মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আগামী অর্থবছর থেকে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমছে

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৫
  • এই খাতে সুদহার না কমালে ব্যাংকগুলো আমানত হারাবে
  • ব্যাংক ঋণের সুদহার কমাতে সঞ্চয়পত্রের সুদহারও কমাতে হবে

রহিম শেখ ॥ সুদের হার বাড়িয়ে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বাড়ানো হলেও এবার তা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থবছরের আট মাসেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই গুণ বেশি বিক্রিতে ১ জুলাই থেকে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হচ্ছে। ব্যাংক আমানতের সঙ্গে সমন্বয় করে দশ ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার নির্ধারণ করা হবে। আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী এমন প্রস্তাব করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ এসেছে ১৮ হাজার ২৮৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা, যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই গুণ বেশি। এ বছর নিট বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে এত বেশি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা থাকেনি। এই সময়ে সুদ হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ৬ হাজার ১০৮ কোটি ২ লাখ টাকা। এ প্রসঙ্গে বেসরকারী গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর জনকণ্ঠকে বলেন, সুদের হার বেশি হওয়ায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিক্রি বাড়ায় চলতি বাজেটে এ খাত থেকে সরকার ঋণ নেয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল আট মাসেই (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) তার দ্বিগুণেরও বেশি ঋণ নেয়া হয়ে গেছে। এমনটা হতে থাকলে সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনা সমস্যার মধ্যে পড়বে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ সময়ে ব্যাংকগুলো মেয়াদি আমানতে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ সুদ দিলেও এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। গত ১ মার্চ থেকে সরকারী ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ শতাংশ সুদে মেয়াদী আমানত নিচ্ছে। অন্যদিকে পাঁচ বছর মেয়াদী পরিবার সঞ্চয়পত্রে সুদ বা মুনাফা হচ্ছে ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ, বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ ও তিন বছর মেয়াদী তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ সুদ দেয়া হচ্ছে। আর তিন বছর মেয়াদী ডাকঘর সঞ্চয় ও ব্যাংক মেয়াদী সঞ্চয়পত্রের সুদহার ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।

সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ব্যাংকের স্থায়ী আমানতের সুদের হার ১০ শতাংশের বিপরীতে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ছিল ১২ শতাংশ। ২০১০-১১ অর্থবছরে স্থায়ী আমানতের সুদের হার ১৪ শতাংশ ওঠে। বিপরীতে পাঁচ বছর মেয়াদী সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ছিল ১২ শতাংশ। স্থায়ী আমানতের সুদের সঙ্গে সামঞ্চস্যপূর্ণ করতে ২০১১-১২ অর্থবছরের শেষদিকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বাড়ানো হয়। কিন্তু পরবর্তী সময় ব্যাংকের তারল্য বেড়ে যাওয়ায় গত অর্থবছরে স্থায়ী আমানতের সুদের হার সাড়ে নয় শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। ওই সময় থেকে সঞ্চয়পত্র সুদের হার অপরিবর্তিত থেকে যায়। একই সময় শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। ফলে বর্তমান বিনিয়োগকারীদের কাছে ব্যাংক ও শেয়ার বাজারের চেয়ে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ অধিক আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর এ তিন মাসেই সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে সঞ্চয়পত্র প্রকল্প থেকে অতিরিক্ত ২৫ হাজার কোটি টাকা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রের সুদ বাবদ ব্যয় বাজেটে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। সঞ্চয়পত্র থেকে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় নিট ঋণ বেশি হওয়ার কারণে নগদ উদ্বৃত্ত বেড়ে গেছে। ফলে সরকার বাধ্য হয়ে ট্রেজারি বন্ড ও ট্রেজারি বিলের অকশনে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সঞ্চয়পত্র সুদের হার পুনর্মূল্যায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধাক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাজেটে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ কিছু কম নিয়েছে। তবে আরেকটি আশঙ্কাজনক দিক হল সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সরকার যে ঋণ নিয়েছে, তা পুরো লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অনেক বেশি। অর্থাৎ ব্যাংক খাত বাদ দিয়ে সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়েছে সরকার। এ ঋণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কারণ এতে গ্রাহককে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ পযন্ত সুদ দিতে হয়। এতে ভবিষ্যতে উন্নয়ন ব্যয়ের ওপর প্রভাব পড়বে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি মোঃ গবর্নর আবুল কাশেম জনকণ্ঠকে বলেন, দেশে এখন ১০ ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। যাতে সর্বোচ্চ সুদের হার বছরে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেও লাভ না পাওয়ায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বেড়ে গেছে সম্প্রতি। সরকারেরও বাজেট ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আগামী বাজেট থেকে তাই সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, ব্যাংকের সুদের হার নির্ধারণ করেন ব্যাংকাররা। এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের তেমন কিছু করার নেই। ব্যবসায়ীরা উদ্যোগ নিলে সুদের হার কমানো সম্ভব। কারণ, ব্যবসায়ীরাই ব্যাংকের মালিক। তবে বর্তমানে সুদের হার কিছুটা কমছে। আশা করছি আগামীতে আরো কমবে।

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৫

২০/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: