কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ভারতে ট্রেন থেকে বাংলাদেশী নারীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল ॥ নার্গিস (৩২) নামে এক বাংলাদেশি নারী পাসপোর্ট যাত্রীর লাশ ট্রেন থেকে অপহরণের ৪১ দিন পর ফেরত পাঠিয়েছে ভারত সরকার। সোমবার সকাল নয়টায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরবর্তীতে ইমিগ্রেশন পুলিশ ওই নারীর লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। হত্যার শিকার নার্গিস খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার ৩/১, কেডিএ এ্যাপ্রোচ রোডের বাসিন্দা সাহাবুদ্দীনের মেয়ে।

লাশ গ্রহণ করার জন্য রবিবার সকাল থেকে বেনাপোল চেকপোস্টে অপেক্ষায় ছিল নিহতের স্বজনরা। রবিবার সন্ধ্যায় লাশ দেয়ার কথা থাকলেও অবশেষে একদিন পর লাশ ফেরত দেয়া হয়। লাশ ফেরত পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজনরা। লাশ পাওয়ার পর মা মনিবালা শোকে পাথর হয়ে গেছেন। সোমবার মেয়ের লাশ জড়িয়ে ধরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘পাসপোর্ট করে ভারতে গিয়েও দুর্বৃত্তদের হাতে তোর ইজ্জত হারিয়ে জীবন দিতে হলো। এখন আমি কি নিয়ে বাঁচব? কে আমাকে খাওয়াবে-পরাবে? কার চোখে দেখে আমি পথ চলব?

লাশ নিতে আসা নার্গিসের ফুপু রাহেলা বেগম বলেন, নার্গিস বিভিন্নজনের বাসাবাড়িতে কাজ করে যা রোজগার করত, তাই দিয়ে একমাত্র মেয়ে কাকলী (১০) ও অন্ধ মা মনিবালাকে নিয়ে সংসার চলত। হঠাৎ মনিবালা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মেয়ে নার্গিস তাঁকে ভারতে চিকিৎসা করানোর জন্য আত্মীয়স্বজনদের কাছে চেয়ে-চিন্তে তিনটি পাসপোর্ট করে। একই সঙ্গে মানত করে আজমীর যাওয়ারও।

পরবর্তীতে গত ৯ মার্চ তারা তিনজন বাড়ি থেকে বের হয় ভারতে যাওয়ার উদ্দেশে। বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টযোগে ভারতে যায়। কলকাতা থেকে দিল্লী যাওয়ার জন্য ট্রেনে ওঠে। এ সময় ট্রেনের মধ্যে নার্গিস কয়েক যুবককে বলে, আমরা কিছুই চিনি না, দিল্লী চলে এলে আপনারা একটু জানাবেন। এক পর্যায়ে ওইদিন রাত সাড়ে তিনটার দিকে ওই যুবকরা তার মেয়েকে বলে দিল্লী চলে এসেছে, আপনারা নামেন। তাদের কথামতো আগে মা ও তার নাতনি ট্রেন থেকে নেমে পড়ে। আর নার্গিস যায় ট্রেন থেকে ব্যাগ নামাতে। ওই সময় ওই যুবকরা নার্গিসের মুখে রুমাল দিয়ে মুখ চেপে জোর করে ট্রেন থেকে নামিয়ে একটি গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। বিষয়টি দেখে নার্গিসের মেয়ে কাকলী। এরপর দু’দিন ওই স্টেশনে নানি ও নাতনি অপেক্ষায় ছিল মেয়েকে ফিরে পাওয়ার। কিন্তু সে আর ফেরেনি। দু’দিন পর এক লোক এসে তাদের জানায়, তোমার মেয়ে বাড়িতে ফিরে গেছে। এ বলে তাদের সীমান্তপথে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেয়। পাসপোর্ট ও ব্যাগ থেকে যায় মেয়ের কাছে। কিন্তু বাড়িতে ফিরে এসে দেখে মেয়ে আসেনি।

১১ দিন পর গত ১৯ মার্চ খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার পুলিশ তাদের জানায়, তোমার মেয়ের লাশ ভারতের এক স্টেশন থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই সময় পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে তারা কাগজপত্র যোগাড় করে দু’দেশে যোগাযোগ করে। এরই মধ্যে ১৯ এপ্রিল সকালে ফের সোনাডাঙ্গা থানার পুলিশ তাদের খবর দেয় লাশ বেনাপোল সীমান্তের ওপারে চলে এসেছে, তোমরা গিয়ে নিয়ে এসো। এ কথার ভিত্তিতে তারা লাশ নিতে বেনাপোলে আসে। এ সময় পরিবারের স্বজনরা সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে এ নির্মম হত্যাকা-ের বিচার দাবি করে ভারত সরকারের কাছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ সদস্যরা নার্গিস নামে এক নারীর লাশ সকাল নয়টায় তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। পরবর্তীতে কাগজপত্র পরীক্ষা শেষে লাশটি স্বজনদের কাছে দেয়া হয়েছে।

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৫

২১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: