মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রামেকে ইউনিয়ন নেতাদের পেটাল শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওয়ার্ডে কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুলকালাম কা- ঘটেছে। রোগীদের সামনে ওয়ার্ডে ঢুকে ইউনিয়নের নেতাদের বেদম পিটিয়েছে কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে রামেকে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর থেকে কর্মচারীরা হাসপাতালের কর্মবিরতিতে গিয়ে সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। শনিবার দুপুরের এ ঘটনায় বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত তারা কাজে যোগ দেয়নি। এ ঘটনায় রামেক শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা পরস্পরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কর্মচারী ইউনিয়নের নেতা হওয়ার সুবাদে তারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

রামেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরে চিকিৎসকরা ওয়ার্ডে রাউন্ড দেয়ার সময় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী আল-আমিন তার এক আত্মীয় রোগীর পাশে বসেছিলেন। এ সময় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আনোয়ার হোসেন শিক্ষার্থী আল-আমিনকে ওয়ার্ড থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এতে শিক্ষার্থী আমিন ওই কর্মচারীকে জানায়, সে একজন মেডিক্যালের শিক্ষার্থী এখানে থাকলে কোন সমস্যা হবে না। তারপরও চিকিৎসক রাউন্ডে আসার কথা বলে তাকে বের হয়ে যেতে চাপ প্রয়োগ করেন কর্মচারী আনোয়ার হোসেন।

এতেও ওয়ার্ড থেকে বের না হওয়ায় এক পর্যায়ে কর্মচারী আনোয়ার হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থী আল-আমিনকে জোর করে ওয়ার্ড থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করলে উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরে আল-আমিন কলেজে গিয়ে কয়েক বন্ধুকে ডেকে নিয়ে রামেক হাসপাতালের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে উপস্থিত হয়। এ সময় রামেক হাসপাতাল ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মাসুদ রানা, দপ্তর সম্পাদক আমিন ও সরদার আবুল কালাম বিষয়টি সমাধানের জন্য সেখানে গেলে শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে রোগীর সামনেই মারপিট ও ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওয়ার্ডে চিৎকার চেঁচামেচি করে শিক্ষার্থীরা কর্মচারীদের বেদম পিটুনি দিয়ে ১৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে চার নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত নিয়ে আসে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে এ ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা দাবি করেন, কোন চিকিৎসক ওয়ার্ডে রাউন্ড দিলে রোগীর সঙ্গে যাতে অতিরিক্ত কোন স্বজন ওয়ার্ডে উপস্থিত না থাকে সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা আছে। আনোয়ার হোসেন সেই নির্দেশনাই পালন করছিলেন।

এ ঘটনার পর ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা কাজ ছেড়ে পরিচালকের রুমের কাছে গিয়ে বিচারের দাবিতে হাজির হয়। একই সময় রামেক শিক্ষার্থীরাও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কর্মচারীর শাস্তির দাবিতে পরিচালকের কক্ষে উপস্থিত হন।

শনিবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন দুপক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসেছেন। তিনি জানান, দ্রুত এ বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারপরই কর্মচারীরা নিজেদের কাজে যোগ দেবে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন সমাধানে পৌঁছতে না পারায় কর্মচারীরা কেউ কাজে যোগ দেয়নি।

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০১৫

১৯/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: