রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

টাঙ্গাইলের শামীম কোয়েল পুষে শীর্ষে

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০১৫
  • মাসিক আয় লাখ টাকার ওপরে

কোয়েল কোয়েল ময়না, আর যে দেরি সয়না, এ ছড়াটি ছোট বেলায় বইয়ে পড়েছে প্রায় সকলেই। তখনই কোয়েল পাখি সম্পর্কে জানা। স্বপ্ন দেখেছি বড় হয়ে কোয়েল পাখি পোষার। কিন্তু টাকার অভাবে তা পূরণ হয়নি। এই স্বপ্নের কথা জানালেও বাবা রাজি হননি। বাধ্য হয়ে অভিভাবকদের ইচ্ছায় অর্থ উপার্জনে পাড়ি জমাতে হয় বিদেশে। ছয় বছর প্রবাস জীবন শেষ করে দেশে ফিরে আসি। অন্তরে কোয়েল পোষার স্বপ তো পুষেই রেখেছিলাম। এ কথাগুলো বললেন, আত্মপ্রত্যয়ী যুবক শামীম আল মামুন। এলাকায় কোয়েল শামীম নামেই পরিচিত। বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কচুয়া গ্রামে। বাবার নাম আবদুল মোতালেব।

শামীম আরও বলেন, সখীপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি বগুড়ায় কোয়েল পাখির বাচ্চা পাওয়া যায়। ছুটে যাই সেখানে। ২০ হাজার টাকা দিয়ে ৫শ’ বাচ্চা কিনে শুরু করি কোয়েল পোষার। বই পড়ে, প্রাণী সম্পদ বিভাগের সহযোগিতা ও বাচ্চা বিক্রেতাদের কাছে নিয়ম জেনে প্রথমে নিজেই কোয়েলের যতœ নিতে থাকি। ধীরে ধীরে তাদের সঙ্গে গড়ে ওঠে সখ্য। ব্যস্ততার মাঝে খুঁজে পাই এক প্রকার বিনোদন। সেখান থেকে প্রতি মাসে আয়ের অংশ খুঁজে পাওয়ায় উৎসাহ আরও বেড়ে যায়। বাড়াতে থাকি কোয়েলের সংখ্যা। বেড়ে যায় কাজের পরিধি। এখন খামারে তিনজনকে মাসিক বেতনে নিয়োগ দিয়েছি।

২০১২ সালে বাড়ির পাশে ২০ শতাংশ জমির ওপর ৫শ’ কোয়েলের বাচ্চা নিয়ে গড়ে তুলি শখের খামার। বর্তমানে আমার খামারে কোয়েল পাখির সংখ্যা ১২ হাজার। এর মধ্যে লেয়ার পাখি সাত হাজার। প্রতিমাসে পাঁচ হাজার কোয়েল নিয়মিত ডিম দিচ্ছে। ওইসব ডিম ও ব্রয়লার ঢাকা ও গাজীপুরসহ দেশের ৮-১০টি স্থানে সরবরাহ করছি। এখন আমার মাসিক আয় লাখ টাকার ওপরে। এছাড়াও তৈরি করা হয়েছে একটি কোয়েল পাখির হ্যাচারী। কিছু দিনের মধ্যেই শুরু হবে হ্যাচারির কাজ। শামীম আরও জানান, আমাকে দেখে ইতিমধ্যে সখীপুরে আরও পাঁচ-ছয়জন ব্যবসায়ী খামার করে কোয়েল পোষা শুরু করেছেন। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে খামার দেখার জন্য আসা লোকজন জানতে চান কোয়েল চাষের কলাকৌশল। স্থানীয় প্রাণী সম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কোয়েল পরিবেশবান্ধব। লেয়ার জাতের কোয়েল ৪২-৪৫ দিনের মধ্যেই ডিম দেয়া শুরু করে ও টানা ১৮ মাস ডিম দেয়। অপরদিকে ব্রয়লার জাতের কোয়েল ২৮ দিনের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়। একটি কোয়েল বছরে সাধারণত ২৮০ থেকে ৩শ’টি ডিম দিয়ে থাকে।

সখীপুর বাজারের ডিম ব্যবসায়ী ফজলুল হক বলেন, আমি বাজারে সিদ্ধ ডিম বিক্রি করি। মুরগির চেয়ে কোয়েলের ডিমে বেশি লাভ।

স্থানীয় বাজারে কোয়েলের সিদ্ধ ডিমের চাহিদা বেশি। সখীপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা হেলাল আহম্মেদ বলেন, কোয়েল পালন অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা। এর মাংস, ডিম খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। রোগীর পথ্য। ডিম ও মাংসে কোলস্টেরলের পরিমাণ কম থাকায় তা স্বাস্থ্যবান্ধব। এছাড়া কোয়েল পালনে কোন ঝুঁকি নেই। মুরগির ভ্যাকসিন দিয়েই এর চিকিৎসা হয়। কোয়েল পুষে যে লাভবান হওয়া যায় শামীম তাঁর প্রকৃত উদাহরণ।

Ñইফতেখারুল অনুপম

টাঙ্গাইল থেকে

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০১৫

১৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: