আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জ্বালানি তেল পরিবহনে চট্টগ্রাম-না’গঞ্জ পাইপলাইন হচ্ছে

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৫
  • বছরে দেড় হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়, দুর্ঘটনা ও ঝুঁকি হ্রাস পাবে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জ্বালানি তেল পরিবহনে পাইপলাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরিবহন ব্যয় হ্রাস এবং চুরি প্রতিরোধের জন্য চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত ২৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে পাইপলাইন নির্মাণে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বছরে অন্তত এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার পরিবহন ব্যয় সাশ্রয় হবে। হরতাল অবরোধেও জ্বালানি তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হবে না। দুর্ঘটনা এবং ঝুঁকি হ্রাস পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) পাইপলাইনের সম্ভাব্যতা জরিপ শুরু করতে যাচ্ছে দ্রুতই। সম্ভাব্যতা জরিপ করার পর রুট নির্ধারণ করা হবে। বিপিসি বলছে দ্রুতই পাইপলাইন নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কম থাকায় এখন বিপিসি জ্বালানি তেল বিক্রিতে লাভ করছে। এখন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উপযুক্ত সময় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতদিন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেশি থাকায় বিপিসি লোকসান দিয়ে আসছিল।

জানতে চাইলে বিপিসি চেয়ারম্যান এ এম বদরুদ্দোজা জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা দ্রুতই সম্ভাব্যতা জরিপ শেষ করতে চাই। এজন্য অভিজ্ঞ কোন কোম্পানিকে কাজ দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। সম্ভাব্যতা জরিপের আগেই আমরা মোটামুটি একটি ব্যয় নির্ধারণ করেছি এবং একটি সাশ্রয়ের হিসাবও করেছি। এ ধরনের প্রকল্প বিপিসির মুনাফার ধারায় রাখবে বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে জ্বালানি তেল পরিবহনে অপচয় এবং চুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

জ্বালানি তেল পরিবহনে দেশের অভ্যন্তরে এটাই প্রথম পাইপলাইন। এর আগে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের আসামের গোলাঘাট এলাকায় ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) ডিপো থেকে দিনাজপুর হয়ে পার্বতীপুর জ্বালানি তেল ডিপো পর্যন্ত তেল আমদানি করা হবে। যৌথ বিনিয়োগে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বছরে ১০ লাখ টন ডিজেল ধারণক্ষমতার ১৩৫ কিলোমিটার স্থাপন করা হবে। এতে ব্যয় হবে পাঁচ শ’ কোটি ভারতীয় রুপী। দেশের উত্তারাঞ্চলে কৃষি সেচ মৌসুমে জ্বালানি তেলের সঙ্কট নিরসনের জন্য ওই প্রকল্পটি নেয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি বিদ্যুত জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে অফিস করেন। ওই সময় বিপিসি তাদের উপস্থাপনায় দুটি পাইপলাইন নির্মাণের কথা জানায়। অন্য পাইপলাইনটি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ তেল ডিপো থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত। তখন প্রধানমন্ত্রী এই দুটি প্রকল্পর জন্য রুট নির্ধারণের নির্দেশ দেন। পরে জ্বালানি বিভাগ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয় বিপিসিকে।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০১৭ সালে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চনব্রিজ থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে আরেকটি পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। এই পাইপলাইনে শুধু বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানি জেট ফুয়েল পরিবহন করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৪০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে।

বিপিসির কর্মকর্তা জানান, জাহাজ, ওয়াগনে এবং লরি এই তিন মাধ্যমে সারাদেশে তেল পরিবহন হয়ে থাকে। এতে চট্টগ্রাম থেকে পরিবহনের বিভিন্ন পর্যায়ে পথে পথে তেল চুরি হয়ে থাকে। এর সঙ্গে বিপুল পরিমাণ তেল লোড আনলোডের সময় অপচয় হয়। এছাড়া হরতাল অবরোধে ওয়াগন এবং লরি ঠিক মতো চলা চল করতে পারে না। এবার বিএনপির অবরোধ চলার সময় জাহাজে করে তেল পরিবহন করতেও একটি পক্ষ বাধা সৃষ্টি করেছে। পাইপলাইন হলে এসব সমস্যা আর থাকবে না।

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৫

২১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: