আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দুই সিটির ২৬ ওয়ার্ডে ॥ বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রকাশ্য বিরোধিতা করলেও কাউন্সিলর প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত। রাজনীতির মাঠে তাদের প্রধান মিত্র বিএনপির সঙ্গে কোন সমঝোতা ছাড়াই যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এই রাজনৈতিক দলটি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে দলের কাউন্সিলর প্রার্থীদের জেতাতে এখন অনেকটাই মরিয়া। তাছাড়া দু’দলের ক্ষেত্রে সমঝোতা না হওয়া মানেই রাজনৈতিক টানাপড়েনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটির ৯৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৬টিতে বিএনপির প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামী। সাধারণ ওয়ার্ডে ১৯ জন ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে সাতজন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে চলছে স্নায়ুযুদ্ধ। বিএনপির পক্ষ থেকে চাপ দেয়া হলেও প্রার্থী প্রত্যাহার কিংবা বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার প্রশ্নে অনড় জামায়াত। চলতি মাসের ১০ এপ্রিল বিএনপিপন্থী নাগরিকদের সংগঠন ‘আদর্শ ঢাকা আন্দোলন’-এর পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ২০ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র, কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী দাবি করছে, প্রার্থিতা বাছাইয়ে ২০ দলের দ্বিতীয় শরিক হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে কোন আলোচনা হয়নি।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, ‘আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ ও সদস্য সচিব শওকত মাহমুদ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ২০ দলের কাউন্সিলর প্রার্থীদের নামের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, এ সম্পর্কে জামায়াত অবহিত নয়। এ বিষয়ে জোট নেতাদের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে কোন আলাপ আলোচনা করা হয়নি।’ জামায়াতের ঢাকা সিটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে থাকা এক নেতা জানান, মাঠে জামায়াতের প্রার্থীরা কাজ করছেন। বিএনপির সঙ্গে কোন সমঝোতা না হওয়ায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ২৬টি ওয়ার্ডে (সাধারণ ও মহিলা) চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন জামায়াত সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা। প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা প্রচার চালাচ্ছেন।

জামায়াত সমর্থিত ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ঢাকা উত্তরে সাধারণ কাউন্সিলর পদে নয়জন ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে চারজন এবং দক্ষিণে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১০ জন ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে তিনজন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে জামায়াত সমর্থিত সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেন- আশরাফুল আলম (ওয়ার্ড ৩), লস্কর মোঃ তাসলিম (ওয়ার্ড ৪), এনায়েত হোসেন (ওয়ার্ড ১৩), তারেক রেজা তুহিন (ওয়ার্ড ১৪), মোস্তাফিজুর রহমান (ওয়ার্ড ২২), শরীফ মিজানুর রহমান (ওয়ার্ড ২৬), মোঃ ইকবাল (ওয়ার্ড ২৯), মনজুরুল আলম (ওয়ার্ড ৩৫) ও সালেহ সিদ্দিকী (ওয়ার্ড ৩৬)।

ঢাকা উত্তরে জামায়াত সমর্থিত সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেনÑ উম্মে সালমা (৪, ১৫, ১৬নং ওয়ার্ড), মাসুদা আক্তার (১২, ১৩, ১৪নং ওয়ার্ড), ডাঃ আমেনা বেগম (২২, ২৩, ৩৬নং ওয়ার্ড) ও কাওসার জাহান (২৯, ৩০, ৩২নং ওয়ার্ড)। ঢাকা দক্ষিণে জামায়াত সমর্থিত সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেনÑ কবির আহমেদ (১ নম্বর ওয়ার্ড), শহীদুল ইসলাম (৩ নম্বর ওয়ার্ড), উমর ফারুক মজুমদার (৫ নম্বর ওয়ার্ড), গোলাম শাফি মহিউদ্দিন (৬ নম্বর ওয়ার্ড), মোশাররফ হোসেন (১১ নম্বর ওয়ার্ড), আঞ্জুমান আরা রব (১৩ নম্বর ওয়ার্ড), আতাহার আলী (৩৯ নম্বর ওয়ার্ড), আবদুল মান্নান (৪৬ নম্বর ওয়ার্ড), শফিকুল ইসলাম (৫২ নম্বর ওয়ার্ড) ও আহমাদ হাসান (৫৩ নম্বর ওয়ার্ড)। ঢাকা দক্ষিণে জামায়াত সমর্থিত সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেনÑ শামিমা আকতার (২, ৩, ৪নং ওয়ার্ড), দিলারা বেগম (১৩, ১৯, ২০নং ওয়ার্ড) ও হাসনা হেনা (৫২, ৫৩, ৫৪নং ওয়ার্ড)। এদিকে, জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের কেউ কেউ নিজেদের ২০ দলের প্রার্থী হিসেবেও প্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব প্রার্থীর ছাপানো পোস্টার ও ব্যানারে ‘আদর্শ ঢাকা আন্দোলন’-এর প্রার্থী উল্লেখ করেছেন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে মাওলানা সালেহ সিদ্দিকীর (লাটিম) প্রচারের প্রতিটি পোস্টার ও ব্যানারে ‘আদর্শ ঢাকা আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। একই ভাবে ঢাকা দক্ষিণের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী শহীদুল ইসলাম (ঘুড়ি) ও দক্ষিণের সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড-১ এর (২, ৩, ৪নং ওয়ার্ড) প্রার্থী শামীমা আক্তারের (গ্লাস) পোস্টার ও ব্যানারেও ‘আদর্শ ঢাকা আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

সূত্র জানায়, অতীতে বেশকিছু বিষয় নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে তৈরি হওয়া শীতল সম্পর্ক ডিসিসি নির্বাচনকে ঘিরে আরও কঠিন হচ্ছে। ক্রমেই এ দুটি দলের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব) মাহবুবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এ নিয়ে আমার বক্তব্য নেই। আমি বলব, ঘোষিত প্রার্থীদের পক্ষে ২০ দল কাজ করবে। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব বেড়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, না কোন অসুবিধা নেই। তাদের আলাদা একটা পলিটিক্যাল এজেন্ডা আছে। বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের দল। আমরা মডার্ন গণতান্ত্রিক দল।

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৫

২২/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: