কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রুশ হুমকির মুখে ইউরোপ

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৫
  • মার্কিন কমান্ডারের হুঁশিয়ারি

রাশিয়ার আগ্রাসনের মুখে ঐক্যবদ্ধ থাকতে ইউরোপকে অবশ্যই সব চেষ্টা চালাতে হবে। ইউরোপে মোতায়েন মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার লে. জে. ফ্রেডারিক ‘বেন’ হজেস শনিবার এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। তিনি এ আগ্রাসনকে এক প্রকৃত হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন। যখন ওয়াশিংটন সাবেক পূর্ব ব্লক অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাচ্ছে তখন তিনি এ হুঁশিয়ারি দিলেন। খবর ইউপিআইয়ের।

হজেস এক সামরিক প্রশ্নোত্তর পর্বের ফাঁকে ব্রিটেনের টেলিগ্রাফ পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে এ মন্তব্য করেন। এর আগে তিনি পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সড়ক পথে ইউরোপের মধ্য দিয়ে ৭৫০ মাইল বহন করে পোল্যান্ডের ওয়ারশর উপকণ্ঠে মোতায়েন করার সামরিক মহড়ায় অংশ নেন। তিনি টেলিগ্রাফকে বলেন, এটি কোন অনুমান নয়। রাশিয়ার হুমকি রয়েই গেছে। যখন আপনারা রুশ বিমানকে ট্রান্সপান্ডার ছাড়া বেসামরিক বিমানের কাছ দিয়ে অনিরাপদ উপায়ে ওড়তে দেখেন, তখন সেটা পেশাদারি আচরণ নয়। গত মাসে মস্কোর আগ্রাসনের এক দৃষ্টান্ত চোখে পড়ে। তখন ডেনমার্কে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যুহ গড়ে তোলার কাজে অংশ নেয়ার বিরুদ্ধে কোহেনহেগেনকে সতর্ক করে দেন।

ডেনমার্কে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত মিখাইল ডানিন ২১ মার্চ বলেন, যদি ডেনমার্ক আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যুহ তৈরিতে অংশ নেয়, তাহলে এর পরিণাম কি হবে, সেটি ড্যানরা পুরোপুরি বুঝতে পারছেন বলে আমার মনে হয় না। যদি তারা তা করেন, তবে ড্যানিশ যুদ্ধ জাহাজগুলো রুশ পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। গত মাসে পোল্যান্ডে পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন খবরের শিরোনাম হয় এবং নাগরিকরা মার্কিন সামরিক কনভয়কে জার্মান পোলিশ সীমান্ত পার হতে দেখে কৌতূহল বোধ করে। ঠা-া লড়াই শেষ হওয়ার ২০ বছরেরও পর এমন দৃশ্য চোখে পড়ল। পেন্টাগন এক যৌথ মহড়ার অংশ হিসেবে ওইসব ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে। এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিবেশী ইউক্রেনে চলমান বৈরী তৎপরতার মুখে পোল্যান্ডের স্বার্থরক্ষা করা হবে বলে আবার আশ্বাস দেয়।

হজেস বলেন, এর উদ্দেশ্য হলো আমাদের মিত্রদের নতুন করে আশ্বস্ত করা। তিনি ওই অঞ্চলে সাম্প্রতিক রুশ সামরিক তৎপরতার কথা উল্লেখ করেন। গত বছর ক্রিমিয়া দখলের পর মস্কো ইউক্রেনে সৈন্য পাঠায় এবং পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী রুশ ক্যালিনিনগ্রাদ ছিটমহলে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে। রাশিয়া ক্রিমিয়াতে পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম এমন দূর পাল্লার বোমারু বিমানও পাঠায়। ওয়াশিংটন রাশিয়ার গতিবিধিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে এবং ন্যাটোর ঐক্যই মস্কোকে প্রতিহত করার প্রধান পথ। তিনি বলেন, কোন সামরিক সংঘাত অনিবার্য বলে আমি মনে করি না। কিন্তু কার্যকরভাবে কূটনীতি চালাতে হলে আপনাকে সামরিক দিক দিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে।

হজেস গত বছর থেকে ইউরোপে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রধান কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোকে একা একা রাশিয়ার মোকাবেলা করতে হবে নাÑ যুক্তরাষ্ট্রের এমন প্রতিশ্রুতি রক্ষার লক্ষ্যে তিনি কাজ করছেন। গত বছর পেন্টাগন ঐ অঞ্চল থেকে এর সামরিক যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেয়, কিন্তু এখন সেখানে আবার ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান মোতায়েন করছে। সেগুলো কোথায় মোতায়েন করা হবে, তা স্থির করা লে. জে. হেজেসের দায়িত্ব। তিনি মনে করেন, ন্যাটো দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকলে রাশিয়া যেসব এলাকার বিষয়ে উৎসাহী সেসব এলাকায় আক্রমণ চালাবে বলে খুব কম সম্ভাবনাই রয়েছে।

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৫

২০/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: