আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ইশতেহার দিতে পারেননি দুই মেয়র প্রার্থী ॥ সিদ্ধান্তহীনতায় ভোটাররা

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০১৫

মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ আর মাত্র ৯ দিন পর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এ নির্বাচনের মূল আকর্ষণ মেয়র প্রার্থী। এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা ১২ হলেও মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আ জ ম নাছির উদ্দিন ও বিএনপি সমর্থিত এম মনজুর আলমের মধ্যে। অথচ শনিবার পর্যন্ত এ মূল প্রতিদ্বন্দ্বীর কেউ তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করতে পারেননি। উভয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার শাখার দায়িত্বে নিয়োজিতরা বলছেন, প্রস্তুতি চলছে, সহসা তা প্রকাশ করা হবে। কিন্তু নির্বাচনের রেসে না থেকেও মেয়র প্রার্থীদের অনেকে ইতোমধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন। ভোটার মহল চেয়ে আছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান দুই প্রার্থী তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারে নগরবাসীর জন্য কী আশার বাণী শোনাচ্ছেন, যা এখনও অজানা রয়ে গেছে। আ জ ম নাছির স্বপ্নের মেগাসিটি করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রচারণায় লিপ্ত। আর মনজুর আলম তাঁর গত মেয়াদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার প্রত্যয় ঘোষণা করে ভোট ভিক্ষা চাচ্ছেন। এদিকে, ৪১ ওয়ার্ডে সাধারণ ও ১৪ সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে হানা দিলেও মেয়র প্রার্থীরা রাস্তায় বা অলিগলিতে কখনও গাড়িযোগে কখনও হেঁটে গণসংযোগে ব্যস্ত রয়েছেন। ১৮ লক্ষাধিক ভোটারের কাছে সরাসরি পৌঁছানো মেয়র প্রার্থীদের পক্ষে সম্ভব নয় বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। সংক্ষিপ্ত সময়ের কারণে মেয়র প্রার্থীদের এক এলাকায় দু’বার যাওয়ার কোন সুযোগ থাকছে না এবারের নির্বাচনে। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে প্রধান দুই মেয়র প্রার্থীর মূল ভরসা তাঁদের দলীয় সমর্থন ও স্ব স্ব দলীয় নেতাকর্মীদের কর্মকা-ে আন্তরিকতা। কিন্তু দু’দলই প্রার্থী নিয়ে শতভাগ কোন্দলমুক্ত নয়। যদিও দলীয় শীর্ষ নেতারা এক মঞ্চে উঠছেন, প্রচার-প্রচারণায় লিপ্ত হচ্ছেন, কিন্তু দলীয় অনুসারীদের মাঝে নানা বিষয়ে মতদ্বৈততা ও বিভক্তি রয়েছে। যদিও তা প্রকাশ্য নয়। তবে বিএনপিতে মেয়র প্রার্থী হতে ইচ্ছুক হয়ে ব্যর্থ দলের নগর সাধারণ সম্পাদক ডাঃ শাহাদাত হোসেন দলীয় সমর্থনের প্রার্থীর পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোন ধরনের গণসংযোগে নেমেছেন এমন রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ২০ দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধ ও হরতালে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ, জ্বালাও-পোড়াও, মানুষ খুনের ঘটনায় আসামি হওয়ার কারণে গ্রেফতার এড়াতে তিনি গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছেন বলে দলীয় বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

অপরদিকে, চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ যেসব নেতা মেয়র পদে প্রার্থী হতে আগ্রহী ছিলেন কিন্তু হতে পারেননি, তাঁরা সবাই দল সমর্থিত প্রার্থী আ জ ম নাছিরের পক্ষ হয়ে মাঠে নেমেছেন। তাঁদের এ মাঠে নামার ঘটনা নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। নাছিরের ঘনিষ্ঠজনদের কারও কারও মতে, প্রার্থীর জন্য যথেষ্ট আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে। পক্ষান্তরে, মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ এক সময়ে নাছির উদ্দিনের সঙ্গে বিরোধ ছিল এমন শিবিরের লোকজনদের বক্তব্য হচ্ছে, তাদের সেভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। তবুও তাঁরা দল ও দলীয় সভানেত্রীর সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রার্থীর জন্য মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁরা দলীয় প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারেও ব্যাপক আশাবাদী। কিন্তু সাধারণ ভোটাররা কোন্দিকে ঝুঁকবেন সেটা আগেভাগে বোঝা কোনভাবেই সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি ব্যক্তি ইমেজ যিনি সবচেয়ে বেশি তুলে ধরতে পারবেন তিনি ততই লাভবান হবেন।

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০১৫

১৯/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: