রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শিশুর জন্মগত বাঁকা পা এখন আর অভিশাপ নয়

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০১৫
  • বিনামূল্যে চিকিৎসায় হাসি ফুটছে বাবা-মার মুখে

শিশুর জন্মগত বাঁকা পা এখন আর কোন অভিশাপ কিংবা সমস্যা নয়। সময়মতো চিকিৎসায় স্বাভাবিক হয়ে ফিরছে সব শিশু। এই দাবি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞদের। হাসপাতালের কর্তব্যরত সার্জনদের দাবি, ময়মনসিংহে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫৮৩ জন জন্মগত বাঁকা পায়ের শিশুকে সার্জারির মাধ্যমে স্বাভাবিক পায়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দেশের ৪৪ জেলা হাসপাতালগুলোর ৪৯টি ক্লিনিক ও সেন্টারে এসময়ে ২০ হাজারের বেশি শিশুকে এই চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে। আগামী ২০১৮ সাল নাগাদ ২৫ হাজার শিশুকে এই চিকিৎসাসেবা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। দি গ্ল্যানকো ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ওয়াক ফর লাইফ প্রকল্প থেকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে জন্মগত ক্লাবফুট বা মুগুর পায়ের শিশুদের এই চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।

রিক্সাচালক দীন ইসলামের স্ত্রী তানিয়া আক্তার স্থানীয় একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ান প্রসবে পুত্রসন্তান জন্ম দেন। কিন্তু প্রথম এই পুত্রসন্তান জন্মদানের আনন্দ ম্লান হয়ে যায় তানিয়ার নবজাতকের বাঁকা পায়ের সমস্যা নজরে আসার পর। সেই থেকে পরিবারটি দুশ্চিন্তার শেষ ছিল না। হঠাৎ মাঈন নামের এই নবজাতক অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে। এখানে চিকিৎসা নেয়ার সময়ই তানিয়া জানতে পারেন শিশুর জন্মগত বাঁকা পায়ের চিকিৎসাসেবা দেয়া হয় ময়মনসিংহ মেডিক্যালের বহির্বিভাগে। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার শান্তিবাগের হতদরিদ্র মনোরঞ্জন দাস ও চন্দনা রানী দম্পত্তির সমস্যা ছিল ভিন্ন রকম। জন্মের পর পাঁচ মাস বয়সী মেয়ে শিশু প্রীতি কন্যাকে নিয়ে নানাজনের নানা কটূকথার সীমা ছিল না। কুসংস্কারে পূর্ণ এসব আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল প্রীতির বাঁকা পা নিয়ে জন্ম নেয়া। সব দোষ যেন চন্দনার। নানাজনের পরামর্শেরও কমতি ছিল না। তাবিজ-কবচ, ঝাড়-ফুঁক, তেল মালিশ, ফকিরÑ সবখানে যাওয়ার পরামর্শে অতিষ্ঠ চন্দনা শেষ পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এই চিকিৎসার খবর পেয়ে আশান্বিত হয় ওঠেন। এখানকার তিন মাসের চিকিৎসায় প্রীতির বাঁকা দুই পা এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসছে। দীন ইসলাম, রুবীনা ও চন্দনার মতো অনেকে এখন চিকিৎসা নিতে আসছেন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে। দিন দিন এই খবর ছড়িয়ে পড়ায় শিশুদের ভিড় সামাল দিতে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের প্রায়ই হিমশিম খেতে হচ্ছে। সপ্তাহের সোম, বুধ ও বৃহস্পতিবার এই তিন দিন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে এই সেবা কার্যক্রম চলছে ২০০৯ সাল থেকে। প্রকল্পের আঞ্চলিক কো-অর্ডিনেটর মামুন হোসেন চৌধুরী জানান, সংস্থার সঙ্গে সরকারের আগামী ২০১৬ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে। তবে এটি আগামী ২০২১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের অধ্যাপক ও ওয়াক ফর লাইফের প্রধান চিকিৎসক অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর মুকুল জনকণ্ঠকে জানান, শূন্য থেকে তিন বছর বয়সী সকল শিশুকে সহজ একটি সার্জারি দিয়ে এই চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

-বাবুল হোসেন, ময়মনসিংহ থেকে

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০১৫

১৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: