মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

কারও হাতে ঝাড়ু, কারও কাঁধে বস্তির শিশু ॥ ব্যতিক্রমী প্রচার

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ব্যতিক্রমী প্রচারে নেমেছেন ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থীদের অনেকেই। অন্য রকম প্রচারের মধ্য দিয়েই ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। তবে কতটুকু সফল হবেন এ নিয়ে কোন প্রার্থীই এখনই ভাবতে চান না। আশাবাদী প্রত্যেকেই। মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে কেউ দৌড়াচ্ছেন, কেউবা দূষণমুক্ত নগরী গড়ে তুলতে সাইকেল র‌্যালি করছেন, কেউ রাস্তা পরিষ্কার করতে মোদি স্টাইলে ঝাড়ু নিয়ে নামছেন রাস্তায়। যিনি কখনই সাধারণ মানুষের কাতারে আসেন না, কিংবা বস্তিতে যান না কোটিপতি সেই মেয়র প্রার্থীও বস্তিতে গিয়ে শিশুদের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন। বুকে জড়িয়ে নিচ্ছেন ভোটারদের। এতে কেউ কেউ পাচ্ছেন বাহবা আবার কেউ সমালোচিত হচ্ছেন। ব্যতিক্রমী আয়োজনকে প্রার্থীর ভোটের রাজনীতি হিসেবেই দেখছেন অনেক ভোটার।

২০ দলে না থেকেও বিএনপি থেকে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন বিকল্পধারার কেন্দ্রীয় নেতা মাহী বি চৌধুরী। অবশেষে মাহীর পাতানো ফাঁদে পা দেয়নি বিএনপি। হতাশ মাহী বিকল্পধারার সমর্থন নিয়েই নির্বাচন করছেন। তবে হাল ছাড়েননি চতুর এই রাজনীতিবিদ। পহেলা বৈশাখের দিন সাক্ষাত করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে। প্রায় একঘণ্টা বৈঠক করেছেন তিনি। এরপর যান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দূতাবাস রোডের বাসায়। তাঁকে না পেয়ে ফুলের শুভেচ্ছা রেখে আসেন মাহী। কোন দিকেই যখন নিজের পালে হাওয়া লাগাতে পারছিলেন না তখন নিজ বুদ্ধি দিয়েই মাঠে নেমেছেন তিনি। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্টাইলে রাস্তায় ঝাড়ু দিয়ে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করতে দেখা গেছে তাঁকে। তাঁর সঙ্গে অংশ নিয়েছেন কয়েকজন নবীন কর্মী। এ কাজ করে যতটুকু বাহবা পাওয়ার কথা ছিল তার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিরস্কার পেয়েছেন বেশি। বিশেষ করে ফেসবুকে ঝাড়ু দেয়ার ছবিতে তাঁকে ভ- নেতা বলে আখ্যায়িত করেছেন কেউ কেউ। ব্যঙ্গ করে অনেকেই লিখেছেন, ‘সোনা খোঁজেন মাহী ভাই’।

এদিকে কোটিপতি আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল। আদর সোহাগে মানুষ হয়েছেন এই ননীর পুতুল। কখনই সাধারণ মানুষের কাতারে কিংবা রাজনৈতিক কর্মকা-ে তাকে দেখা যায়নি। কিন্তু বাবা নির্বাচন করতে না পারায় বিএনপির সমর্থন নিয়ে মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রচারে মাঠে নেমেছেন। বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। যাচ্ছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে। ছুটে যাচ্ছেন বস্তিতে। সেখানে গিয়ে অসহায় শিশুদের কোলে নিচ্ছেন। তুলে নিচ্ছেন কাঁধেও। আলিঙ্গন করছেন। রাজনীতি আর ভোটের প্রয়োজনে সবই করতে হয়। কথায় আছে যদি মানুষের প্রতিনিধি হতে চাও তবে মানুষকে ভালোবাসার বিকল্প নেই।

রাজনীতির কোন গন্ধ ছিল না আনিসুল হকের গায়ে। ব্যবসায়ী নেতা তিনি। এক সময় ছিলেন টেলিভিশন উপস্থাপক। এবার হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী। নিজের ক্লিন ইমেজ পুঁজি করে বিজয় সুনিশ্চিত করতে চান আনিসুল হক। তবে বিষয়টিকে একেবারে সহজ করে দেখছেন না নিজেই। বলছেন, পুরো বিষয়টি একেবারেই চ্যালেঞ্জিং। বিজয়ের আশায় ভিন্ন আঙ্গিকে প্রচারের মাঠে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দৌড়ে ভোট চেয়েছেন তিনি। রীতিমতো সংবাদ কর্মীদের সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করে বিজয়ী হয়েছেন এই ব্যবসায়ী নেতা। জাতীয় পতাকা খচিত পোশাক পরেও প্রচার চালাতে তাঁকে মাঠে দেখা গেছে। দূষণমুক্ত সবুজ ঢাকা গড়ার প্রত্যয় থেকেই শুক্রবার রাজধানীতে সাইকেল র‌্যালি করেছেন এই প্রার্থী। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক অতিক্রম করেছেন, পাশাপাশি ভোট চেয়েছেন ভোটারদের কাছে।

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০১৫

১৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: