রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

জামায়াতপন্থী শিক্ষককে বাঁচাতে মরিয়া বুয়েট প্রশাসন

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৫
  • ছাত্রলীগের দুই নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ যুদ্ধাপরাধীর পক্ষ নিয়ে মন্তব্য করে শিক্ষার্থীদের রোষানলের মুখে পড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) জামায়াতপন্থী এক শিক্ষককে বাঁচাতে সর্বশক্তি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বুয়েট প্রশাসন। এই ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শুভ্র জ্যোতি ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ কনককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। আরও দুই শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরা হলেন প্রতীক দত্ত ও রাতুল। মঙ্গলবার বুয়েট প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বুয়েট শিবির ও ‘বাঁশের কেল্লা’ তে পোস্ট দেয়া হয়েছে। ওই শিক্ষকের নাম জাহাঙ্গীর আলম। তিনি এখন দেশ ত্যাগের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষকের ফেসবুক এ্যাকাউন্ট ডিএক্টিভেট পাওয়া যায়। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে।

বহিষ্কার আদেশের বিষয়ে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক খালেদা ইকরাম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা পুরো বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব আইন ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে মারধর ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করার জন্য তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে উপাচার্যের বাংলোর সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সেøাগান দিয়ে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে। এছাড়া এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করবে বুয়েট ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ কনক জনকণ্ঠকে বলেন, গত সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চিঠির মাধ্যমে আমাদের বহিষ্কারের কথা জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপীল করব। আর প্রশাসনকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য সাত দিনের আলটিমেটাম দেব। যদি বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা না হয়, তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনে যাবে।

এই ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। বুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। তবে মঙ্গলবার রাতে শিক্ষক সমিতির মিটিংয়ে ক্লাস-পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশনায় বুয়েটের ওই দুই শিক্ষার্থীকে আইনী সহায়তার বিষয়ে সকল তথ্য ও পরামর্শ দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় কমিটির উপ আইনবিষয়ক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই চার দিন আগে বুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’ ও ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে’ আঘাতের অভিযোগে ঢাকার সিএমএম ২৮ নম্বর কোর্টে মামলা করেছে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সিয়াম হোসেন। তিনি আরও বলেন, দুই শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ নিয়ে আমরা বুয়েট প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কাল (আজ) উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করব।

উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্যের জের ধরে ১২ এপ্রিল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাগ্-বিত-া হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ১২ এপ্রিল তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৮ ও ১৯ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঘটনার দিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে।

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৫

২২/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: