রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

গানে গানে ৫০ পার ...

প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল ২০১৫

মূল ফিচার

সঙ্গীতশিল্পী শাহীন সামাদ। গানকে জীবনের সঙ্গী করে নিরন্তর যার পথচলা। মুক্তিযুদ্ধের সময় দল বেঁধে গান গেয়ে উজ্জীবিত করেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের, সংগঠিত করেছেন লাখ লাখ শরণার্থীসহ সাধারণ মানুষকে। দেশের গ-ি ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতে গান গেয়ে বাংলা গানকে করেছেন সমৃদ্ধ। সময়ের স্রোতে পূর্ণ হলো চিরসবুজ লাস্যময়ী এই খ্যাতিমান শিল্পীর সঙ্গীতজীবনের

৫০ বছর। তাঁর বর্ণাঢ্য সঙ্গীত জীবন নিয়ে লিখেছেন গৌতম পা-ে

সঙ্গীতজীবনের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হলো তাঁর একক সঙ্গীতসন্ধ্যা। অনবদ্য কণ্ঠের মহিমায় সুরের আনন্দধারায় সিক্ত করলেন শ্রোতাদের। গত ১৮ এপ্রিল শনিবার বৈশাখী সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে বসেছিল এ সঙ্গীতাসর। ‘গান হোক অশুভের বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ’ সেøাগানে সঙ্গীতানুষ্ঠানটির আয়োজন করে আমরা সূর্যমুখী। ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ শেষে এদিন শাহীন সামাদ বলেন, সুর ও গানকে সঙ্গী করেই দীর্ঘ একটা জীবন পাড়ি দিয়ে যাচ্ছি। পেয়েছি শ্রোতাদের হৃদয় উৎসারিত ভালবাসা। আর আমার আজকেই এই অবস্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ছায়ানট।

শাহীন সামাদের জন্ম ১৯৫২ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ায়। বাবা শামসুল হুদা এবং মা শামসুন্নাহার রহিমা খাতুন। শিশুকাল থেকেই সঙ্গীতে আগ্রহী শাহীন সামাদের সংস্কৃতিমনা বাবা, মা তাঁকে প্রথম তালিম দিয়েছিলেন বাড়িতে। পরে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সঙ্গীত শিক্ষা শুরু করেন। তিনি বলেন, মাত্র ৬ বছর বয়সে নিলফামারী গার্লস স্কুলে পড়ার সময় গান গেয়ে আমি প্রথম হই। সেখান থেকেই আমার গানের পথচলা শুরু। আমি তখন ছায়ানটে ভর্তি হইনি। ১৩ বছর বয়সে গুরু ধরে গান শিখতে শুরু করি। আমার প্রথম সঙ্গীতগুরু ছিলেন ওস্তাদ ফজলুল হক। পরবর্তীতে ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদের কাছে তালিম নিয়েছি। ১৯৬৬ সালে ১৪ বছর বয়স থেকেই ছায়ানটে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। ছায়ানট সঙ্গীতবিদ্যায়তন থেকে নজরুল সঙ্গীতে পাঁচ বছরের শিক্ষাক্রম শেষ করে আরও তিন বছর বিশেষ শিক্ষা গ্রহণ করেন। সমাপনী পরীক্ষায় শাহীন সামাদ নজরুল সঙ্গীতে প্রথম মান পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন। দশম শ্রেণীতে পড়ার সময়ে রেডিও ও টেলিভিশনে অডিশনের মাধ্যমে পাস করেন।

দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার সঙ্গীত জীবনের অনেক ঘটনাই আছে যা স্মরণ রাখার মতো। তার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ তো অবশ্যই স্মরণীয়। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীরা যখন সোচ্চার, তখন থেকেই দেশের স্বাধীনতার জন্য কিছু করার তাগিদ অনুভব করতেন শাহীন সামাদ। ছায়ানটে তখন যেসব গান শেখানো হতো, সেগুলো ছিল উদ্দীপনামূলক, মূলত গণসঙ্গীত এবং নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের দেশাত্মবোধক গান। এসব গানই তাঁর জন্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যেসব সংগ্রামী নারী শিল্পী প্রাণের ভয় না করে বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে সংগ্রামী তেজোদ্দীপ্ত সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন তাদেরই একজন শিল্পী শাহীন সামাদ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সামিল হয়েছিলেন তিনি গানকে হাতিয়ার করে। বিভিন্ন ক্যাম্পে বাংলাদেশের তরুণ সহশিল্পীদের সঙ্গে গান গেয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেরণা যুগিয়েছিলেন মুক্তিকামী বহু বাংলাদেশীকে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাক বাহিনী দেশজুড়ে নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ শুরু করলে ঘরে বসে মরতে চাননি শাহীন সামাদ। তাই সারাক্ষণ ভেবেছেন জাতির এই দুর্যোগে কীভাবে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তিনি। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে ১৭ এপ্রিল মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েন। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৮ বছর। তিনি যে সময় বাড়ি ছেড়ে চলে যান, সেটা অন্যরকম একটা সময় ছিল তার পরিবারের জন্য। তার বাবা বেঁচে ছিলেন না সে সময়। প্রথমদিকে মা তাকে যেতে দিতে চাননি। পরে তিমি মাকে অনেক বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। কুমিল্লা হয়ে ভারতের উদ্দেশে রওয়ানা করেন। বাসে, ট্রেনে, গাড়িতে পাক সেনারা সেসময় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। পাক সেনাদের হাতে ধরা পড়া এড়াতে বোরখা পরে নেন শাহীন সামাদ। কলকাতায় পৌঁছে ‘বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’র সঙ্গে কাজ শুরু করেন। কলকাতার ১৪৪ নম্বর লেলিন সরণিতে অবস্থিত এই সংস্থাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ ও ভারতের প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। এর জন্য ভারতের লেখক-সাংবাদিক দ্বিপেন বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ঘর ছেড়ে দিয়েছিলেন। এখানে প্রত্যেকে তার নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র থেকে ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব পালন করতেন। শিল্পীরা সংগঠনের হয়ে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠান করে টাকা যোগাড় করে তা ফান্ডে জমা দিতেন। শাহীন সামাদ ছাড়াও আরও ছিলেন সন্জীদা খাতুন, ওয়াহিদুল হক, সৈয়দ হাসান ইমাম, মুস্তফা মনোয়ার, আলী যাকের, তারেক আলি, আসাদুজ্জামান নূর, ইনামুল হক, বিপুল ভট্টাচার্য, মোর্শাদ আলি, ডালিয়া নওয়াজ ও দেবু চৌধুরী। এরা সবাই মরহুম শেখ লুৎফর রহমান (গণসঙ্গীতের সম্রাট নামেই যাকে সবাই চেনে), আলতাফ মাহমুদ এবং পটুয়া কামরুল হাসানের কাছে গান শিখতেন এবং নির্দেশনা পেতেন। ‘বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’র শিল্পীরা বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে গিয়ে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে গিয়ে গান করতেন। এভাবে তাদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করতেন। আর এভাবেই শব্দ দিয়ে, কণ্ঠ দিয়ে সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষদের যুদ্ধ শুরু হয়। উত্তাল রণক্ষেত্র, অসহায় নিঃসম্বল শরণার্থী আর অবরুদ্ধ দেশে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিল আরও অনেক মানুষ। সবার মনোবল বৃদ্ধির কাজটি খুব সহজ ছিল না। তখনকার দিনের প্রযুক্তিগত অভাব এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধা সত্ত্বেও এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন আমাদের বীর শব্দ সৈনিকেরা। শাহীন সামাদ যখন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে স্বাধীন বাংলা বেতারে আসেন, পেছনে ফেলে এসেছিলেন তার মা এবং তার পরিবারকে। সন্তান যুদ্ধে গিয়েছে এই অপরাধে তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল। তার মা তার ছোট ভাইবোনদের নিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। তিনি জানতেনও না তার সন্তান কেমন আছে, কোথায় আছে। এই অবস্থাতেই তখন বেতারে যোগ দেন শাহীন সামাদ। তিনি গিয়ে দেখেন তখনকার বড় শিল্পীরাও সেখানে আছেন। আবদুল জব্বার, সমর দাস, কাদেরী কিবরিয়া, সুজেয় শ্যামসহ অন্য শিল্পীরা সবাই মিলে একত্রে কাজ শুরু করেন। সে সময় প্রায় ৩৬টির মতো গান করেছিলেন শাহীন সামাদ। এর মধ্যে আছে ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে’, ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’, ‘রক্তের প্রতিশোধ রক্তেই নেব আমরা’সহ আরও কত গান। তাদের সঙ্গে ক্রমেই আরও অনেক শিল্পী এসে যোগ দিয়েছিলেন। শিল্পী রফিকুল আলম, সরদার আলাউদ্দীন, তপন মাহমুদÑ এরা সকলেই ছিলেন সে সময়ে তাদের সহযোদ্ধা। আপেল মাহমুদ কালজয়ী এসব অসাধারণ গানের স্রষ্টা। বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থায় মাত্র ১৭ জন শিল্পী নিয়ে কাজ শুরু হয়। এরপরে ধীরে ধীরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন আরও অনেক শিল্পী। শেষ পর্যন্ত সংখ্যাটি গিয়ে দাঁড়ায় ১১৭ জনে। শাহীন সামাদসহ অন্য শিল্পীরাও তখন বিপুল উদ্যমে তাদের কার্যক্রম চালাতে থাকেন। এরা শুধু শরণার্থী শিবির আর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পেই যে গান করতেন তা কিন্তু নয়, তারা এই দল নিয়ে দিল্লী, বহরমপুর-কল্যাণী-শান্তিনিকেতন-আসানসোল এরকম বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠান করে বেড়াতেন। অনুষ্ঠানের জন্য স্ক্রিপ্ট করা হতো, সেটি পড়ে শোনাতেন হাসান ইমাম। স্টেজ সাজাতেন মুস্তাফা মনোয়ার। ওই সব অনুষ্ঠান থেকে সংগৃহীত অর্থ নিয়ে যেতেন শরণার্থীদের ক্যাম্পে। শরণার্থীদের প্রয়োজনীয় খাদ্য, হাঁড়ি-পাতিল, কাপড় ইত্যাদি কিনে নিয়ে যেতেন। শিল্পীরা টালিগঞ্জ টেকনিশিয়ান স্টুডিও থেকে প্রথমবার স্বাধীন বাংলা বেতারের জন্য ৬টি গান রেকর্ড করেন। দ্বিতীয়বার সমর দাশের ডাকে আরও দুটি গান করেন। তৃতীয়বার আরও ১৪টি গান রেকর্ড করেন। রেকর্ড করা গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলÑ ‘দেশে দেশে ভ্রমি তব’, ‘ওই পোহাইল তিমির রাতি’, ‘জনতার সংগ্রাম চলবেই’, ‘শিকল পরা ছল’, ‘কারার ঐ লৌহকপাট’, ‘একি অপরূপ রূপে মা তোমায়’, ‘খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি’, ‘বাংলা মা দুর্নিবার’, ‘মানুষ হ মানুষ হ’, ‘ফুল খেলিবার দিন নয়’, ‘দেশে দেশে গান গাহি’, ‘শুনেন শুনেন ভাই সবে’, ‘প্রদীপ নিভিয়ে দাও’, ‘বেরিকেট বেয়োনেট বেড়াজাল’সহ বেশকিছু উদ্দীপনামূলক গান। গানগুলো স্বাধীন বাংলা বেতারে ক্রমাগত বাজত। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবেশন করতেন উদ্দীপনামূলক গান। তারা একটি ভাঙ্গা ট্রাকে করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে গান করতেন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। ওই সময়ে লিয়ার লেভিন, একজন মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক ও আলোকচিত্র শিল্পী এবং মার্কিন টিভি সাংবাদিক তাদের সঙ্গে ট্রাকে ওঠেন। লিয়ার লেভিন প্রায় ছয় সপ্তাহ পশ্চিম বাংলায় থেকে বিভিন্ন শরণার্থী শিবির ও যুদ্ধফ্রন্টের ছবি তোলেন। পরে ২২ ঘণ্টার ফুটেজ নিয়ে তিনি ‘জয় বাংলা’ নামে ৭২ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। কিন্তু কোন স্পন্সর না পাওয়ায় ছবিটি পরিত্যক্ত হয়। দুই দশকের বেশি সময়ের পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও তাঁর স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ লিয়ার লেভিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর তোলা ফুটেজগুলো সংগ্রহ করেন। তাঁরা লিয়ার লেভিনের ফুটেজকে নবরূপ দেন ‘মুক্তির গান’ ছবিতে। লেভিনের এই প্রয়াসে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক দালিলিকভাবে ফুটে উঠেছে। ১৯৭১ সালে শাহীন সামাদের সেই কীর্তিকে তারেক মাসুদ পরিচালিত ‘মুক্তির গান’ নামক চলচ্চিত্রে দেখা গেছে। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালে।

শাহীন সামাদ দীর্ঘকাল ধরে ছায়ানট সঙ্গীত বিদ্যায়তনে শিক্ষকতা করে আসছেন। লন্ডন প্রবাসকালে নজরুল সঙ্গীতকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থেকে প্রভূত সফলতা লাভ করেছেন শাহীন সামাদ। লন্ডনে থাকা অবস্থায় তিনি ‘লন্ডন এডুকেশন অথরিটি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রথম সঙ্গীতের শিক্ষকতা করেন। দীর্ঘ ২২ বছর লন্ডনে থাকেন তিনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে তিনি প্রথম ছায়ানটের হয়ে রমনা বটমূলে পহেলা বৈশাখে গানে অংশ নেন। আজও নজরুল সঙ্গীত প্রচার ও প্রসারের জন্য তাঁর আন্তরিকতা ও উদ্যম অশেষ। ‘মোহাব্বতমে ইয়ে কেয়া’ নামের তাঁর প্রথম উর্দু গজলের সিডি প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ‘অভিসার’ নামে নজরুলের গানের একটি সিডি প্রকাশিত হয়। তার প্রকাশিত এ্যালবাম হলো ‘নিশিরাত’, ‘লোকান্তরের গান’, ‘নহে নহে প্রিয়’ এবং ‘সন্ধ্যা তারা’। শাহীন সামাদ পাঁচমিশালি গান নিয়ে একসঙ্গে দুটি এ্যালবাম প্রকাশ করতে যাচ্ছেন। রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত, প্রাচীন লোকসঙ্গীত, দেশের গান, আধুনিক গান, ডিএল রায়, রজনীকান্ত সেনসহ বিভিন্ন ধারার গান দিয়ে এ্যালবামটি সাজানো হচ্ছে। ২৪টি গান থাকছে জোড়া এ্যালবামটিতে। ইতিমধ্যেই এ্যালবামের ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। গানগুলোর সঙ্গীত পরিচালনা করছেন অনুপ বড়ুয়া। জানুয়ারি মাসে এ্যালবাম দুটি প্রকাশ করবে লেজার ভিশন। নজরুলসঙ্গীতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সুকণ্ঠী গায়িকা শাহীন সামাদ ২০০৯ সালে সরকারীভাবে পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা। এছাড়া ২০১৪ সালে ময়মনসিংহ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে সম্মাননা দেয়া হয়। টেলিভিশনসহ দেশে-বিদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঙ্গীতে এখনও সরব সাধক শিল্পী শাহীন সামাদ।

প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল ২০১৫

২৩/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: