মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ষোলোআনা বাঙালিয়ানা

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৫
  • তৌফিক অপু

আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসে বাংলা নতুন বছর মানেই আনন্দঘন পার্বণ, যাতে অংশগ্রহণ থাকে সর্বস্তরের। আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি আর জীবনধারাতে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগলেও পরিবর্তিত হয়নি বাংলা বছরের প্রথম দিনের সেই আনন্দমুখর কোলাহলের। নাগরিক কিংবা আটপৌরে সব কিছুতেই উৎসবের সেই পুরনো রূপ খানিকটা নতুন আদলে। আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যে নববর্ষ মানেই হালখাতার শুরু। পুরনো বছরের হিসাব গুটিয়ে আবার নতুন করে নতুন ধারায় যাত্রা। আসলে জীবনটাও তো তাই। প্রতিনিয়ত পুরনোকে ঠিক করে নতুন আবহে নিজেকে গড়ে তোলা এই তো সার্থক জীবনের পরিতৃপ্তি। শুধু এক দিনের বাঙালী ভাব বজায় রাখলে হবে না। প্রতিনিয়ত ধারণ করতে হবে মনে। আচার আচরন, পোশাক-আশাকে যেন বাঙালীয়ানা ফুটে ওঠে সে দিকটা লক্ষ্য রাখতে হবে।

প্রাথমিক সনাতন রীতি

বয়োজ্যেষ্ঠদের ‘আপনি’ বলে সম্বোধন করুন।

পরীক্ষার আগে মা-বাবা, দাদা-দাদির আশীর্বাদ নিয়ে বের হন।

জন্মদিন ও অন্যান্য বিশেষ অনুষ্ঠানে গুরুজনদের দোয়া নেয়া রীতি।

কারও বাড়িতে গেলে জুতো খুলে ঘরে ঢুকুন। নিছক রীতি ছাড়াও বাইরের ধুলো-ময়লা ঘরের ভেতরে নিয়ে যাওয়া অস্বাস্থ্যকরও বটে।

বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় গুরুজনকে ‘আসছি’ বলে বের হবেন।

দাদা-দাদির সঙ্গে বাচ্চাকে সময় কাটাতে দিন। তাঁরা অন্য জায়গায় থাকলে সেখানে বাচ্চাকে নিয়ে যান। বয়স্ক মানুষদের কথাবার্তার পুনরাবৃত্তিতে ছোটদের বিরক্ত হওয়া, অধৈর্য হয়ে পড়া কিংবা তাঁদের এড়িয়ে চলা উচিত নয়। এই সব সম্পর্কের বন্ধন একজন মানুষের স্বভাবের ভিত তৈরি করে।

বাংলা ভাষা

ভাষার গুরুচ-ালি না করা।

বাংলায় কথা বলার সময় পুরোটা বাংলায় বলার অভ্যাস করতে হবে।

বাংলা বই, খবরের কাগজ, পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করুন।

দিনে অন্তত কিছুক্ষণ বাংলা গান শোনার অভ্যাস করুন।

পুরনো বাংলা ছবি কিংবা নতুন ভাল বাংলা ছবি দেখুন।

কিছু এসএমএস করুন বাংলায়।

অন্দরসজ্জা

সারা বাড়ির সাজসজ্জা নিশ্চয়ই আপনার পছন্দমতো হবে। তবে একটা ঘর কিংবা যে কোন জায়গায় মানানসইভাবে বাঙালী ছোঁয়া রাখুন।

ডিভানে পাতুন কাঁথাকাজের চাদর কিংবা কুশন কভারে আনুন শান্তিনিকেতনী বাটিকের ছোঁয়া।

ঘরের কোণায় রাখতে পারেন দড়ির মোড়া, পুরনো বড় আরামকেদারা।

দেয়ালে রাখুন যামিনী রায়, হেমেন মজুমদার কিংবা জয়নুল আবেদিনের আঁকা ছবি কিংবা পটচিত্র।

পোশাক-পরিচ্ছদ

সামাজিক অনুষ্ঠানে শাড়ি, লম্বা চুল হলে খোঁপা এবং তাতে সোনার চিরুনি কিংবা ফুলের মালা ও মানানসই গয়না পরুন।

সাধারণবাবে শাড়ি পরলেও খুব ভাল দেখায়।

ছেলেরা ধুতি, পাজামা, পাঞ্জাবি পরুন। উত্তরীয় নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ডিজাইনারের ছোঁয়া মন্দ নয়। ধুতি পরার অসুবিধে থাকলে আজকাল রেডিমেড ধুতি পাওয়া যায়, তাই পরুন। অন্তত এসব বিশেষ দিনে বজায় রাখুন নিজেদের সংস্কৃতি

খাওয়া-দাওয়া

বাঙালী খাওয়ার রেওয়াজ বজায় রাখুন।

বিকেলের পানি খাবারে রোল, নুডলস, পেস্ট্রির সঙ্গে চিড়ার পোলাও, ছাতুর পুরি কিংবা মিষ্টি আলুর পায়েস রাখুন। ছোটবেলা থেকে অভ্যাস করালে তবেই খাবার চিনবে, ভালবাসবে। বানাতে সামান্য পরিশ্রম এই যা!

রবিবার লুচি আর কালোজিরা, কাঁচালঙ্কা ফোড়নে সাদা আলুর তরকারি রাখুন। মুখ বদলের জন্য রাখতে পারেন সিঙ্গাড়া, জিলিপি।

থোড়, মোচা, ছুটির দিনের মেনুতে রেখে দেখুন, সবাই খাবে। আজকাল বাজারে মোচা, কচুশাক কেটে বিক্রি করে।

কারও বাড়িতে যাওয়ার সময়

আগে থেকে জানিয়ে দেবেন।

মিষ্টি বা অন্য কিছু নিয়ে যান

বাড়িতে বয়স্ক মানুষ থাকলে তাঁর সঙ্গে আগে দেখা করুন। কিছু সময় তাঁকে দিন।

বাড়িতে অতিথি এলে

অতিথি এলে মিষ্টি ও পানি দিন। আগে থেকে আপ্যায়নের ব্যবস্থা রাখুন। জেনে নিন তাঁদের পছন্দের কথা। আবার আসার জন্য অনুরোধ করুন। গেট অবধি এগিয়ে দিন।

ছবি : তুহিন ইসলাম ও দীপ ফারহান

ফ্যাশন হাউস : ফানুস, বিসর্গ ও লণ্ঠন

মডেল : সত্যজিত, দীপান্বিতা, সানি, শাওন, কামরুল, রাসেল, দীপ

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৫

২০/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: