কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বন্ধু ছাড়া জীবন? অসম্ভব!

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৫
  • পান্থ আফজাল

জীবন সুন্দর, সবুজ বনানী ঘেরা প্রকৃতি সুন্দর। আর এই সুন্দর জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কোন কোন সময় প্রিয় বন্ধুদের সংস্পর্শে ধন্য হতে কার না ইচ্ছে হয়! বাবা-মায়ের পর জীবনের দীর্ঘ মধুর সময় ব্যয় হয় স্কুল থেকে কলেজ, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিমন্ডলে ঘেরা বন্ধুদের সঙ্গে। কেউ এই মধুর জীবনের প্রথম হতে পথ চলে একসঙ্গে আবার কারও কারও সঙ্গে হৃদ্যতা গড়ে উঠে ছাত্রজীবনের যে কোন সময়ে। তবে প্রতিদিনের জীবনে আমরা প্রায়ই নতুন কারও সঙ্গে পরিচিত হই, সময়ের চাহিদায়। মাঝে মাঝে এসব বন্ধুদের জীবনের সব কিছু থেকে কেন যেন বড় বেশি আপন মনে হয়! জীবনের ভাললাগা, দুঃখ, মজার ঘটনা শেয়ার, অপ্রকাশিত মনের কথাগুলো বাক্সবন্দী থেকে অকপটে উগড়ে দেয়া যায় একমাত্র ভাল বন্ধুদের কাছেই। বন্ধু ছাড়া লাইফ ভাবাই যায় না! বন্ধুর কোন বয়স নেই, নেই ছেলেমেয়ে আলাদা করে দেখার অবকাশ। তবে ভাল বন্ধুর অভাব চিরায়ত, যা কিনা বর্তমানে অনেক বেশি দুর্লভ। জীবনের ছন্দপতন এড়াতে ভাল বন্ধুর প্রয়োজন সবসময়। একে অন্যের প্রতি পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, শ্রদ্ধাবোধ আর নিঃস্বার্থ মধুর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে বন্ধুত্বের আদর্শ বন্ধন। তবে সম্পর্ক গড়া অপেক্ষা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে অনেক বেশি একে অন্যের প্রতি যতœবান হওয়াটাও জরুরী। প্রথম দর্শনেই অনেকে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে, যা বন্ধু হওয়ার চেয়ে আর বেশি অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তবে সতর্কতার সহিত প্রথম থেকেই জীবনের এই মধুর সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তাই বন্ধুত্বের সম্পর্ক গাঢ় করতে হলে বন্ধুদের উচিত, বন্ধুত্বের উপযুক্ত সম্মান দেয়া এবং নিম্নের কিছু বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা।

প্রথম দর্শনে সতর্কতা : স্বভাবতই পৃথিবীর কেউই বেশি কথা বলা বা অতি উৎসাহী মানুষদের পছন্দ করেন না। আপনি যেমন আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যাপারে সচেতন তেমনি অন্যরাও সচেতন। তাই প্রথম দর্শনেই আগ বাড়িয়ে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতে না যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। অতিরিক্ত আন্তরিক হতে চাওয়া বিশেষতই অন্যের নিকট সন্দেহভাজন করে তুলতে পারে, যা কখনই করা উচিত না। তাই বন্ধু নির্বাচনে প্রথম পর্যায়ে বুঝে-শুনে আন্তরিক হতে হবে যা সঠিক বন্ধু গঠনে সহায়ক।

সর্বদা বন্ধুকে অনুপ্রেরণা দিন : আপনি যদি বন্ধুর প্রশংসা করতে শিখেন তাহলে শুধু যে মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারবেন তাই নয় বরঞ্চ আপনার বন্ধুর বিশ্বাসও অর্জন করতে পারবেন সহজেই। সর্বদা বন্ধুর নেতিবাচক দিক না খুঁজে ভাল দিক বেশি বেশি খুঁজুন। যে কোন কাজে বন্ধুকে অনুপ্রেরণা দিন। সকল সময় বন্ধুর পাশে থেকে ভাল কাজে উৎসাহ দিন ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিন। তবে অবশ্যই চাতুকারীতার আশ্রয় না নিয়ে প্রকৃত মতামত দিন। সবসময় বন্ধুকে বাস্তবিক অর্থেই প্রশংসা করুন। কারণ সবাই নিজেকে অন্যদের থেকে লুকিয়ে রাখে কারণ সে ভাবে অন্যরা তার খারাপ দিকটার ব্যাপারে হয়ত জেনে যাবে। বন্ধুর দোষগুলোর ব্যাপারে কথা বলা আর ভাল ব্যাপারগুলো নিয়ে প্রশংসা করা কি একজন প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় নয় কি? তবে এই কাজটি সবাই পারে না যা বন্ধুত্বের বন্ধনে অত্যাবশ্যকীয়।

প্রিয়তমেষু সম্মোধনের চিরচেনা বন্ধু! : বন্ধু হলো প্রিয়জন, প্রিয় সঙ্গী। আপনি যদি আপনার বন্ধুর নাম ধরে ডেকে বার বার সম্বোধন করেন তাহলে তার দৃষ্টি যেমন আপনি আকর্ষণ করতে পারবেন, তেমনি আপনি যে তাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সেটাও সে বুঝতে পারবে। প্রতিদিন আমাদের সঙ্গে অনেকেরই তো দেখা হয়, কিন্তু বেশিরভাগ এর নামই কি আমরা মনে রাখি? শুধু তাদেরই রাখি যারা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও আপনজন। সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুকে যে কোন মুহূর্তে মনে রাখা এবং তার নাম ধরে ডাকা বন্ধুর প্রতি বন্ধুর গুরুত্বটা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। তাই এই অভ্যাসের আরেকটা সুবিধা হলো বন্ধুর নামটাও আপনার স্মৃতিতে গেঁথে যাবে।

পরিচয় হোক স্বতঃস্ফূর্তভাবে : বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুর মেলামেশা, আবদার, অভিমান, খুনসুটি বা প্রথম থেকেই পরিচয় হোক স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বাভাবিক। আবার বন্ধু যদি অন্য কারও সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় তাহলে নতুন মানুষটি হাত বাড়ানোর আগেই নিজের হাত বাড়িয়ে হাস্যোজ্জ্বল মুখে পরিচয় দেয়াটা শোভনীয়। এতে করে প্রিয় বন্ধুর কাছে আপনি সবার থেকে আলাদা হয়ে উঠবেন। পাশাপাশি সবার থেকে আপনার আত্মবিশ্বাস যে বেশি তাও প্রমাণিত হবে। আর বন্ধু স্বভাবতই আপনাকে বিশ্বাস করবে কারণ আপনার নিজের প্রতি তীব্র আত্মবিশ্বাস আছে।

নয় তর্ক, নয় ফাপরবাজি : মাঝে মাঝে জম্পেশ আড্ডায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বন্ধুদের মধ্যে এক পশলা বাকবিতন্ডা হয়ে যায়। জয়ী হওয়ার জন্য প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে তর্ক-যুক্তি হয়, যা যে কেউ একজন ভালভাবে মেনে নিতে নাও পারে! তবে এমন বিষয় নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি প্রিয় বন্ধুর বহু বছরের বিশ্বাস বা যুক্তিকে পরিবর্তন করতে পারবে না আশা করা যায়। তর্কে যদিও জিতে যান তার পরও আপনি প্রিয় বন্ধুর কাছে খারাপ লাগার পাত্রে পরিণত হতেও পারেন। তবে এমন কোন বিষয়ে কথা বলতে যাবেন না যেই ব্যাপারে বাকবিত-া তৈরি হতে পারে। এজন্য যেই বিষয়ের সঙ্গে আপনার মিলবে না, সেই বিষয় নিয়ে বেশি কথা না বলাই ভাল। আর যদি বন্ধুর সঙ্গে বাকবিত া কোন সময় হয়েও যায়, তবে মৌন থাকুন অথবা ওই ব্যাপারে আপনার কোন আকর্ষণ নেই বলে কাটিয়ে যান। আবার যদি দেখেন আড্ডায় দু-একজন বন্ধুর তর্কের কারণে প্রিয় বন্ধু বিরক্ত হচ্ছে তাহলে অন্য কোন বিষয়ে কথা শুরু করার চেষ্টা করুন বা অন্য আরেকজনের সঙ্গে অন্য একটি বিষয়ে কথা বলা শুরু করুন, যেটাতে সবারই আকর্ষণ আছে।

বন্ধুত্বের শুরু এখানেই! : একথা সত্য যে, মানুষ সব সময়ই প্রিয়জনের সঙ্গ খুঁজে। এই ব্যস্ত জীবনে ভাল বন্ধু খুঁজে পাওয়াটা দিনে দিনে অনেক কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাই নতুন কোন সুযোগ পেলেই নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হবার আর নতুন কাউকে জানার সুযোগটা হাত ছাড়া করাটা মনে হয় না খুব একটা ভাল কাজ হবে। কে জানে কোন এক নতুন আড্ডায় আপনি পেয়েও যেতে পারেন এমন একজনকে, যার সঙ্গে বন্ধুত্বটা সারাজীবন থেকে যাবে। কারণ দীর্ঘ এই পথচলায় পাড়ি দিতে হবে অজানা পথ। শূন্য থেকে যাত্রা শুরু হলেও মাঝের এই ব্যস্ত জীবন আসলে ভাল বন্ধু ছাড়া চলা যায় না। তাই তো বন্ধু ছাড়া লাইফ? ইম্পসিবল!

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৫

২০/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: