মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বদলে যাওয়া বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০১৫
  • আরিফুর সবুজ

দিন বদলের বাংলাদেশের সঙ্গে বদলে গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকও। এ যেমন সত্য, তেমনি সত্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বদলে যাওয়াও বাংলাদেশকে বদলে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অভিনব কিন্তু কার্যকর এমন অসংখ্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যেগুলো দেশকে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে নিয়ে গেছে। আজ বাংলাদেশে বেশ শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত তৈরি হয়েছে, যার প্রমাণ আমরা দেখি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অযৌক্তিক টানা-হরতাল অবরোধের মধ্যেও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাকার সচল গতি। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা প্রণিধানযোগ্য এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমানের অবদানই সর্বাগ্রে বিবেচ্য। একটা সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে জনকল্যাণমুখিতার অভাব প্রকটভাবে লক্ষণীয় হলেও, এখন সময়ের বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বাগ্রে জনকল্যাণকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। মানবিক দিকটি ব্যাংকিং খাতে আগে অনুপস্থিত থাকলেও, এখন সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। এবং তা হয়েছে ড. আতিউর রহমানের নেতৃত্বে। তাঁর দূরদর্শী এবং সাহসী পদক্ষেপের কল্যাণে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রমে পরিবর্তন এসেছে। এ পরিবর্তনকে মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দেখছেন বৈপ্লবিক পরিবর্তন হিসেবে। এই পরিবর্তন দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা-, বিশেষ করে ব্যাংকিং কর্মকা-ে গতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে। তাই এখন আর কোন বিদেশী শক্তি আমাদের হেয় করে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে উপহাস করতে সাহস পায় না।

অংশগ্রহণমূলক মুদ্রানীতি

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রচলিত মুদ্রানীতি প্রণয়নরীতি বাদ দিয়ে অংশগ্রহণমূলক মুদ্রানীতির প্রচলন করে। এটি ছিল বৈপ্লবিক পরিবর্তন। অংশগ্রহণমূলক এই মুদ্রানীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হয় এবং সেটার প্রতিফলন ঘটানো হয়। এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ ব্যাংক কল্পনাপ্রসূত ধ্যানধারণার ভিত্তিতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে বাস্তবসম্মত মুদ্রানীতি প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়। অংশগ্রহণমূলক মুদ্রানীতি অনুযায়ী দেশের আর্থিক অবস্থা পর্যালোচনা করে মুদ্রানীতি সংকোচনমূলক, সম্প্রসারণমূলক নাকি সংযত হবে, তা নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে এখন সঠিক ও উপযোগী মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা যাচ্ছে এবং অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় মুদ্রানীতি প্রণয়ন জনগণের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের জবাবদিহিতার উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংক বিচক্ষণ কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে এই মুদ্রানীতিকে ফলপ্রসূ করতে সমর্থ হয়েছে, যার প্রমাণ আমরা দেখতে পাই অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ধারার সচলতা ও মূল্যস্ফীতির হারকে এক অঙ্কে নামিয়ে আনার মধ্য দিয়ে।

আর্থিক সেবাভুক্তিকরণ

আর্থিক সেবাভুক্তিকরণ কর্মসূচী বাংলাদেশ ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য এক কাজ। এর মাধ্যমে দেশের আপামর জনসাধারণকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবা দিতে তথা আর্থিক সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক মাত্র দশ টাকার হিসাব খোলার সুযোগ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা প্রায় ১.৩২ কোটিরও বেশি লোককে এর আওতায় নিয়ে আসতে পেরেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে বাংলাদেশ এখন আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয়। আর্থিক সেবাভুক্তিকরণ কর্মসূচীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি যুগান্তরকারী পদক্ষেপ হলো স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম। মাত্র একশ’ টাকা দিয়ে শিক্ষার্থীরা ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খুলতে সক্ষম হচ্ছে এবং বিনামূল্যে এটিএম কার্ড, ডেবিট কার্ড ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের সুযোগ পাচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে গড়ে উঠছে সঞ্চয়ী মনোভাব, যা আগামীর বাংলাদেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিপুল জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সেবার আওতায় আনায় অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ড. আতিউর রহমান হংকংভিত্তিক ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক বিশ্ব রেকর্ডে ভূষিত হয়েছেন।

ঋণ কর্মসূচী

আর্থিক সেবা সম্প্রসারণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিগত কয়েক বছরে রেকর্ড পরিমাণে উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে হাতে নিয়েছে। কৃষি খাতে ব্যাপক ঋণ সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঋণ সরবরাহ প্রক্রিয়ায় গুণগত পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষিক্ষেত্রে ঋণ সরবরাহে নারীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বর্গাচাষীদের জন্য চালু করেছে বিশেষ ঋণ কর্মসূচী। প্রথমবারের মতো দেশে বর্গাচাষীদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার পুনর্অর্থায়ন স্কিম চালু করা হয়। আমদানিনির্ভর ডাল, তৈলবীজ, মসলা ও ভুট্টা চাষে কৃষক পর্যায়ে ৪% রেয়াতি সুদহারে ঋণ কর্মসূচী এবং লবণচাষীদের জন্য এই সুদহারে ঋণ প্রদান কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। ঋণ দিয়েই দায়িত্ব শেষ না করে ঋণের ব্যবহার কেমন হচ্ছে, সেদিকেও তদারকি করছে, যা আগে কখনই দেখা যায়নি। স্বয়ং আতিউর রহমান কৃষিভিত্তিক প্রকল্প পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে, টেলিফোন ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে নিত্য খোঁজ খবর রাখছেন, যাকে অভিনব দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যা দেয়া যায়। এর ফলে কৃষকদের ঋণ পাওয়ার জটিলতা নিয়ে যে অভিযোগ সবসময়ই হতো, তা যেমন কেটে গেছে, তেমনি নিশ্চিত করা হয়েছে কৃষি ঋণের সঠিক ব্যবহার। এতে বেড়েছে কৃষি উৎপাদন, বাংলাদেশ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা।

পরিবেশবান্ধব কর্মসুচী

বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু ও বাস্তবায়ন করে চলছে। কল-কারখানায় কার্বন নিঃসরণ সম্ভাব্য ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্যই এ ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। দেশের সকল ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনর্অর্থায়নের আওতায় সৌরশক্তি, বায়োগ্যাস, বায়ো-জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুত উৎপাদন, ইটিপিসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে। ব্যাংকগুলো তা অনুসরণ করে সৌরশক্তি ও বায়োগ্যাস ও বিদ্যুতের অধীনে বিভিন্ন উপখাতে ব্যাংকগুলো প্রচুর অর্থ সহজ শর্তে দিচ্ছে। এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে ব্যাংকগুলো বায়োগ্যাস প্লান্ট, বর্জ্য পরিশোধন প্লান্ট, পরিবেশবান্ধব ইটভাটার জন্য হফম্যান হাইব্রিড কিন খাতে ঋণ দিচ্ছে। আর এতে দেশে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তার নিজস্ব উৎস থেকে ‘কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য মফস্বলভিত্তিক শিল্প স্থাপনে পুনর্অর্থায়ন স্কিম’ নামে একটি বিশেষ ঋণ কর্মসূচী প্রণয়ন করেছে। এর আওতায় ৩৭টি উপখাতে ঋণ সুবিধা দেয়া হচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ সুদ হারে। এর ফলে মফস্বলভিত্তিক শিল্পের যেমন প্রসার ঘটেছে, তেমনি বৃদ্ধি পেয়েছে কর্মসংস্থানও। যে কোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৪ সাল থেকে পুনর্অর্থায়ন কর্মসূচী হাতে নিলেও গতি ছিল খুবই শ্লথ। কিন্তু ড. আতিউর রহমান গবর্নর হওয়ার পর এ কর্মসূচী খুবই দ্রুতগতিতে এগিয়ে গেছে। ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এই তিন বছরেই এ খাতে ঋণ বিতরণ করা হয় ১৭৭০১৭ কোটি টাকা। এ ঋণ নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে যেমন ভূমিকা রাখছে, তেমনি বাড়ছে দেশজ উৎপাদনের পরিমাণ। এসএমই খাতে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এসএমই খাতের পুনর্অর্থায়ন স্কিমে ১৫ শতাংশ অর্থ কেবল নারী উদ্যোক্তাদের জন্যই বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এর আওতায় সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সুদহারে নারী উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন। এতে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি নারীর ক্ষমতায়নও অনেকাংশে নিশ্চিত হচ্ছে।

ব্যাংক ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের পথে নিয়ে গেছে অনেক দূর। ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করতে নিয়েছে নানামুখী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নেটওয়ার্কিং প্যাকেজের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক অত্যাধুনিক ডাটা সেন্টার ও ডিজাস্টার রিকভারি সাইট স্থাপন করেছে, যা তথ্যপ্রবাহকে সহজলভ্য করে তুলেছে। এই নেটওয়ার্কের কারণে সকল বিজনেস এ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। এখন আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত থেকে শুরু করে সকল হিসেব নিকেশে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক এন্টারপ্রাইজ ডাটা ওয়্যারহাউজ, ওয়েবসাইট ও ইন্ট্রানেটের উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ই-টেন্ডারিং, ই-রিক্রুটমেন্ট, ই-লাইব্রেরি, ই-নিউজ ক্লিপিং, ইএক্সপি অনলাইন মনিটরিং সিস্টেম, রফতানি ও আমদানি মনিটরিং, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার মনিটরিং সিস্টেম, কৃষি ঋণ মনিটরিং সিস্টেম, প্রাইজবন্ড ও সঞ্চয়পত্র মনিটরিং সিস্টেম, ট্রেনিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সিস্টেম বাংলাদেশ ব্যাংক চালু করে এর কার্যক্রমে গতিশীলতা নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে এবং এর ফলে দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রমেও সৃষ্টি হয়েছে গতিশীলতা।

যুগান্তরকারী আরও কিছু পদক্ষেপ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ ও সহায়তায় দেশের অধিকাংশ ব্যাংকই অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেছে। এতে গ্রাহকরা অতি সহজেই অধিক পরিমাণ লেনদেন করতে সক্ষম হচ্ছেন। ড. আতিউর রহমান ‘মোবাইল ব্যাংকিং’ চালু করে যুগোপযোগী যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা পেতে ইতোমধ্যে ৫০ লাখেরও বেশি লোক মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব খুলেছেন। এর মধ্য দিয়ে এখন প্রতিমাসে কমপক্ষে এক হাজার কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে জনসাধারণ সহজে এবং নিরাপদে তাদের আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারছে। এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক রেমিটেন্স ও বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটালাইজড করেছে। হুন্ডির পরিবর্তে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠানোর জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক স্থাপনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে দেশে রেমিটেন্স প্রবাহ বহুগুণ বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণ রিজার্ভ। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভ ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এক্ষেত্রে বৈদেশিক রেমিটেন্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ডিজিটালাইজড ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাফল্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের আরেকটি সাফল্য হচ্ছে কারেন্সি মিউজিয়াম স্থাপন। কারেন্সি মিউজিয়াম একটি দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক। সে দিকটি বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক এ মিউজিয়াম চালু করে। এই মিউজিয়ামকে এখন আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিসম্পন্ন টাকা জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়েছে। তা করা হয়েছে ড. আতিউর রহমানের উৎসাহেই। এভাবেই বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা-কে ডিজিটালাইজড করার মধ্য দিয়ে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে নিয়ে গেছে বহুদূর।

ড. আতিউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ৪৭টি তফসিলি ব্যাংক ও ৩১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে। এর অংশ হিসেবে ঋণ শ্রেণীকরণ, প্রভিশনিং ও পুনর্তফসিলীকরণ নীতিমালা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে একটি সার্কুলারও জারি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো কোন প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে তদারকি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এর ফলেই কিছু ব্যাংকের বিশাল পরিমাণ অর্থ দুর্নীতির বিষয় জানতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এবং পরে এদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ফলে কমে গেছে ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতির পরিমাণ। এভাবেই বাংলাদেশ ব্যাংক বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন ধরনের কার্যকর ও যুগোপযোগী পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে অবদান রেখে চলছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকলে আশা করা যায়, ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের কাতারে চলে যাবে। arspatuary@gmail.com

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০১৫

১৯/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: