আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

৪১ ওয়ার্ডে দলের একাধিক কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্দ্বী

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৫
  • মেয়র প্রার্থী নিয়ে আ.লীগ এগিয়ে

মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ দেশের তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আর মাত্র সাত দিন বাকি। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মতো চট্টগ্রামেও মেয়র নির্বাচনের নেপথ্যে লড়াই হবে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে। আর ৪১টি ওয়ার্ডে সাধারণ ও নারী কাউন্সিলরদের লড়াই হবে ত্রিমুখী তথা আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে। আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি মেয়র পদে আ জ ম নাছির উদ্দিনের জন্য আর বিএনপি-জামায়াত ও তাদের অন্য শরিক দলগুলো সদ্যবিদায়ী ও পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা মনজুর আলমের পক্ষে মাঠে নেমেছে। সবকিছু ঠাকমতো এগিয়ে গেলে এবং দলীয় পর্যায়ে ভোট প্রদানে কোন্দল বা বিরোধিতার বিষয়টি বাস্তবিক অর্থে না থাকলে প্রথমবারের মতো মেয়র পদে প্রার্থী আ জ ম নাছিরের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার অবরোধ-হরতাল পালন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট পুরো দেশের জন্য যে ক্ষতি ডেকে এনেছে এবং যেভাবে পেট্রোলবোমায় মানুষ মরেছে, নির্বাচনে এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকে পুনরায় মেয়র প্রার্থী হয়ে এম মনজুর আলম ব্যর্থতার নানা গ্লানি নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছেন। এরপরও মেয়র পদে মোট ১২ প্রার্থীর মধ্যে আ জ ম নাছির ও মনজুর আলমের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কেননা, এ দুই প্রার্থীর একজনকে আওয়ামী লীগ ও আরেকজনকে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে। পাশাপাশি ১৪ দল ও ২০ দলের প্রার্থী হিসেবে উভয়ে সমর্থন পেয়েছেন।

অপরদিকে, ৪১ ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরসহ মোট প্রার্থিতার সংখ্যা ২৭৫। কাউন্সিলর পদে বিভিন্ন ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রার্থীদের আধিক্য রয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় শীর্ষ নেতাদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। এছাড়া কোন কোন ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের ব্যানারে এমন কয়েকজন প্রার্থী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন যারা এক সময় এই নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকাভুক্ত ছিলেন। অনেকের বিরুদ্ধে এখনও হত্যা, খুন, রাহাজানি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের মামলা রয়েছে। তবে জামিনে থাকায় এ জাতীয় প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন। আওয়ামী ঘরানার ছায়া এ জাতীয় প্রার্থী কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে নামায় এ দল ভোটার মহলে ব্যাপক সমালোচনায় রয়েছে, যা মেয়র প্রার্থীর ক্ষেত্রে নেই। নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কারও কারও মতে, ৪১ ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রায় অর্ধেক আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত প্রার্থীই জয়লাভ করবেন। অনুরূপভাবে ১৪ সংরক্ষিত মহিলা আসনে ২০১০ সালের নির্বাচনের মতো ব্যাপক বিজয় আসবে। কিন্তু মেয়র পদে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির কোনপক্ষই নিশ্চিত হতে পারছে না বিজয় নিয়ে। তবে দাবি রয়েছে। চট্টগ্রামে সিটি নির্বাচন জমে উঠলেও এখনও তা তুঙ্গে ওঠেনি। অন্যবারের তুলনায় এবার আচরণবিধি কড়াকড়িভাবে আরোপিত থাকায় তা বাড়তি প্রচারের ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে বলে ভোটের লড়াইয়ে লিপ্ত প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা মনে করছেন। এদিকে, এ নির্বাচন নিয়ে বিশেষ করে মেয়র প্রার্থীর ব্যাপারে সাধারণ ভোটারদের মনোভাব এখনও পরিষ্কার নয়। তারা প্রধান দুই মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন ও মনজুর আলমের ব্যাপারে নানা হিসাব-নিকাশ করে চলেছেন। এরপরও এটা নিশ্চিত যে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক বা এ দুটি দলের অঙ্গসংগঠনসমূহের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষেই তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন নিঃসন্দেহে। দুই প্রার্থীর মধ্যে আ জ ম নাছির উদ্দিন মনজুর আলমের চেয়ে তারুণ্যে উজ্জীবিত থাকায় নবীন ভোটারদের বিরাট একটি অংশ তাঁর পক্ষে রয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। গেল এক টার্ম মেয়র পদে থেকে মনজুর আলমের কার্যক্রমে খোদ বিএনপি সমর্থকরাও নানাভাবে ত্যক্তবিরক্ত। তবুও মনজুর আলম আশার বাণী শোনাচ্ছেন এই বলে যে, পুনরায় নির্বাচিত হলে তিনি এ নগরীর জলাবদ্ধতাসহ তাঁর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে সচেষ্ট হবেন।

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৫

২১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: