আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় খালেদার গাড়ি বহরে হামলা

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৫
নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় খালেদার গাড়ি বহরে হামলা
  • তিন মাসে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া কিনা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালানোর সময় কাওরান বাজারে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তুলে বুধবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ব্যতীত সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি। আজ তিন সিটি কর্পোরেশন বাদে সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে দলটি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ রাতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচী ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামলা চালানোর বিষয়টি বিএনপির এক ধরনের কৌশল হতে পারে। বিএনপির লোকজন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার কৌশল নিয়েছেন। তার অংশ হিসেবে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে বার বার হামলার ঘটনা ঘটছে।

সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে খালেদা জিয়া কাওয়ান বাজারে নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাতে যান। সঙ্গে যান দলীয় লোকজন। বিশাল এক গাড়িবহরে তিনি কাওরান বাজারে গিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে লিফলেট বিতরণ করেন। দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোট ও দোয়া চান। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কাওরান বাজার কাঁচাবাজার এলাকায় এভাবেই প্রচার চালাচ্ছিলেন। পথসভায় খালেদা জিয়া হ্যান্ডমাইক দিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। বক্তব্যে খালেদা জিয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে বলেন, চোরদের ভোট দেবেন না। সারাদেশে তারা শুধু চুরি আর চুরি করছে। আপনারা তাবিথ আউয়ালকে ভোট দেবেন। বক্তব্য শেষ হতে না হতেই আচমকা তাঁর গাড়িবহর লক্ষ্য করে বিভিন্ন ভবন থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। মানুষজন দ্রুত নিরাপদ জায়গার দিকে দৌড়ে চলে যান। পথসভায় উপস্থিত থাকা লোকজন হতভম্ব হয়ে যান। যে যার মতো দ্রুত সরে পড়েন। একই সময়ে শতাধিক লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালাতে উদ্যত হয়।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ হামলাকারীদের ধাওয়া করে সরিয়ে দেয়। আর খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরা বিএনপি চেয়ারপার্সনকে দ্রুত গাড়িতে তুলে ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। ইটপাটকেলের আঘাতে গাড়িবহরে থাকা বিএনপির নেতাকর্মী, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাকর্মী, সাধারণ মানুষ, পথচারী, দোকানি, পথসভায় আগত লোকজন, পুলিশ, সংবাদপত্রকর্মীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ইটের আঘাতে খালেদা জিয়ার গাড়ির কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া গাড়িবহরে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ির কাচ ভেঙ্গে যায়। অনেক গাড়ির কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর রাজধানীর মগবাজার হয়ে যাত্রাবাড়ীর দিকে চলে যায়।

গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের পক্ষ থেকে জরুরী সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, নির্বাচনে হার নিশ্চিত জেনেই সরকার এমন হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে। হামলার সঙ্গে সরকারদলীয় লোকজন জড়িত বলেও তিনি অভিযোগ করেন। পরে তিনি হরতাল ও বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষণা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলায় গাড়িবহরে থাকা ফারুক, ফজলুল করিম ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত অপর একটি গাড়ির চালক শাহেদ, পুলিশ, পথচারী, দোকানি, পথসভায় অংশ নেয়া মানুষজন ছাড়াও নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ আহত হন। কয়েকজনকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম কাজল জানান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের গণসংযোগের সময় একদল যুবক কালো পতাকা নিয়ে সেখানে মিছিল করে। এ সময় চেয়ারপার্সনের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তাদের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গাড়িবহরটি মগবাজারের দিকে চলে যায়।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে তৃতীয় দিনের মতো প্রচারে নামেন। এর আগে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গাড়িবহর গুলশানের বাসা থেকে বেরিয়ে গুলশান-২, বনানী, মহাখালী ফ্লাইওভার হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের সড়ক দিয়ে বিজয় সরণির মোড়ে উপস্থিত হয়।

গাড়িবহরে বিএনপি চেয়ারপার্সনের সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান ও চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী এ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রবিবার উত্তরায় প্রচার চালানোর সময় শতাধিক মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া করে। পরে বিএনপি চেয়ারপার্সন খিলক্ষেত ও যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে প্রচার চালিয়ে বাসায় ফিরে যান। এর আগে শনিবার বিকেলে খালেদা জিয়া গুলশান, মহাখালী ও হাতিরঝিল এলাকায় গণসংযোগ করেন।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি থেকে প্রায় তিন মাস বিএনপি সারাদেশে টানা অবরোধ আর খ- খ- হরতাল পালন করে। হরতালে চোরাগোপ্তা পেট্রোলবোমা হামলায় দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত আড়াই হাজার মানুষ। আহতদের মধ্যে অন্তত হাজারখানেক মানুষকে চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করতে হয়েছে। অন্তত তিন হাজার যানবাহন ভাংচুর করা হয়েছে। এতে যানবাহন মালিকদের ক্ষতি হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচীর কারণে এমন ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। অথচ ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাপারে বিএনপি নির্বিকার। এসব কারণে ক্ষতিগ্রস্তরা বিএনপির ওপর চরম ক্ষিপ্ত। সেই ক্ষিপ্ততা থেকেই বিএনপি চেয়ারপার্সনের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া যে দুটি এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেসব এলাকার বেশ কয়েকটি সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে হামলাকারীরা সাধারণ জনতা বলে পর্যালোচনায় ধরা পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্তরাই ক্ষিপ্ত হয়ে এ কাজ করেছে। ওই কাজের জন্য বিএনপির তরফ থেকে ন্যূনতম কোন শোক পর্যন্ত জানানো হয়নি।

এছাড়া নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার এটি একটি কৌশল হতে পারে। বিএনপির লোকজন পরিকল্পিতভাবে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে। ভোটারদের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণার জন্ম দিয়ে নির্বাচনে ফায়দা লোটার কৌশল হতে পারে।

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৫

২১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: