মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

এলাকার উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি প্রার্থীদের ॥ নির্বাচনী প্রচার তুঙ্গে

প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই নির্বাচনী প্রচার বাড়ছে। এলাকায় এলাকায় ছেয়ে গেছে পোস্টারে। মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীরাও ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। ভোট চাইছেন। নানা প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। আর প্রার্থীরাও ভোটের হিসাব-নিকাশ শুরু করেছেন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। এই ওয়ার্ডগুলো পড়েছে রাজধানীর তেজগাঁও, কাওরান বাজার, রাজাবাজার, মনিপুরীপাড়া এলাকায়। এসব ওয়ার্ডে লেগেছে এখন ভোটের আমেজ। একই সঙ্গে নির্বাচনী উৎসবও শুরু হয়েছে। রাজধানীর এই তিন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ৪০ জন।

২৫ নম্বর ওয়ার্ড ॥ তেজগাঁও শিল্প এলাকার আরজতপাড়া, নাখালপাড়া, শাহীনবাগ এলাকা নিয়ে ২৫ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। এখানে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৬২ হাজার। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এই ওয়ার্ডে আসন্ন সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থীর সংখ্যা ১৩ জন। দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় বলে খ্যাত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অবস্থিত এ ওয়ার্ডে। এখানে আগে ওয়ার্ড কমিশনার ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবর রহমান। তিনিই এই ওয়ার্ডে এবার আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ মুজিবর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, আমি নির্বাচিত হলে অতীতের মতোই এলাকাবাসীর সেবা করে যাব। এই ওয়ার্ডের নাগরিকরা যেন সমস্ত নাগরিক সুবিধা পান, সেজন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলেও জানান।

এছাড়া এই ওয়ার্ডে এবার প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা আবদুল্লাহ আল মঞ্জুর। তিনি তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এদিকে এই ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হলেন সাইফুল ইসলাম কাজল। তিনিও নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এই ওয়ার্ডে বিএনপিরও একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন জাসাসের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও গীতিকার মুনশী আবদুল ওয়াদুদ। তিনিও প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের অধিকাংশ রাস্তাই খানাখন্দে ভরা, ম্যানহোলগুলোয় নেই ঢাকনা, সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, নেই উন্নত স্যুয়ারেজ লাইন। এছাড়া তেজগাঁও রেললাইনের দু’একটি স্থানে অনেকটা প্রকাশ্যে মাদকদ্রব্য বিক্রি হয়। এ ওয়ার্ডের অনেক রাস্তারই বেহাল দশা। এ কারণে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীদের পোহাতে হয় দুর্ভোগ। এখানে নেই সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন কোন কমিউনিটি সেন্টার ও খেলার মাঠ। তবে এই ওয়ার্ডে বেশ কিছু ভাল স্কুল ও হাসপাতাল রয়েছে। ওয়ার্ডবাসী জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এলাকার বাসিন্দা হলেও অনেক নাগরিক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত। আবার অনেক বাসিন্দাই বলেছেন জনপ্রতিনিধি না থাকায় এসব সমস্যা দিন দিন প্রকট হয়ে উঠেছে। তাই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কাউন্সিলর হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে।

২৬ নম্বর ওয়ার্ড ॥ রাজধানীর তেজতুরী বাজার, কাওরান বাজার, তেজকুনীপাড়া, কমিশনার গলি এলাকা নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড। আগে ছিল এটি ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মোট ১২ জন। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক কমিশনার শামীম হাসান হেভিওয়েট প্রার্থী। তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান দু’দফায় কমিশনার ছিলেন। মেয়র হানিফ ও খোকার আমলে তিনি কমিশনার ছিলেন। তবে দু’দফায়ই শামীম হাসান ছিলেন বিরোধীদলীয় কমিশনার। আওয়ামী লীগ থেকে এবার তাকে দলের প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেয়া হয়েছে। শামীম হাসান জনকণ্ঠকে বলেন, আমার এলাকায় এখনও জলবদ্ধতা রয়ে গেছে। নির্বাচনে জয়ী হলে আমার প্রথম কাজ হবে জলবদ্ধতা দূর করা। এছাড়া আমার ওয়ার্ডকে একটি ডিজিটাল ওয়ার্ড হিসেবে গড়তে চাই। নাগরিক সেবার জন্য ওয়ার্ডকে আরও আধুনিকায়ন করতে চাই। এই ওয়ার্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি কোন প্রার্থীকে সমর্থন দেয়নি। তবে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ইকবাল হোসেন ও শহীদ চৌধুরী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় পার্টি থেকে এই ওয়ার্ডে নির্বাচন করছেন আবদুল বারেক।

২৭ নম্বর ওয়ার্ড ॥ রাজধানীর গ্রীনরোড, শুক্রাবাদ, রাজাবাজার, সংসদ ভবন এলাকা, আসাদ গেট এলাকা মিলিয়ে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড । রাজধানীর এ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৫৩ হাজার। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে মোট প্রার্থী রয়েছেন ১৫ জন। তবে এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হলেন ফরিদুর রহমান খান। তিনি বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে ফরিদুর রহমান খান জনকণ্ঠকে বলেন, নির্বাচিত হলে এলাকা থেকে মাদক ব্যবসা উচ্ছেদ করব। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা থেকে ভাসমান পতিতাও উচ্ছেদ করব। পাড়া-মহল্লাতে সিসি ক্যামেরা দিয়ে এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।

এছাড়া এলাকার পানি সমস্যার সমাধান করবেন বলেও তিনি জানান। এই ওয়ার্ডের ভোটার বদিয়ার রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, এই এলাকায় বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এখানে যিনিই নির্বাচিত হন না কেন, আমরা আশা করি তিনি যেন জলাবদ্ধতা দূর করেন। এই ওয়ার্ডে আগে কমিশনার ছিলেন বিএনপি নেতা আনোয়ারুজ্জামান। বিএনপি থেকে এবারও তাকে সমর্থন দেয়া হয়েছে। তিনিও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল ২০১৫

২৪/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: