আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

খালেদার গাড়ি বহরে হামলা- নানা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৫
  • পাল্টাপাল্টি মামলা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা নিয়ে বিস্তর পর্যালোচনা চলছে। বিএনপির দাবি, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। খালেদা জিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যেই গুলি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন হামলার ঘটনাটি বিএনপি চেয়ারপার্সনের নাটক। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের ওপর বিএনপি চেয়ারপার্সনের নিরাপত্তাকর্মীদের চড়াও হওয়ার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। প্রকৃতপক্ষে হামলার পেছনে কারা জড়িত এবং কি উদ্দেশ্যে হামলার ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে তার বিস্তর অনুসন্ধান চলছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ মানুষের ওপর গুলি চালালে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাটি ঘটে।

এদিকে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তরফ থেকে তেজগাঁও থানায় পাল্টাপাল্টি দুইটি মামলা হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে তেজগাঁও থানায় ২৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় হামলার জন্য বিএনপিকে দায়ী করা হয়েছে। অন্যদিকে মঙ্গলবার দুপুরে হামলার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বিএনপির তরফ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দুইটির তদন্ত চলছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার অপকৌশলের অংশ হিসেবে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে বিএনপি পরিকল্পিতভাবে হামলার ঘটনাটি ঘটাতে পারে। হামলার পেছনে আরও কোন গভীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। নানা বিষয় মাথায় রেখেই হামলাকারীদের শনাক্ত করাসহ হামলার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় দলের মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় ঢাকার কাওরান বাজারে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোটা দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। রাতেই এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকা বাদে সারাদেশে বিক্ষোভ এবং বুধবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

এদিকে সরকারপ্রধান ও মন্ত্রীদের উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণেই হত্যার উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সিটি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে গঠিত আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ। মঙ্গলবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার গাড়িটি বুলেটপ্রুফ হওয়ায় সৌভাগ্যক্রমে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের সদস্য সচিব শওকত মাহমুদ বিএনপি প্রধানের ওপর হামলার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বক্তব্যকে দায়ী করে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নির্বিঘœ করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং ভোটকেন্দ্রে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসানোর দাবি জানান। সেইসঙ্গে সরকার সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষ অবলম্বনকারী কর্মকর্তাদের বদলির দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, আবদুল হাই শিকদার, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার ওপর সরকার সমর্থকদের হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের নিরাপত্তাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ মানুষের ওপর গুলি করলে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে নৈরাজ্যমুক্ত রাখতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান তিনি।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার অবরোধ-হরতালে পেট্রোলবোমায় দগ্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত বিক্ষুব্ধ মানুষ নির্বাচনী প্রচারণায় তাকে বাধা দিচ্ছে, কালো পতাকা দেখাচ্ছে ও প্রতিবাদ করছে।

মানুষ হত্যার আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটাতে ব্যর্থ খালেদা এখন নতুন কৌশল নিয়েছেন। তাই নির্বাচনী প্রচারণার নামে উস্কানি দিয়ে বিক্ষিপ্ত মানুষকে প্রলুব্ধ করছেন বিক্ষোভ দেখাতে। যার মাধ্যমে বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তিনি নির্বাচনকে নষ্ট করতে চান। কাওরান বাজারে গুলিবর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানান তিনি। সেই সঙ্গে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। অন্যদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুও মানববন্ধনে বক্তব্য দেন।

এদিকে, সোমবার গভীর রাতে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করায় রাজধানীর তেজগাঁও থানায় ঢাকার ২৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি জহিরুল হক একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সনের নিরাপত্তাকর্মীসহ শতাধিক জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর থেকে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় তারা সেখানে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছিলেন। তাদের কোন স্থানীয় বা ব্যক্তিগত বা দলীয় কোন কর্মসূচী ছিল না। সাধারণ মানুষের মতোই তারা সেখানে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রচারণা দেখছিলেন। এ সময় একদল মানুষ কালো পতাকা হাতে সেখানে অবস্থান নেন। বিষয়টিকে প্রতিবাদ মনে করেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের নিরাপত্তা সেলের কর্মকর্তারা। তাঁরা কালো পতাকাবাহী লোকজনদের ওপর চড়াও হন। নিরাপত্তা বিভাগের লোকজন তাদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাক বিত-া শুরু হয়। বাকবিত-ার এক পর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কালো পতাকাবাহী লোকজনও এর প্রতিবাদ করেন। তারা তাদের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ। বাকবিত-া থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। এক পর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোটা দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ ৫ জন আহত হন। বিএনপির তরফ থেকে সরকারদলীয় নেতাকর্মী কর্তৃক বিএনপি চেয়ারপার্সনের গাড়ি বহরে হামলার অভিযোগটি একেবারেই ভিত্তিহীন এবং দুঃখজনক।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুর বারোটায় খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করেছে বিএনপি। বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রধান নিরাপত্তা সমন্বয়কারী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকন ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সানাউল্লাহ মিয়া বেলা এগারোটার দিকে নিয়ে তেজগাঁও থানায় যান।

তেজগাঁও থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা এসআই রমজান আলী জানান, অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলায় কাউকে এজাহার নামীয় আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী। হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত বিশেষ সহকারী এ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাবেক প্রতিমন্ত্রী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানও রয়েছেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ দায়েরের পর এ্যাডভোকেট মাহবুবউদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা-কর্মী বিএনপি চেয়ারপার্সনের গাড়ি বহরে হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গাড়িতে গুলি করে। হামলায় আহতদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার, নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্য ফজলুল করীম, ওমর ফারুকসহ সাত জনের অবস্থা গুরুতর। তারা হাসপাতালে আছেন। পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা রাজধানীর নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি প্রমাণিত হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি সমর্থিত ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আদাবর এলাকায় গণসংযোগে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, ঢাকা আর নিরাপদ নেই। আইনশৃঙ্খলার এমন পরিস্থিতিতে তিনি জরুরিভিত্তিতে সেনা মোতায়েনের দাবি জানান। প্রসঙ্গত, আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির তরফ থেকে সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েনের দাবি করা হচ্ছে। তাবিথ আউয়ালের অভিযোগ, যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, তাতে প্রতিনিয়ত গুম-খুনের আশঙ্কা করছি। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি দ্রুত সেনাবাহিনী নামানোর দাবি জানান।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হামলার ঘটনাটিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের ‘নাটক’ বলে মন্তব্য করেছেন। খালেদা জিয়ার নিরাপত্তারক্ষীরা বিনা উস্কানিতে গুলি চালিয়েছে অভিযোগ করে বিএনপি নেত্রীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার নিরাপত্তা কর্মীদের ঠেকান। মানুষের জানমাল নিয়ে আর যেন খেলা না হয়।’

হামলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা ক্ষুব্ধ ‘জনতার’ ওপর চড়াও হওয়ায় ঘটনাটি ঘটে। মঙ্গলবার সকালে সদরঘাটে সুন্দরবন-১১ লঞ্চ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এমন কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা হয়েছে, ঘটনাটি শতভাগ সত্যি নয়। ৯২ দিন অবরোধ-হরতালে ওই এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছিল। সে কারণে খালেদা জিয়া ওই এলাকায় গেলে ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাড়া করে। এ সময় তাঁর নিরাপত্তাকর্মীরা জনতার ওপর চড়াও হলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়ে বিশৃঙ্খলা ঘটে। তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলেও তিনি জানান।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, হামলার ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। হামলার ঘটনায় বিএনপি আওয়ামী লীগকে এবং আওয়ামী বিএনপিকে দোষারোপ করছে। প্রকৃতপক্ষে কারা হামলার পেছনে দায়ী তা খুঁজে বের করার কাজ চলছে। দোষারোপের কারণে প্রকৃত অপরাধীরা যাতে পার পেয়ে না যায় সে দিক লক্ষ্য করে বিশেষভাবে মামলার তদন্ত চলছে। এমন হামলার পেছনে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত এবং কি উদ্দেশ্যে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। হামলকারীদের দ্রুততার সঙ্গে শনাক্ত করে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম কাজল জানান, খালেদা জিয়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে প্রচারণা চালাতে কাওরান বাজারে যান। এ সময় একদল মানুষ কালো পতাকা হাতে সেখানে অবস্থান নেন। কালো পতাকাবাহীদের সরিয়ে দিতে গেলে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিত-ার সূত্রধরে ঘটনাটি ঘটে। কালো পতাকাবাহী লোকজনদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে। কালো পতাকাবাহী ব্যক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী নাকি সাধারণ মানুষ তা জানতে বিস্তর অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

মামলা দুইটির তদন্তকারী কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক মঞ্জুর হোসেন মানিক জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। ওই দিন কারা কালো পতাকা নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিল তা জানতে নানা কৌশল নেয়া হয়েছে। প্রকৃত হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে মামলা দুইটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার রাজধানীর উত্তরায় নিজ দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাতে যাওয়ার সময় প্রথম প্রতিরোধের মুখে পড়েন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। ওই দিন সেখানে কালো পতাকা ও লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে খালেদা জিয়ার প্রচারণার বাধার মুখে ফেলেন শতাধিক মানুষ। বাধার মুখে খালেদা জিয়া পরে সেখান থেকে খিলক্ষেত ও যমুনা ফিউচার পার্কসহ আশপাশের এলাকায় প্রচার চালিয়ে চলে গুলশানের বাসায় ফিরে যান। বাধার বিষয়টি রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে কারা জড়িত এবং কারা দায়ী তাদের খুঁজে বের করার কাজ চলছে। আশপাশের ভবনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা উত্তরায় প্রতিরোধকারীদের অধিকাংশ গত তিন মাসে বিএনপির ডাকা টানা অবরোধ হরতালে ক্ষতিগ্রস্তরা বলে এক প্রকার নিশ্চিত হয়। এমন প্রতিরোধের বিষয়টিকে পুঁজি করে বিএনপি। বিএনপি বা অন্যকোন পক্ষ পরিকল্পিতভাবে হামলা করে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা চালিয়ে ভোটারদের কান ভারি করে নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায়। তারই অংশ হিসেবে বিএনপি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটাতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি থেকে প্রায় তিন মাস বিএনপি সারাদেশে টানা অবরোধ আর খণ্ড খণ্ড হরতাল পালন করে। অবরোধ-হরতালের নামে চোরাগোপ্তা পেট্রোলবোমা হামলায় দেড়শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। আহত হয় অন্তত আড়াইহাজার মানুষ। আহতদের মধ্যে অন্তত হাজারখানেক মানুষকে চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করতে হয়েছে। যানবাহন ভাংচুর করা হয়েছে অন্তত তিন হাজার। যানবাহন মালিকদের হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। ক্ষুব্ধ ক্ষতিগ্রস্তরাও এমন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে বলেও গোয়েন্দাদের ধারণা।

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৫

২২/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: