রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চাঁপাইয়ে মাকড়ে মরে গেছে ২০ হাজার নারিকেল গাছ

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০১৫
  • ৪ হাজার আক্রান্ত

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ সমগ্র জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে নারিকেল গাছের মড়ক। অবস্থা এতটাই বেগতিক যে, কোন ধরনের প্রতিরোধ এখন পর্যন্ত দিতে পারেনি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। দ্বিতীয় শস্য বহুমুখীকরণ প্রকল্পের আওতায় কৃষি মন্ত্রণালয় মড়ক দমনে যেসব লিফলেট পাঠিয়েছিল তা স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ কৃষকদের হাতে তুলে দিয়ে দায়িত্ব পালনের ঢেঁকুর তোলা ছাড়া কোন সহযোগিতা দিচ্ছে না। ফলে প্রয় ২০ হাজার নারিকেল গাছ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মারা গেছে। পাশাপাশি ৪০ হাজার গাছ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দিন গুনছে। জেলার পাঁচ উপজেলার ২২৪ হেক্টর জমিতে নারিকেল গাছ আছে, যার সংখ্যা ৭০ হাজার বলে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানিয়েছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের কিছু আগে অর্থাৎ ষাটের দশক হতে জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে নারিকেল আবাদ শুরু হয়। তবে তা বাগান আকারে নয়। একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাড়ির উঠানসহ কিছু পতিত জমিতে নারিকেল গাছের চারা রোপণ করে আবাদ শুরু করে। শখের বসে নারিকেল চারা রোপণ শুরু হলেও পরবর্তীতে মানুষ উৎসাহিত হয়ে যত্রতত্র নারিকেল গাছ লাগানো শুরু করে। গাছ দ্রুত বেড়ে উঠে ফল ধরা শুরু হলে জনসাধারণ উৎসাহিত হয়ে ওঠে। ফলনও হতে থাকে আশানুরূপ। বিশেষ করে চাঁপাই সদর, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট অঞ্চলের মানুষ ব্যাপকহারে বাড়ির আশপাশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারিকেল চাষ শুরু করায় আর্থিকভাবেও লাভবান হয়। যদিও চাহিদার তুলনায় নারিকেল উৎপাদন শতকরা ১০ ভাগ হলেও তা বড় ধরনের সাফল্য এনে দেয়। কারণ এই অঞ্চলে কেউ নারিকেল আবাদ ৫০ বছর পূর্বে চিন্তাও করতে পারত না। নারিকেল চাষ শুরু ও উৎপাদনেও বড় ধরনের সাফল্য আসায় চাষীরা আগ্রহী হয়ে উঠছিল নারিকেল আবাদে। এমনকি বৃহত্তর আম উৎপাদনকারী উপজেলা শিবগঞ্জের আমচাষীরা বাগানের চারধারে নারিকেল চারা রোপণে আগ্রহী হয়ে উঠে। ফলে গত ৪০ বছরে এই উপজেলায় নারিকেল আবাদের জমির পরিমাণ ঠেকে ২৭ হেক্টরে। কিন্তু হঠাৎ করে কয়েক বছর ধরে মড়ক শুরু হওয়ায় নারিকেল আবাদে অনুৎসাহিত হয়ে ওঠে। প্রতিটি গাছে নারিকেল উৎপাদন কমে আসে। ফুল এলেও ফল ধরে না। আবার যে নারিকেল ধরে তা শুকিয়ে ঝরে পড়ে। ডাব কিছুটা বড় হয়ে এলে কালো দাগ ধরায় পরিপূর্ণতা না পেয়ে ভেতরে পানিশূন্য হয়ে পড়ে। নারকেল বা ডাব গাছেই ফেটে পানি পড়ে যায়। এটাকে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ মাকড় ধরা বলে অভিহিত করে। মাকড় কচি নারিকেলের বৃতির নিচের নরম অংশ থেকে রস চুষে খায়। রস চোষায় নারিকেলের গায়ে সূক্ষ্ম ক্ষত সৃষ্টি হয়। ক্ষতস্থান দিয়ে লালচে আঠালো পদার্থ বের হয়ে গাঢ় বাদামি দাগ সৃষ্টি করে। এ অঞ্চলে মাকড়ের আক্রমণ সবচেয়ে বেশি। একপর্যায়ে এই রোগ পাতায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে কা- শুকিয়ে গাছ মারা যায়। মাকড় দমনে কৃষি সম্প্রসারণের প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা নেই। কৃষক পরামর্শের জন্য এলে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ওষুধের নাম লিখে স্প্রে করতে বলে থাকে। এছাড়া তারা এসব গাছ দেখারও চেষ্টা করে না।

সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বলেন, প্রকৃতপক্ষে এ অঞ্চরের মাটি নারিকেল চাষের উপযুক্ত নয়। এতদিন কিভাবে প্রচুর পরিমাণে নারিকেলের উৎপাদন ও ডাব থেকে লাভবান হলো সে বিষয়ে কোন ধরনের মন্তব্য না করে বলেন, আয়রনের অভাবে উৎপাদন কম হচ্ছে এবং মাকড়ে ভয়াবহ আক্রমণে গাছ মরে যাচ্ছে।

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০১৫

১৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: