কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নিজেকে সুন্দর রাখতে

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৫
  • বীথি চৌধুরী

প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই তার নিজস্ব স্বাভাবিক সৌন্দর্য আছে। এই সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা। সেই যতেœর মধ্যে চুল, স্কিন, সর্বোপরি সমস্ত শরীরের যতœকে বুঝায়। শুধু তাই নয়, শরীরের সঙ্গে মনের প্রফুল্লতাও আমাদের সৌন্দর্যের একটি বড় চাবিকাঠি। কারণ, মুখ হল মনের আয়না। তাই সব ভাল না থাকলে সৌন্দর্যহানি তো হবেই। মেকআপসর্বস্ব সৌন্দর্য আমাদের কাম্য হওয়া উচিত নয়। মেকআপ আমাদের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলে যা আমাদের সৌন্দর্যের মধ্যে একটি বাড়তি মাত্রা যোগ করে মাত্র। তাই নিজেকে সুন্দর দেখাতে সৌন্দর্যকে ধরে রাখতে চাই যতœ।

মুখের ক্ষেত্রে দৈনন্দিন যতœ হিসাবে তিনটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। (১) ক্লিনিং (২) টোনিং (৩) ময়শ্চারাইজিং। দৈনন্দিন রূপচর্চায় মুখ পরিষ্কার রাখাটা একটি প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ যতœ। শুধু বাইরে নয়, ঘরে থাকলেও মুখ ২-৩ বার পরিষ্কার করতে হবে। এই ক্ষেত্রে যাদের নরমাল ও ড্রাই স্কিন তারা উপটানের সঙ্গে দুধ, সামান্য দুধের সর, কয়েক ফোঁটা লেবু একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগাবেন, ৭-১০ মিনিট পর ভালভাবে ম্যাসেজ করে ধুয়ে ফেলবেন। উপটানের মধ্যে যে হলুদ থাকে তা অ্যান্ডিসেপটিকের মতো কাজ করে। উপটান স্কিন পরিষ্কার করে ও উজ্জ্বলতা বাড়ায়। দুধ ও লেবুর মিশ্রণ ন্যাচারাল ব্লিচের মতো কাজ করে। দুধের সর শুষ্কতা কাটায়, ময়লা তুলতে সাহায্য করে। সুতরাং এই মিশ্রণের সাহায্যে নিয়মিত স্কিন পরিষ্কার করলে স্কিন হবে উজ্জ্বল, মসৃণ, কমলীয়।

এর পর টোনিং ময়শ্চারাইজিংয়ের পালা। গোলাপের পাপড়ি বাটার সঙ্গে মধু মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলবেন। এর ফলে এই গরমে নরমাল স্কিনের জন্য টোনিং ও ময়শ্চারাইজিংয়ের কাজ একসঙ্গে হয়ে যাবে। যাদের বেশি ড্রাই স্কিন তারা মুখ ধুয়ে ময়শ্চারাইজার লাগাতে পারেন।

তৈলাক্ত স্কিনের মুখ পরিষ্কারের জন্য বেসনের সঙ্গে অল্প কাঁচাহলুদ, আলুর রস গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করবেন। এই মিশ্রণটি তৈলাক্ত স্কিনের তৈলাক্তভাব দূর করার পাশাপাশি স্কিন উজ্জ্বল, দাগমুক্ত করে। কাঁচাহলুদের এ্যান্টিসেপটিক গুণ রোগ জীবাণু থেকে স্কিনকে রক্ষা করে। টোনার হিসাবে ড়রষু ংশরহ-এ শশার রসের সঙ্গে এক চিমটি কর্পূর মিশিয়ে ঐ মিশ্রণটি ব্যবহার করতে হবে। ১০ মি: পর ধুতে হবে। গরমে তৈলাক্ত স্কিনে ক্লিনিং ও টোনিং-এর পর ময়শ্চারাইজার প্রয়োজন হয় না।

চুলের দৈনন্দিন যতেœ চুল পরিষ্কার রাখাটাও প্রথম ও প্রধান যত্ম। যাদের চুলের ঘাম বা তেল বেশি হয় অথবা নিয়মিত বাইরে যান তারা প্রতিদিনই চুলে শ্যাম্পু করবেন। অন্যরা সপ্তাহে ৩-৪ দিন শ্যাম্পু করবেন। তবে প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে চুল রাফ হবে না যদি শ্যাম্পুর সঙ্গে ঈড়হফরঃরড়হবৎ ব্যবহার করা হয়। মেথির সঙ্গে কাঁচা আমলকি থেতলে তা তেল ফেলে রোদে দিতে হবে। এই তেল মাথায় দিয়ে ভাপ নিয়ে পরদিন শ্যাম্পু করতে হবে। এভাবে সপ্তাহে ২দিন চুলে তেল দিবেন। এতে চুল হবে মজবুত ও মসৃণ।

চুলে পুষ্টি দেয়ার জন্য-

২ চা চামচ-আমলা পাউডার

২ চা চামচ-শিকাকাই

২ চা চামচ- মেথি পাউডার

১টি- ডিম

৩ টে. চামচ-টক দই

প্রয়োজনমতো গরম পানি নিয়ে এগুলো একসঙ্গে পেস্ট করে চুলে লাগাবেন। ৩০ মি: পর শ্যাম্পু করবেন। এই মিশ্রণটি সপ্তাহে ১ দিন ব্যবহার করবেন, যা পুষ্টির পাশাপাশি চুলের বাড়তি সৌন্দর্য আনবে। এই সব রূপচর্চা ছাড়াও হাসি খুশি, চিন্তামুক্ত থাকুন যা আপনার বাইরের সঙ্গে সঙ্গে ভেতরের সৌন্দর্যকেও ফুটিয়ে তুলবে। এই দুই সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে আপনি সবার মাঝে হয়ে উঠবেন অনন্য।

ছবি : তুহিন ইসলাম

মডেল : জেরিন

ফ্যাশন হাউস : অতঃপর

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৫

২০/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: