কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

লোকজ সঙ্গীতশিল্পী শাহ আলম সরকার

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০১৫

গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় পালাগানের জীবন্ত কিংবদন্তি শাহ্্ আলম সরকার। তার গান কোটি মানুষের মুখে প্রতিদিন ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয়। প্রায় আড়াই হাজার মৌলিক গানের জনক তিনি। ‘বুকটা ফাইট্টা যায়...’, ‘মায়ের কান্দন যাবত জীবন...’, ‘আকাশটা কাঁপছিল কেন...’, ‘বান্ধিলাম পীরিতের ঘর...’, খড় কুটার এক বাসা বাঁধলাম...প্রভৃতি। তাঁর প্রকাশিত গানের ক্যাসেট ও সিডির সংখ্যা সাড়ে পাঁচ শতাধিক। তিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠ শিল্পী। শতাধিক চলচ্চিত্রে তিনি গীতাকার, সুরকার ও প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে কাজ করেছেন। বিশেষ করে ‘মোল্লা বাড়ির বউ’ এবং ‘ডাক্তার বাড়ি’-এ দু’টি ছবির গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সঙ্গীতের আর এক কিংবদন্তি মমতাজের কণ্ঠে শাহ আলম সরকারের কথা ও সুরের ঝংকার যেন আবহমান বাংলার মানুষের কানে অমৃতের সুধা ঢেলে দেয়।

বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের নিয়মিত বাউল শিল্পী শাহ আলম সরকার। এছাড়া বেসরকারী প্রতিটি চ্যানেলেই শিল্পী একক ও দ্বৈত সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন। শিল্পী মমতাজের সঙ্গে গাওয়া পালাগানের জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কুড়িগাঁও গ্রামের এই শিল্পীর সুরের ঝিলিক ছড়িয়ে পড়েছে দেশবিদেশে। মুর্শিদী-মারফতী-জারি-সারি সব গানেই পারদর্শী তিনি। বিশেষ করে গ্রাম বাংলার পালাগানে তার জুড়ি নেই। গোটা দেশেই সমান জনপ্রিয় তিনি।

১৯৬৫ সালে কুড়িগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত পরিবারে জন্মগ্রহণ তাঁর। শাহআলম সরকারের বাবা- মৃত হায়দার আলী এবং মা-সালমা আলী। প্রাথমিক শিক্ষা হলদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শেষ না হতেই শিল্পী জীবন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন পারিবারিক প্রয়োজনে। ঢাকার সদরঘাট এলাকায় ফুটপাথে গার্মেন্টস ব্যবসার পাশাপাশি ইস্ট বেঙ্গল স্কুলে নাইট সিফট্্-এ ভর্তি হলেও পড়াশোনাটা আর এগোয়নি।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ও তিন সন্তানের জনক। বাউল সঙ্গীতের গবেষণা, প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে তিনি কাজ করে চলেছেন, স্বপ্ন দেখেন পৈত্রিকভূমিতে একটি বাউল একাডেমি স্থাপনের। তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এ্যাওয়ার্ড, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংবাদ সংস্থা এ্যাওয়ার্ড ও কালচারাল এ্যাওয়ার্ডসহ এ পর্যন্ত অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। দেশজ সংস্কৃতি বিকাশের অগ্রনায়ক শাহ্ আলম সরকার বাংলার হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে লালন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করতে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি মনে করেন- এই কাজকে প্রসারিত করতে প্রয়োজন নানামুখী উদ্যোগ। বিশেষ করে পাঠ্যবইয়ে দেশজ সংস্কৃতির গুরুত্বসহ সর্বত্র আবহমান বাংলার চিরায়ত রূপ তুলে ধরতে হবে।

Ñমীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল

মুন্সীগঞ্জ থেকে

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০১৫

১৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: