মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাসে ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা ॥ জমে উঠেছে প্রচার

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৫
  • ওয়ার্ড পরিক্রমা ২৮, ২৯ ও ৩

এমদাদুল হক তুহিন ॥ পোস্টারে ছেয়ে আছে নগরীর অলিগলি। কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে কোথাও কোথাও শুধু সুতলি ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। প্লাস্টিকের পোস্টার ব্যবহার করায় অনেক প্রার্থী বাড়তি অর্থ খরচ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারে এবার যোগ হয়েছে নতুনত্ব। প্রার্থীরা অন লাইনে প্রচারে সরব। শুধু মেয়ররা নন, কাউন্সিলর প্রার্থীরাও ফেসবুকে ফ্যান পেজ খুলে চালাচ্ছেন প্রচার। সব মিলিয়ে নির্বাচনী আমেজে পুরো ঢাকায় এখন ঈদের আনন্দ। অন্য ওয়ার্ডের মতো ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২৮, ২৯ ও ৩০নং ওয়ার্ডের অবস্থাও একই। ওই তিন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ২২ জন। প্রতিশ্রুতিমূলক নানা আশ্বাসে ভোটারদের কাছে টানার সব রকমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। মাঠে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দলীয় সমর্থনে নামা প্রার্থীদের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। দলীয় কোন্দলের খবরে ভোটারদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আওয়ামী লীগে হাজী সেলিম সমর্থিত বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রকাশ্য রূপ ধারণ করেছে।

ওয়ার্ড ২৮ ॥ সাবেক ৬৪নং ওয়ার্ডটি বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণের ২৮নং ওয়ার্ড নামে পরিচিত। হরনাথ ঘোষ রোড, হরনাথ লেন, গৌরসুন্দর রায় লেন, কেবি রৌদ্র রোড, নন্দকুমার দত্ত রোড, হায়দার বাক্স লেন, আজগর লেন, চক সার্কুলার রোড, মাওলানা দীন মোহাম্মদ রোড (উর্দু রোড), খাজে দেওয়ান (প্রথম, দ্বিতীয় ও শিং) লেন এলাকা নিয়ে ওয়ার্ডটি গঠিত। ১৬ হাজার ভোটারের বিপরীতে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ১১ প্রার্থী। আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থনে লড়ছেন মোঃ ইউনুস সুমন, তাঁর প্রতীক করাত। বিএনপি থেকে সমর্থন পেয়েছেন উম্মে খাদিজা পারভেজ (ঘুড়ি)। আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী সেলিম সমর্থিত কামালউদ্দিন কাবুল (ঝুড়ি) ও মোঃ মতিউর রহমান মতি (ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট)। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ আনোয়ার পারভেজ বাদল (ঠেলাগাড়ি)। তবে এই ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র পরিচয়ে লড়ছেন মোট ৬ জন; তাঁরা হলেন ইব্রাহীম কামাল ফারুক (মিষ্টি কুমড়া), মোঃ আব্দুর রহিম বাবু (টিফিন ক্যারিয়ার), মোঃ তানভির ইসলাম (লাটিম), মোঃ মজিবর রহমান (রেডিও), মোঃ সালেহিন (কাঁটা চামচ) ও মোঃ সেলিম মিয়া (এয়ারকন্ডিশনার)। জানা যায়, এই ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা, যানজট, গ্যাস-পানির সঙ্কটসহ একাধিক নাগরিক সমস্যা রয়েছে। এলাকার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম আসিফ এ প্রসঙ্গে জনকণ্ঠকে বলেন, মাদক-সন্ত্রাসী কর্মকা-, যানজট, জলাবদ্ধতা ছাড়াও বহু সমস্যা রয়েছে এই ওয়ার্ডে।

ওয়ার্ড ২৯ ॥ পূর্বের ৬৫নং ওয়ার্ডটি বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণের ২৯নং ওয়ার্ড হিসেবে পরিচিত। পুরান ঢাকার অত্যন্ত ঘিঞ্জিপূর্ণ ইসলামবাদ পূর্ব-পশ্চিম, শায়েস্তা খান রোড, পোস্তা, হাজী রহিম বক্স লেন, ওয়াটার ওয়ার্কাস রোড ও রহমতগঞ্জ লেন এলাকা নিয়ে এ ওয়ার্ডটি গঠিত। ৩৫ হাজার ৭০০ ভোটারের বিপরীতে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৬ জন। আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থনে জাহাঙ্গীর আলম বাবুল (রেডিও), বিএনপির হয়ে শফিকুল ইসলাম রাসেল (লাটিম), জাতীয় পার্টির হয়ে মোঃ জামাল উদ্দিন (ঠেলাগড়ি) মাঠে সরব। বিএনপি থেকে বিদ্রোহী হয়ে লড়ছেন টিপু সুলতান (ঝুড়ি)। আর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ সিরাজুল ইসলাম (টিফিন ক্যারিয়ার) ও হাজী মোঃ বিল্লাল হোসেন ভুলু (ঘুড়ি)। শেষ মুহূর্তে এসে হাজী মোঃ বিল্লাল হোসেন নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার গুঞ্জন রয়েছে।

সরেজমিনে এলাকা ঘুরে জানা যায়, নীরব চাঁদাবাজি, সরু রাস্তার কারণে দীর্ঘ সময়ের যানজট, মাদক দ্রব্যের অবাদ বিচরণ, কিঞ্চিত জলাবদ্ধতাসহ একাধিক নাগরিক সমস্যা রয়েছে। ওয়ার্ডের বাসিন্দা এনামুল হাসান খান জনকণ্ঠকে বলেন, ময়লা-আবর্জনার জন্য ডাস্টবিন নেই। ফলে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাস্তাঘাট সরু হওয়ায় যানজট এখানের নিত্যসঙ্গী।

ওয়ার্ড ৩০ ॥ দক্ষিণের নবনির্ধারিত ৩০নং ওয়ার্ডটি সাবেক ৬৬নং ওয়ার্ড। আওতাধীন এলাকাগুলোর মধ্যে আছে দেবীদাস ঘাট লেন, রুইহাটা, চম্পাতলী লেন, জুম্মন ব্যাপারী লেন, ইমামগঞ্জ, ললগোলা, রজনী বোস লেন, সোয়ারীঘাট, রায় ঈশ্বর চন্দ্র শীল বাহাদুর স্ট্রিট, সদর নারায়ণ দাস লেন ও মিটফোর্ড রোড। ১৫ হাজার ৫০০ ভোটারের বিপরীতে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৫ জন। আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থনে একক প্রার্থী হাসান মাহমুদ পিল্লু (মিষ্টি কুমড়া), বিএনপির হয়ে হাজী মোঃ আব্দুর রাজ্জাক (ঘুড়ি)। বাকি তিনজন স্বতন্ত্র থেকে লড়ছেন, তাঁরা হলেন মোঃ মাহবুব উল্লাহ (ঠেলাগাড়ি), মোঃ মুসা (ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট) ও সোহেল রানা (ঝুড়ি)। জলাবদ্ধতা, গ্যাস-পানি-বিদ্যুত সঙ্কটসহ মাদক দ্রব্যের ছড়াছড়িও ওই এলাকায়। তবে রাস্তায় বার বার পিচ ঢালাই দেয়ায় বাড়িঘর থেকে রাস্তাঘাট উঁচু হয়ে গেছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেও বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে যায়। রাস্তায় বার বার পিচঢালাই দেয়ার কারণে বাড়িঘর থেকে রাস্তাঘাট উঁচু হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হাসান মাহমুদ পিল্লু নির্বচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে জনকণ্ঠকে বলেন, নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ মুক্ত করাই হবে আমার প্রথম লক্ষ্য।

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৫

২২/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: