মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক সমীপে

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৫
  • নির্বাচনী ভাবনা

ঢাকা মহানগরীর মেয়র নির্বাচিত হন যিনি, তাকে নগর পিতা বলা হয়। আসলে তিনি পিতার ভূমিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে নগর পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটের মাধ্যমে একজন মেয়র নির্বাচিত হবেন এটাই আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক নিয়ম। কিন্তু আমাদের দেশে এ ব্যবস্থাটি খুব একটা সুখকর নয়। কেননা এ দেশের সাধারণ মানুষকে ধর্মের দোহাই দিয়ে বার বার বিভ্রান্ত করা হয়েছে। এখনও তাই হচ্ছে। এক সময় বলা হতো আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে দেশে মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির নির্মাণ করা হবে। ব্যবসায়িক চুক্তির কথা হলে দেশকে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে বলে অপপ্রচার চালানো হত। এখন বলা হচ্ছে, যে কোন দিন দেশটি ভারতের অঙ্গরাজ্য হয়ে যাবে। তাই আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে ভোট দেয়াটা ঠিক হবে না। এসব বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে তারা তাদের অতীতের সব কথা ভুলিয়ে দিতে চান। তাদের শাসনামলে এদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল, এদেশে হাওয়া ভবন নামে একটি বিকল্প সরকার দাঁড় করিয়ে দুর্নীতির মহোৎসব চালিয়েছিল, এ দেশে ২১ আগস্টের বোমা হামলার মাধ্যমে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী কর্মকা- ঘটানো হয়ছিল। এক সময় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাই পথে আনা হয়েছিল, যা পার্শ্ববর্তী দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সরবরাহের পাঁয়তারা করছিল। জঙ্গীবাদের মাধ্যমে এ দেশেই তালেবানি শাসনের উদ্ভব ঘটিয়ে দেশকে চিরতরে পঙ্গু করে দেয়ার পাঁয়তারা চলছিল। এতে দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতো। কিন্তু তাদের এই আশা যখন ব্যাহত হলো তখন তারা নিরপ্ক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার মতো হিংসাত্মক কর্মকা-ে লিপ্ত হলো, যা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বিশ্বাসীরা কখনও করতে পারে না। এখনও তারা ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে সিটি নির্বাচনে জিততে চায়। ইতোমধ্যে তারা নিজেদের একটি অবস্থান তৈরি করেছেন। বিশেষভাবে কিছু শিক্ষিত স্বার্থান্বেষী মানুষ জনগণকে বিভ্রান্ত করে জঙ্গীবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নগরকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করতে ওঠেপড়ে লেগেছে। তাই স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষকে মেয়র নির্বাচিত করে নগর উন্নয়নে কাজ করে যেতে হবে। তবে অবশ্যই তা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বুঝাতে হবে ,তারা যেন বিভ্রান্ত হয়ে কাউকে ভোট না দেয়, সে বিষয়টি খেয়াল রাখা জরুরী। ইতোমধ্যে তারা বর্তমান সরকারের ইমেজ নষ্ট করতে বাংলা নববর্ষের দিনে টিএসসি প্রাঙ্গণে নারীদের সম্ভ্রমহানির মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। এভাবে একে একে ষড়যন্ত্রমূলক কাজের মাধ্যমে তারা নগরবাসীর মনকে বিষিয়ে তুলবে এতে কোন সন্দেহ নেই। তাই নির্বাচনের আগে সচেতন থাকা উচিত, যেন দুর্নীতিবাজ ও জঙ্গীবাদের প্রশ্রয়দাতারা নির্বাচিত হতে না পারে। বিষয়টি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির দলগুলোকে ভেবে দেখার সময় এসেছে। তাই এর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

নাজনীন বেগম

আসাদ এভিনিউ, ঢাকা।

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৫

২০/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: