মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শেখ হাসিনার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব ॥ নাছির

প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল ২০১৫
  • ইশতেহার ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামকে উন্নত সুযোগ-সুবিধাসংবলিত একটি ‘গ্রীন মেগাসিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন। ডিজিটাল চট্টগ্রাম গঠনের প্রক্রিয়ায় পুরো নগরীকে ওয়াইফাই জোনের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। বুধবার চট্টগ্রামের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি তুলে ধরেন ৩৬ দফা উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা। এ সময় তিনি বলেন, আমি সরকারী দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী। তাই মেয়র নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট থাকব।

ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, সাবেক গণপরিষদ সদস্য ও নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ইসহাক মিয়া, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি, ডাঃ আফসারুল আমিন এমপি, এমএ লতিফ এমপি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী প্রমুখ।

‘স্বপ্নের মেগাসিটি গড়তে চাই’ শিরোনামে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছিরের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধান কর্তব্য হিসেবে স্থান পায় জলাবদ্ধতা নিরসন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনেও নগরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে যথাযথভাবে কাজ হয়নি। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রেলওয়ে, পরিবেশ অধিদফতর, স্বাস্থ্য ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন, মেট্রোপলিটন পুলিশ, চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে কাজ করব।

পাহাড় রক্ষা ও বনায়ন ॥ ইশতেহারে নগরীর পাহাড় রক্ষা ও এতে বনায়নের প্রতিশ্রুতিও ঘোষণা করা হয়। এতে বলা হয়, সামাজিক দুর্যোগ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনে রিটেইনিং ওয়াল দিয়ে পাহাড় রক্ষা ও দুর্ঘটনা এড়াতে সর্বক্ষণিক তদারকি করা হবে।

পানি দূষণ রোধ ও জলাধার রক্ষা ॥ ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী নদী যেন নগরবাসীর জন্য অভিশাপ হয়ে উঠছে। এক্ষেত্রে কর্পোরেশনের অনেক কিছুই করণীয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এ ব্যাপারে সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কর্ণফুলী বাঁচাও ॥ কর্ণফুলীর অবদানে চট্টগ্রামে বন্দর হয়েছে, শিল্পায়ন হয়েছে। এ নদীর গতি প্রবাহ বিঘিœত হলে দেশের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে। কর্ণফুলীকে দূষণ আর দখলের হাত থেকে বাঁচাতে জরুরী ব্যবস্থা নিতে হবে। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে এনে পানি প্রবাহ ধরে রাখতে নদী ভাঙ্গন ও নদী ভরাট রোধ করতে হবে। আমরা পরিকল্পিতভাবে চউকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জাতীয় স্বার্থে কর্ণফুলীকে রক্ষা করতে চাই।

ডিজিটাল চট্টগ্রাম ॥ চট্টগ্রামকে একটি ডিজিটাল সিটিতে পরিণত করার পরিকল্পনাও স্থান পায় নির্বাচনী ইশতেহারে। তিনি বলেন, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে কল সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে ওয়ানস্পট সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং ভ্রাম্যমাণ পরিচ্ছন্নতা টিমের মাধ্যমে দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তিকরণের ব্যবস্থা নেয়া হবে। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকা-ের আধুনিকায়ন ও জবাবদিহিতা বজায় রাখতে কর্পোরেশনকে ই-গবর্নেস স্কিমের আওতায় এনে চলমান অটোমেশন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা হবে।

এছাড়া মোট ৩৬ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনায় আনা হয় আবাসন সঙ্কট নিরসন, ক্রীড়া ও বিনোদন ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুত সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন, পাবলিক টয়লেট উন্নয়ন, শিক্ষা বৃত্তি, দারিদ্র্য বিমোচন, আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণ, ফরমালিনমুক্ত বাজার চালু, শিশুবান্ধব নগর, ধর্মীয় সুবিধা নিশ্চিতকরণসহ অনেক প্রতিশ্রুতি।

প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল ২০১৫

২৩/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: