কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক সমীপে

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০১৫

অবৈধ যান বন্ধ হোক

দেশে সারা বছর যে রকম মর্মান্তিক ও ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে তার জন্য বৈধ যানবাহনের চেয়ে অবৈধ যানবাহনও কম দায়ী নয়। কারণ, বৈধ যানবাহনে তাও অনেক দক্ষ চালক থাকেন, কিন্তু অবৈধ যানবাহন মূলত অদক্ষ আনাড়ি চালকদের দ্বারাই পরিচালিত হয়। যে কারণে মুখোমুখি সংঘর্ষ বা অবিবেচকের মতো ওভারটেকের কারণে প্রায়ই বড় বড় সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। সরকারী হিসাবেই দেশে বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৪ হাজার মানুষ মারা যান। আহত হন প্রায় ৫ হাজার মানুষ। এদের অধিকাংশই গ্রামীণ জনগোষ্ঠী। তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বাংলাদেশে জিডিপির ক্ষতির পরিমাণ শতকরা ১ দশমিক ৬ ভাগ। সরকার ২০২০ সাল নাগাদ সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ ৫০ ভাগ কমিয়ে আনার রূপকল্প স্থির করেছে। সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে রুট পারমিটবিহীন, নিবন্ধনবিহীন এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন শনাক্ত ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক দিয়ে গাড়ি চালানো নিশ্চিত করতে হবে। সড়কের মারাত্মক বাঁকগুলো সোজাকরণ বা দৃষ্টি প্রতিবন্ধক গাছপালা কাটাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এখন সারাদেশে হাজার হাজার অনুমোদনবিহীন স্থানীয়ভাবে নির্মিত ইঞ্জিনচালিত যানবাহন চলাচল করছে। যেমন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, টমটম, নসিমন, করিমনসহ নানা রকম যানবাহন হাইওয়ে বা আন্তঃজেলা সড়কগুলোতেও চলাচল করছে। এসব কারণেও অনেক সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। সড়কের পাশে অবৈধ হাট বা দোকানপাট উচ্ছেদ, অতিরিক্ত গতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং রোধ করার জন্যও সংশ্লিষ্ট মহলকে এগিয়ে আসতে হবে। অনেক সময় অতিরিক্ত ট্রিপ মারতে গিয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে এবং চলন্ত অবস্থায় চালক মোবাইল ফোনে কথা বলতে গিয়েও দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। তবে দুর্ঘটনার জন্য কেবল যানবাহন বা চালকই দায়ী নয়, এমনকি ত্রুটিপূর্ণ রাস্তার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে।

ছাইদুর রহমান নাঈম

কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ।

কঠোর শাস্তি দিন

বসত বাড়িতে ফিরল ১৪টি হিন্দু পরিবার। এতে আনন্দিত হওয়ার কিছুই দেখি না। কেননা অত্যাচারী-নির্যাতনকারীদের দ্রুত শাস্তি না হলে ওরা যে আবার হিংস্র হয়ে উঠবে। এ নিয়ে কথা হতে এক বৃদ্ধ জানালেন, ‘যারা নির্যাতনকারী তাদের নাম-ঠিকানা পত্রপত্রিকায় পড়েছি। ওরা চিহ্নিত ভূমিদস্যু-সন্ত্রাসী-নির্যাতনকারী। তাই ওদের বিচার-আচারে কোন সাক্ষী দেখতে চাই না। দেখতে চাই না ওদের পক্ষে কোন আইনজীবী আইনী সহায়তা দিচ্ছে। ওদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ মানেই পার পেয়ে যাওয়া। পার পেলেই ওরা আরও হিংস্র হয়ে হিন্দু পরিবারের ওপর আবারও নির্যাতন যে চালাবে না, তা কেইবা জানে। এ অবস্থায় অত্যাচারী- নির্যাতনকারীদের দ্রুত আইনে কঠোরতর শাস্তি দেয়া হলে দেশের হিন্দু-মুসলমান সাধারণ মানুষ নিরাপদে বসবাস করার সুযোগটুকু পাবে বলে আমরা মনে করি।

লিয়াকত হোসেন খোকন

ঢাকা।

ড. কামালের প্রতি

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পর্ণ আইনজীবী, এক সময়কার বাংলাদেশের সংবিধানের রচয়িতা ড. কামাল হোসেন এবং তথাকথিত কিছু সুশীল সমাজের মানুষ, যাঁরা এক সময় তথাকথিত কিংস পার্টি নামক পরিচিত। তাঁরা ওয়ান-ইলেভেনের সময় অনেক বড় বড় কথা বলেছিলেন এবং সামরিক বাহিনীর সহযোগিতায় ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। শুধু ড. কামাল হোসেন নয়, ড. কোরাইশি, ড. ইউনুস নিয়মিত সেনাসমর্থিত সরকারের মুখপাত্র হিসেবে অনেক চেষ্টা করেছিলেন, আবারও সেই আশায় বিভোর তিনি। তিনি ২/১ দিনের মধ্যে ড. কামাল জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানালেন। তিনি তৃতীয় শক্তির ঘটিয়ে করে নিজে আবার পত্রিকার শিরোনাম হতে চান। কিন্তু ড. কামাল সাহেবকে বলি, আপনার সেই অবস্থা নেই। অনেক আগেই আপনার প্রয়োজনীয়তা আমজনতার কাছে ফুরিয়ে গেছে। আপনি এখন হতাশাগ্রস্ত রাজনৈতিক নেতা গণফোরাম নামক দলের হতভাগ্য সদস্য। দেশের মানুষ মনে করে সিটি কর্পোরেশনের একজন কাউন্সিলর হিসেবে প্রার্থী হলেও জনগণ আপনাকে নির্বাচিত করবেন কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কাজেই তৃতীয় শক্তির মতো কোন অর্জন অন্তত আপনাকে দিয়ে হবে না। বার্ন ইউনিটের আহাজারিতে এখন আপনার মানবতার কথা শুনা যায় কি?

রণজিত মজুমদার

সেনাগাজী, ফেনী।

বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট

মানুষ জীব-জানোয়ার, পশু-পাখি সকল স্তরে মিঠা তথা বিশুদ্ধ পানীয় জল অত্যন্ত জরুরী। নদী, সাগর, মহাসাগর মানুষের নাগালের বাহিরে। পানির প্রশ্নে বাংলাদেশ সাহারা মরুভূমিতে পরিণত হবে। গ্রাম-গঞ্জে শতকরা ৮০ শতাংশ জনগণ পানি শব্দটির আগে বিশুদ্ধ বা সুপেয় নামের সঙ্গে পরিচিত নন। পানি হলেই হলো। আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনে এমনিতে পানির স্তর মাটির গভীরে চলে গেছে। উজানে প্রতিটি নদীর মুখে ভারত বাঁধ নির্মাণের ফলে কার্তিক মাস আসার সঙ্গে সঙ্গে পদ্মা, যমুনা, ব্রাহ্মপুত্র ও তিস্তা মরুময় বালুভূমিতে পরিণত হওয়ায় ছোট ছোট আঞ্চলিক নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ার কারণে খাল-বিল পানিশূন্য। যে কারণে গ্রাম-গঞ্জে প্রতিটি পুকুর, ডোবা-নালা চৌচির। অসাধু জেলে, ভূমিদস্যুরা খাল, পুকুর, নালা, ডোবায় মাছ ধরতে প্রতিটি জলাশয় শ্যলোমেশিন দ্বারা সেচে পানির বংশ খতম করছে। পুকুরে পানি না থাকায় থালা-বাসন, কাপড় কোন কিছুই পরিষ্কার করা যাচ্ছে না। অতি জরুরী হিসেবে গৃহিণীরা পাক করার জন্য পরিষ্কার পানি খুঁজতে ছোটাছুটি করছে। ঐতিহাসিক বিক্রমপুর পরগনার শ্রীনগর, লৌহজং, সিরাজদিখান ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলা এবং ঢাকা সদরের দোহারের সর্বত্র পানীয় জলের সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশুদ্ধ পানীয় জলের সঙ্কটের পাশাপাশি দূষিত পানিও পাওয়া যাচ্ছে না, পানির স্তর নিচে চলে যাওয়ার কারণে চাপকলে, গভীর-অগভীর নলকূপে কম মাত্রায় পানি আসছে। বর্ষায় পদ্মা সেতুর ওপর পানির চাপ হ্রাস পাবে। সবার আগে লৌহজং গোয়ালীমান্দ্রা-শ্রীনগর-সৈয়দপুর খাল সংস্কার করা হলে পদ্মার সঙ্গে ধলেশ্বরী, ইছামতি নদী ও আড়িয়াল খাঁ নদের মিলন ঘটবে।

মেছের আলী

শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ।

বিএনপির জামায়াত ত্যাগ প্রসঙ্গে

শুধু আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী মনে করে বিএনপির উচিত জামায়াতকে ত্যাগ করে দেশ ও জাতির জন্য ইতিবাচক রাজনীতি করা। দেশের বর্ষীয়ান ব্যক্তি ব্যারিস্টার রফিকুল হক একই কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন যে, আমাদের দেশের অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে যদি বিএনপি জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করে।

কিন্তু বিএনপির পক্ষে এই মহৎ কাজটি করার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলেন স্বয়ং খালেদা জিয়া, তাঁর ছেলে তারেক আর বিএনপির কতিপয় শীর্ষ নেতা, যারা হয় রাজাকার ছিলেন, নয়ত রাজাকার পুত্র। খালেদা ও তারেক দু’জনই জামায়াতকে ছেড়ে রাজনীতি করতে পারবেন না। কারণ তাঁদের নীতি-আদর্শ সব কিছুই জামায়াতের। বিএনপিতে অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও দেশপ্রেমিক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি রয়েছেন। তাঁদের সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে। আর খালেদা জিয়া যদি ইতিহাসের পাতায় নিজের নামটিকে সম্মানজনক স্থানে রেখে যেতে চান, তবে অবিলম্বে রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে দলের নেতাকর্মীদের হাতে দল পরিচালনার ভার দিয়ে দিন।

সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন দিশেহারা। ভুল নেতৃত্ব, ভুল কর্মসূচীর কারণে অনেকেই নিজ দলের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। মানুষ পুড়িয়ে মারার রাজনীতির সঙ্গে দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের জড়িত করতে পারছেন না। তাঁরাও এই অপরাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চান। দেশে বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়া বড় রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠেনি। বাম রাজনীতি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে রাজনীতি করতে চায়। তারা বর্তমান বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন পার্থক্য খুঁজে পায় না। তাদের অদূর ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে অবদান রাখা সম্ভব নয়। দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থেই বিএনপিকে সক্রিয় ও ইতিবাচক রাজনীতির ধারায় ফিরে আসতে হবে।

বিপ্লব

ফরিদপুর।

সিনেমা হলের অসুস্থ ধারা

আমাদের দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে উন্নত এবং সমৃদ্ধশালী করা অতীব জরুরী। দেশের চলচ্চিত্রের মান নিয়ে অনেক প্রশ্ন ওঠে নেতিবাচক। কিন্তু দেশে কিছু ভাল চলচ্চিত্রও তৈরি হয়। চলচ্চিত্র শিল্পকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে সিনেমা হল এবং ভাল মানের চলচ্চিত্রের কোন বিকল্প নেই। দর্শক যাতে সিনেমা হলে গিয়ে দেশীয় ছবি দেখতে আগ্রহী হয় এই প্রয়াসে কাজ করাই হবে মুখ্য। অনেক দর্শক সিনেমা হলের সুস্থ পরিবেশের জন্য অনাগ্রহী থাকে সিনেমা হলে যেতে। দেশের প্রত্যেক সিনেমা হলে যদি ভাল মানের সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি করা হয় তাহলে দর্শকদের হলে বসে ছবি দেখার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। তাই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদেও এগিয়ে আসতে হবে।

ফারহা নূর

বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০১৫

১৯/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: