা বলাবলি করছে, স্ত্রীকে হারিয়ে খুব বেশি একা হয়ে পড়েছেন রহিম সাহেব। হয়ত তিনিও বেশিদিন বাঁচবেন না। বছর না ঘুরতেই দেখা গেল রহিম সাহেবও মরে গেছেন।

আমাদের সমাজে প্রায়ই এ ধরনের কথা শোনা যায়, শেষ বয়সে স্বামী বা স্ত্রীকে হারিয়েছেন, এখন অন্যজনও বেশিদিন বাঁচবেন না। দু’জনের মধ্যে ভালবাসা খুব বেশি ছিল তো তাই।

আসলাম সাহেবের বয়স রহিম সাহেবের চেয়েও বেশি, ৮২ বছর। তিনি তাঁর স্ত্রীকে হারিয়েছেন ২৫ বছরেরও বেশি সময় হয়েছে। কিন্তু আসলাম সাহেব এখনও সুস্থ জীবনযাপন করছেন। তাহলে আসলাম সাহেব কী তাঁর স্ত্রীকে কম ভালবাসতো।

যুগল জীবনের সফল দশকগুলো পার করার পর সঙ্গীর মৃত্যুর সামান্য ব্যবধানে অন্যজনের মৃত্যু ওই দম্পতির তীব্র ভালবাসার বহির্প্রকাশই বটে। প্রবীণ যুগলের একজনের মৃত্যু হলে অন্যজন শারীরিক-মানসিক সবদিক থেকেই ভীষণ ভেঙ্গে পড়েন এবং অল্পসময়ের মধ্যে তাঁরও মৃত্যু হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কি কারণে এমন হয়?

সঙ্গীকে হারিয়ে শোকাতুর অল্প বয়সী ও প্রবীণদের একটি দলের ওপর গবেষণা চালান যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা দেখেছেন, অল্প বয়সীরাও তাঁদের সঙ্গীর মৃত্যুতে মুষড়ে পড়েন ঠিকই। কিন্তু তাতে তাঁদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর খুব বেশি প্রভাব পড়ে না। অন্যদিকে প্রবীণদের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টোটা ঘটে। সঙ্গীর মৃত্যুতে তাঁদের রোগ প্রতিরোধকারী শ্বেত রক্তকণিকার প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে তাঁরা সহজেই যে কোন রোগে আক্রান্ত হন। আর দ্রুত মৃত্যুর দিকে ধাবিত হন। ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এ কথার সত্যতা পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্যাপারটির অধিকতর ব্যাখ্যায় বিশেষজ্ঞরা জানান, তাঁরা মানুষের দুই ধরনের শ্বেত রক্তকণিকার ওপর পর্যবেক্ষণ করেন। দেখা যায়, প্রবীণ দম্পতির যে কোন একজন মারা গেলে অন্যজনের দেহে কর্টিসল ও ডিহাইড্রোপিয়ানড্রোস্টেরন সালফেট নামের হরমোন দুটির মাত্রায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা প্রভাব ফেলে নিউট্রোফিল নামের শ্বেত রক্তকণিকার কার্যক্ষমতায়। গবেষণায় মূলত নিউট্রোফিলের ওপরই চোখ রাখেন বিশেষজ্ঞরা। আর তাতেই দেখা যায়, নিউট্রোফিল দুর্বল হয়ে পড়ায় বয়স্ক ব্যক্তির দেহ খুব সহজেই আক্রান্ত হয় ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগে। এসব রোগ কাটিয়ে ওঠার পরিবর্তে ব্যক্তিটি মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যান। এভাবেই প্রবীণ দম্পতিদের ক্ষেত্রে সঙ্গীকে হারানোর পর দ্রুত একই পথের পথিক হন অন্যজন।

সূত্র : পপুলার সায়েন্স

প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল ২০১৫

২৪/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: