কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রচারে নতুন মাত্রা ॥ প্রার্থীদের পক্ষে হেভিওয়েটরা মাঠে

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০১৫
  • ঢাকা সিটি নির্বাচন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যতই সময় এগিয়ে আসছে নির্বাচনী প্রচারে যোগ হচ্ছে নতুন মাত্রা। হেভিওয়েট ব্যক্তিরা প্রচারে নেমে পড়ছেন। ফলে নির্বাচনী প্রচারে গতিও আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোটারদের আকর্ষণ কাড়তেও তৈরি করা হচ্ছে নতুন নতুন চমক। প্রার্থীর পাশাপাশি তাকে সহায়তা করার জন্য জনপ্রিয় ব্যক্তি, সংগঠনও প্রচারে অংশ নিচ্ছে। শনিবার বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াও নেমে পড়েন নির্বাচনী প্রচারে। অপরদিকে জনপ্রিয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরাও আনিসুলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন। ফলে ভোটারদের জনসংযোগ এখন নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। তারা ক্ষণ গণনা করছেন কে হচ্ছেন নগরপিতা।

এদিকে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে সক্রিয় রয়েছে শত নাগরিক কমিটির সদস্যরা। অপরদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়েছেন সহস্র নাগরিক কমিটির সদস্যরা। প্রার্থীর মতো তারাও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এছাড়া দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা যাদের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে কোন বাধা নেই তারাও এখন রাতদিন প্রার্থীর পক্ষে জনসংযোগ করছেন। আগামী ২৮ এপ্রিল তিন সিটি কর্পোরেশনে ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোট গ্রহণের আর মাত্র সময় রয়েছে ৯ দিন। কিন্তু প্রার্থীরা প্রচারের জন্য সময় পাচ্ছেন আর মাত্র ৭ দিন। ২৬ এপ্রিল মধ্য রাত থেকে প্রচার বন্ধ হয়ে যাবে আইন অনুযায়ী। এ কারণে স্বল্প সময়কে কাজে লাগাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। তাদের কাছে এখন রাত দিন সমান হয়ে গেছে। প্রচারের সুবিধার্থে প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে একেক দিন একেক এলাকায় প্রচারে অংশ নিচ্ছেন।

অন্যদিনের মতো শনিবার সকাল থেকেই প্রার্থী ও প্রার্থীর পক্ষে তার সমর্থকরা ভোট চাইতে নেমে পড়েন। প্রার্থীরা জনসংযোগ ছাড়াও বিভিন্ন পথসভায় অংশ নেন। নির্বাচনী প্রচারে নেমে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হক ঝাড়ু হাতে করে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। অপরদিকে পিতার মতো ঢাকাবাসীর সেবার করার জন্য একবার সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানান সাঈদ খোকন। এদিকে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী বরাবরের মতো নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেয়ার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, সরকার মির্জা আব্বাসের জনপ্রিয়তাকে ভয় পায় বলে তাকে জামিন দিচ্ছে না। তাবিথ আউয়াল নির্বাচনে নেতাকর্মীদের গুম খুনের শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না।

সাঈদ খোকন ॥ ঢাকা দক্ষিণের আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর হাজারীবাগ ঝাউচর বড় মসজিদের সামনে থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। কামরাঙ্গীরচরের ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ নং ওয়ার্ডে প্রচার চালান তিনি। কামরাঙ্গীরচর মনিহার কমিউনিটি সেন্টারে এক নির্বাচনী পথ সভায় তিনি বিএনপি সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘উনি মেয়র-মন্ত্রী ও এমপি থেকে শুরু করে সব ধরনের জনপ্রতিনিধি ছিলেন। কিন্তু আমি কিছুই ছিলাম না। তাই একবার আমাকে মেয়র নির্বাচিত করে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন।’

তিনি বলেন, মির্জা আব্বাস গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপালন করার সময় কী কী কাজ করেছেন এটা আপনারা সবাই জানেন। একবার আমাকে নগরীর সেবা করার সুযোগ দিন। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তাই এটি আমার ব্যক্তিগত মনোনয়ন নয়। এটা আপনার-আমার পুরো ঢাকাবাসীর মনোনয়ন। কামরাঙ্গীরচর এলাকার উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন, এই এলাকায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম অনেক উন্নয়ন করেছেন। আমাকে নির্বাচিত করুন, মন্ত্রী ও মেয়র মিলে এই এলাকাকে আরও উন্নত করব। আমার বাবা ঢাকার প্রথম মেয়র ছিলেন। তিনি নিজের জীবন আপনাদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন, আমিও আমার জীবন বিলিয়ে দিয়ে নগরবাসীর সেবা করব। শনিবার সাঈদ খোকনের নির্বাচনী প্রচারে যোগ দেন হাজারীবাগ কামরাঙ্গীরচরের এমপি হাজী সেলিমও। এ সময় তিনি সাঈদ খোকনের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।

সাঈদ খোকন নির্বাচনী প্রচারে নিজের প্রতীক ইলিশে ভোটার চাওয়ার পাশাপাশি দল সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষেও ভোট চান। ৫৫ নং ওয়ার্ডের ভোটারদের উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা প্রথমে ইলিশ মাছ, এরপর নূরে আলম ভাইকে ঠেলাগাড়ি ও শিউলি হোসেন সরকারকে কেটলি মার্কায় ভোট দেবেন। আমাদের তিন জনকেই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন এটাই প্রত্যাশা। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন আমিও মির্জা আব্বাসের বাসায় ভোট চাইতে যাব। মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস আমার বাসায় আসেন, বিশ্রাম নেন, নামাজ পড়েন। আমরা তাকে সাধ্যমতো আপ্যায়ন করেছি। আমরা অতিথিপরায়ণ। আমি ওনাদের এলাকায় গেলে ওনার বাসায় যাব, ভোট চাইব।

আফরোজা আব্বাস ॥ বিএনপি সমর্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের পক্ষে আফরোজা আব্বাস শনিবার রাজধানীর পুরান ঢাকার গোপীবাগ থেকে প্রচার শুরু করেন। এ সময় ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দলের স্থানীয় মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে ছিলেন। প্রচারকালে দোকানপাট ও বাসাবাড়িতে গিয়ে লিফলেট বিতরণ ও ভোট চান আব্বাসের স্ত্রী। গোপীবাগ থেকে তিনি টিকাটুলি, স্বামীবাগ, ওয়ারি, দয়াগঞ্জ, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, ফরিদাবাদ ও নারিন্দায় যান ভোট চাইতে। এক নাগারে দুপুর ২টা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচার চালান। এ সময় তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার মির্জা আব্বাসের জনপ্রিয়তাকে ভয় পায়। তাই জামিন দিচ্ছে না। জামিন দেয়া নিয়ে লুকোচুরি করছে। আশা করি নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে আদালত তাড়াতাড়ি মির্জা আব্বাসকে জামিন দেবে। তিনি অভিযোগ করেন নির্বাচনী প্রচারের প্রতি পদে পদে বাধা দেয়া হচ্ছে। দলের নেতাকর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। মেয়র ও কাউন্সিলরদের পোস্টার ছিঁড়ে আগুন লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। এমনকি ইতিমধ্যে আমাদের কয়েকটি নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করা হয়েছে। অথচ এ ব্যাপারে সরকার ও নির্বাচন কমিশন নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে। দেখেও না দেখার ভান করছে উল্লেখ করেন।

আনিসুল হক ॥ রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক শনিবার মিরপুরের আলোবদী গ্রাম থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের মোল্লা মার্কেট থেকে মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যার স্মৃতি বিজড়িত এ গ্রামে যান। এ সময় গ্রামবাসীরা তাকে ফুলের পাপড়ি দিয়ে স্বাগত জানায়। আলোবদী, ইস্টার্ন হাউজিং রূপনগর দোয়রী পাড়া হয়ে পল্লবী মডেল স্কুলে এসে পথসভায় বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি বলেন, আমি চাই ঢাকা শহরের মানুষ ভালো সেবা পান। ভাল সেবার জন্য ভাল মেয়র প্রয়োজন। আমি আমার ভাল দিকগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরেছি। জনগণ যদি আমার ভাল দিকগুলো দেখে সন্তুষ্ট হয় তাহলে আমার টেবিল ঘড়ি মার্কায় ভোট দেবেন। এদিকে গুলশানের শূটিং ক্লাবের সামনে থেকে ঝাড়ু হাতে শনিবার নির্বাচনী প্রচার চালান। এ সময় তিনি বলেন, শুধুমাত্র একজন মেয়রের পক্ষেই ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন নগরী করতে পারব। তাই আজ প্রতীকীভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছি শুধুমাত্র ঝাড়ুদার নয়, আমাদের সবাইকে এ কাজে সহযোগিতা করতে হবে। এটা আমার একটা প্রতীকী পরিচ্ছন্নতা অভিযান। আপনারা সুযোগ করে দেন যেন আমি আগামী ৫ বছর কাজ করতে পারি। তিনি বলেন, দেশে যারা আছে তারা সবাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের। একজন লোকও নেই যারা নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের না বলে দাবি করতে পারেন। আর যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক নয়, তার ঠাঁই এদেশে নেই। যারা আছেন তারা সবাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে আমি মনে করি।

তাবিথ আউয়াল ॥ রাজধানীর গাবতলী থেকে নবম দিনের প্রচারণা ও গণসংযোগ শুরু করেছেন বিএনপি সমর্থিত ঢাকা উত্তরের মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল। সকাল ১০টায় তিনি নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন। গাবতলী থেকে কারমাইকেল রোড-সেকেন্ড কলোনি-গলারটেক, দারুস সালাম থানা, বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, শাহ আলী মাজার, ১ নম্বর গোলচক্কর, চিড়িয়াখানা রোড, কমার্স কলেজ, শিলবাড়ি, রূপনগর, প্রশিকা মোড়, ৬ নম্বর বাজার, মিরপুর স্টেডিয়াম, মনিপুর স্কুল, পীরের বাগ, সাউথ পাইকপাড়া, মধ্য পাইকপাড়া, নতুনবাজার, কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জনসংযোগে অংশ নেন। এ সময় তিনি বলেন, আমাদের নেতাকর্মী প্রতিনিয়ত গুম-খুন হচ্ছেন। মামলায় গ্রেফতার হচ্ছেন। এখনও গুম-হত্যার শঙ্কা কাটেনি। এ অবস্থায় আমি নেতাকর্মীদের গুম হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছি। নেতাকর্মীরা ঠিকভাবে নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারছেন না। সবজায়গাতেই দলীয় লোকেরা বাধা দিচ্ছে। অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবার সহযোগিতা চান। বলেন কোনভাবেই নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হচ্ছে না। এছাড়া বিকেলে গুলশান ১ নম্বর সিটি কর্পোরেশন মার্কেট এলাকা থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের অংশ নেন।

মাহী বি চৌধুরী ॥ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিকল্পধারা সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মাহী বি চৌধুরী শনিবার ঢাকার উত্তরায় গণসংযোগ করেছেন। বেলা সাড়ে ১১টায় উত্তরার রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন তিনি। এরপর রবীন্দ্র সরণি হয়ে উত্তরা ৩, ১২ ও ১৩ নম্বর সেক্টর এবং বেড়িবাঁধ হয়ে হাউজ বিল্ডিং ও নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার বিভিন্নস্থানে পথসভায় বক্তৃতা ও গণসংযোগ করেন মাহী। এ সময় তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে ‘ঈগল’ মার্কায় তিনি ভোট চান। পরিচ্ছন্ন নগর পেতে তাকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে জাতীয় পার্টির ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন শনিবার রাজধানীর সূত্রাপুর, শ্যামবাজার, বাংলাবাজার, সদরঘাট, ইংলিশ রোড, ধোলাইখাল এলাকার বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বিপণি বিতান ও আবাসিক এলাকায় নিজের সোফা মার্কায় প্রতীকের পক্ষে জনসংযোগ করেন। অপরদিকে জাতীয় পার্টি উত্তরের প্রার্থী বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবলু উত্তরা মডেল টাউন এলাকার বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বিপণি বিতান ও আবাসিক এলাকায় নিজের প্রতীক চরকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন।

এদিকে ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ক্বাফি রাজধানীর শেখেরটেক, আদাবর, দারুসসালাম, বেড়িবাঁধ শ্যামলী ও কল্যাণপুরে নির্বাচনী জনসংযোগ করেন। তার পক্ষে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতারা রাজধানীর কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, বাংলামটর এলাকায় জনসংযোগ করেন।

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০১৫

১৯/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: