মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

যত বাধাই আসুক মাঠ ছাড়বে না বিএনপি ॥ মওদুদ

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০১৫
  • খালেদার গুলশান কার্যালয়ে সমন্বয় কমিটির বৈঠক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রতিকূল পরিবেশ থাকলেও বিএনপি মাঠ ছাড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। শুক্রবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সমন্বয় কমিটির বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সিটি নির্বাচন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। এ অগ্নিপরীক্ষায় ফেল করলে তাদের পতন ত্বরান্বিত হবে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক মওদুদ আহমদ বলেন, সিটি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন বিএনপি প্রার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। বিএনপি প্রার্থীদের গ্রেফতার-হয়রানি করা হচ্ছে। যত প্রতিবন্ধকতাই আসুক না কেন এ নির্বাচনে আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকব। এ নির্বাচনে দল ও জোটের অংশ নেয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে চলমান আন্দোলন জোরদার করা। আমাদের বিশ্বাস বিএনপি সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জনগণ নীরব বিপ্লব ঘটাবেন। ইসি যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে তাহলে ২০ দলীয় জোট সমর্থিত সব প্রার্থীই বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।

মওদুদ বলেন, নির্বাচন কমিশন যে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে তার বহির্প্রকাশ হচ্ছে, বৃহস্পতিবার বিএনপি সমর্থিত ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীকে আটক ও বাসায় বাসায় পুলিশ পাঠিয়ে হয়রানি। অপরদিকে সরকারদলীয় প্রার্থীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ২৮ এপ্রিল অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দল ও জোট সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলররা বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন। কোন কোন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জোটের একাধিক প্রার্থী সম্পর্কে মওদুদ বলেন, দল থেকে যাদের আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেয়া হয়েছে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তাদের পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে। বেশি জোর দিতে হবে ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে। তিনি বলেন, সরকার সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মসজিদে অনুদান দিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।

বৈঠকে ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে স্বল্প সময়ে যতটুকু সাড়া পেয়েছি তাতে মনে হচ্ছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের ভোট দেয়ার জন্য জনগণ অপেক্ষা করছে। দল থেকে সমর্থন দেয়ায় তাবিথ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাধা, প্রতিবন্ধকতা ও পুলিশী হয়রানির কারণে অনেক নেতাকর্মীই প্রচারে অংশ নিতে পারছেন না। এমনকি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেনÑ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সমন্বয় কমিটির সদস্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, দলের ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, মাহমুদুল হাসান, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, সদ্য কারামুক্ত বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের মা নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের সদস্য সচিব শওকত মাহমুদ, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, প্রকৌশলী আনহ আখতার হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, এ্যাডভোকেট ফাহমিদা আখতার মুন্নী প্রমুখ। এছাড়া জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মুর্তজা, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, এলডিপির যুগ্মমহাসচিব সাহাদাত হোসেন সেলিম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা কর্নেল (অব.) আবদুল লতিফ, শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, মনিরুল হক চৌধুরী, আবুল হোসেন, হবিবুর রহমান হাবিব, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আসাদুল করীম শাহীন, সাহাবুদ্দিন আহমেদ, সুলতানা আহমেদ প্রমুখ। উল্লেখ্য, ৫ এপ্রিল বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয় ছেড়ে বাসায় ফিরে যাওয়ার পর এটিই ছিল ওই কার্যালয়ে প্রথম দলীয় বৈঠক। এদিকে বৈঠক চলাকালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে দলীয় সমর্থন না পেয়ে জহুরা বেগম ও মিজানুর রহমান নামে ২ জনের সমর্থকরা গুলশান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

২০ দল সমর্থিত প্রার্থীদের প্রচারে বাধা দেয়া হচ্ছে- হান্নান শাহ ॥ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২০ দল সমর্থিত প্রার্থীদের প্রচারে বাধা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ। শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলের সমন্বয় কমিটির বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ বৈঠকে সমন্বয় কমিটির সদস্যরা ছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ২৩টি থানা ও ৫৭টি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলের সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক হান্নান শাহ বলেন, নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরেপেক্ষ নির্বাচন করতে খুব বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ করে দিতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার মতো কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। তাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছি।

১৬ ওয়ার্ডে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন ॥ ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ১৬ ওয়ার্ডে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বিএনপি। এর মধ্যে ১৪টি সাধারণ ওয়ার্ড ও দুটি সংরক্ষিত ওয়ার্ড। আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের আহ্বায়ক প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব শওকত মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ পরিবর্তনের তথ্য জানানো হয়। তবে ১৬ ওয়ার্ডে পরিবর্তনের পরও প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় উন্মুক্ত রাখা হয়েছে সাধারণ কাউন্সিলর পদে পাঁচটি ও নারী কাউন্সিলর পদে একটি ওয়ার্ড।

যেসব ওয়ার্ডে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে সাধারণ ১ নম্বর ওয়ার্ডে মোস্তাফিজুর রহমান সেগুনের বদলে মো. কফিল উদ্দিন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে রবিউল আউয়াল সোহেলের বদলে দেলোয়ার হোসেন দুলু, ১২ নম্বরে বাবুল আক্তারের বদলে রানা আক্তার, ১৫ নম্বরে লিয়াকত আলীর বদলে বাবুল শিকদার, ২৫ নম্বরে সাইফুল আলম কাজলের বদলে মুন্সি ওয়াদুদ, ২৬ নম্বরে নবী সোলায়মান, ২৮ নম্বরে আবদুস সাত্তারের বদলে আফতাবউদ্দিন জসিম, ৩৫ নম্বরে শেখ আমির হোসেনের বদলে শরমিলা ইমাম।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে সাধারণ ৭ নম্বর ওয়ার্ডে শামসুল হুদা কাজলের বদলে এজিএম মোস্তফা বাদশা, ১৫ নম্বরে আবুল খায়ের বাবুল, ১৬ নম্বরে সিরাজুল ইসলামের বদলে জাফর মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান, ২০ নম্বরে জাহিদ হোসেন নোয়াব, ২২ নম্বরে উন্মুক্ত, ২৪ নম্বরে শফিউদ্দিন আহমেদ সেন্টু, ২৮ নম্বরে উম্মে খাদিজা পারভেজের বদলে আনোয়ার পারভেজ বাদল, ৩৪ নম্বরে মো. মামুনের বদলে হাজী আবেদউদ্দিন আহমেদ, ৩৬ নম্বরে উন্মুক্ত, ৩৯ নম্বরে উন্মুক্ত, ৪২ নম্বর উন্মুক্ত, ৪৯ নম্বরে খালিকুজ্জামান চৌধুরী, ৫১ নম্বরে নাজির আহমেদ মিয়ার বদলে উন্মুক্ত, ৫৪ নম্বরে মোজাম্মেল হোসেন, ৫৫ নম্বরে হাজী মোঃ শহীদুল্লহর বদলে শহীদুল হক ও ৫৬ নম্বরে হাজী আবদুল বাতেনের বদলে মোঃ নাঈম।

এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে (৮, ৯ ও ১০) হোসনে আরা বেগমের বদলে মমতাজ বেগম মম ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১১ নম্বর ওয়ার্ডে (২৯, ৩০ ও ৩১) রীনা নাসির মাধবীর বদলে ফারহানা ইয়াসমিন আতিকাকে সমর্থন দেয়ার পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে (১৪, ১৫ ও ১৮) উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০১৫

১৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: