মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কবিতা

প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল ২০১৫

বৈশাখে নজরুল

জাফর ওয়াজেদ

মেঘের ডমরু বাজিয়ে যাচ্ছেন এই তো কবি নজরুল

বোশেখ এলে চিত্তে চপল দুর্বার এক সুরের তাল

কোত্থেকে যে ঝড় হলো, তুললো মাতন তাল-তমাল

বাবরি চুল ঝাঁকিয়ে নিয়ে বাঁধালো কি হুলস্থুল।

মেঘ কেন আজ ভাসে কেবল মাটিতে না নামে

চাতক কেবল তাকিয়ে থাকে চাতকিনী মরে

এক ফোঁটা নেই জলের চিহ্ন খাঁ খাঁ ধরাধামে

কাকপক্ষীও পায় না স্বস্তি-বৃক্ষপত্র ঝরে।

মেঘের কোলে হাসছে রোদ তাপে ছড়ায় উষ্ণ

আমুদে সব কা-কীর্তি আদুল গায়ে নাচে কৃষ্ণ

রাধার তখন গরম জ্বালা নদীর জলে চায় শান্তি

কৃষ্ণ বোঝে এমন দিনে জলকেলি দেয় শ্রান্তি

শরীরজুড়ে ভাপ ওঠে তাই বাষ্প হয়ে যায় মন

নির্জলা জল পায় যদি তৃষ্ণাতুর পথিকের স্বজন।

মেঘের ডমরু শুনিয়ে গেলেন নজরুল তার গানে

বৈশাখ এসে বাজিয়ে গেলো দাবদাহর হুতাশনে।

একা

জাফরুল আহসান

নইতো আমি কারো সাথে পাঁচ কিংবা সাতে

তবুও আমায় ডাকছো কেনো সাঁঝ বেলাতে?

একা আছি একাই থাকি কিবা ক্ষতি তাতে

ভালো যদি নাইবা বাসো কষ্ট কেন স্বসাঘাতে।

আমার আছে আগুন মাখা ফাগুন রাঙ্গা ভোর

গহীন রাতে পাখির স্বরে কাব্য করার ঘোর

নদীর পারে নেংটা ছেলের সাঁতার কাটার সুখ

আমার আছে স্বপ্নপুরী পাখির ধবল বুক।

নইতো আমি কারো সাথে সাত কিংবা পাঁচে

তোষামদি বারাবারি সয়না আমার ধাঁচে

একা আছি থাকাবো একা একা থাকার স্মৃতি

ভালোই লাগে বাঁধনহারা নষ্ট ভ্রষ্ট প্রীতি।

আমার আছে চ-িদাস আর লালন সাঁইর গান

বোঁচে থাকার সাহসটুকু, সোদা মাটির ঘ্রাণ

একা আছি থাকাব একা, একা থাকার সুখ

যায় না বলা বুকের ভেতর পুরান পাখির দুখ।

চৈত্রের জর্নাল

মারুফ রায়হান

নির্বাসনে গেছে সূর্য, সকালটা ঘোর অন্ধকার

আড়মোড়া-ভাঙা উদ্যমগুলো হঠাৎ উ™£ান্ত

খানখান নীরবতা গুঁড়িয়ে দিল হুড়মুড় বৃষ্টি

চৈত্রের জলরঙে আঁকা চিত্র মহান আশাবাদীকেও

করে তোলে বিষণœ বিহ্বল

বাগান হারিয়ে ফেলল কি ছন্দ আর গান

তাতে যোগ হচ্ছে শোকগাথা আর সমাধিলিপি

কোথাও উচ্ছেদে উদ্বাস্তু বস্তিবাসী

কোথাও দর্পিত ভবন বর্ষণ-হামলায় জবুথবু

নিভৃতে নিহত হলো কবিজাতক- গোলাপ, গন্ধরাজ

নবীনার স্তনে চেনা শঙ্কা হাঙরের দাঁত

পুড়ে পুড়ে কয়লা হচ্ছে যে-মাটি তার হৃদয়-পাঁজর

এখন ঠাণ্ডা বটে, জুড়নো, সুশান্ত-

শুধু সাচ্চা কবিমন জানে নিজের উত্তপ্ত সময়

কোন্ অলীক বৃষ্টিতে জুড়োবে

একান্ত বর্ষশেষের কোন্ চৈত্ররাত্রিতে ফুরোবে

গান চাই উজ্জীবনী গান, বহুপুরাতন প্রেমের সঙ্গীত

যার ভাঁজে ভাঁজে উপস্থিত মোহন প্রেরণা

চৈত্র যখন সব অপার্থিব অর্জন পুড়িয়ে ফেলতে উদ্যত

তখনই বিরহীকোমল প্রেমগান বদলে দিল চৈত্রের চিত্রপট

প্রতিদিন নিহত হওয়ার মাঝে আছে বিলক্ষণ সৃষ্টি ও সুন্দর

দগ্ধ-বিদগ্ধ শুদ্ধ চৈত্র ছাড়া

কে আর এসব শেখায় আমাকে!

যে বৈশাখ আলোর বর্ণালি

হাসান হাফিজ

নতুন স্বপ্নিল রাখী

তোমাকে পরিয়ে দিই

এসো গো বৈশাখ।

এসো, আমরা তৈরি হয়ে আছি।

বোসো, আমরা সালুনে আনাজে

মুড়কি মোয়া বাতাসায়

আপ্যায়িত করি, ধন্য হই।

নতুনের উজ্জীবনে পাড়ি দিই পথ।

হারানো পুরানো স্মৃতি

বঞ্চনা হতাশা মেঘ বালুচড়া

দূর করে দাও তুমি

নতুনের প্রাণবন্যা আনো

তুমি দীক্ষা শরণ সংবিৎ

অচঞ্চলা, জীবনযুদ্ধের শক্তি-

অশান্তির অশুভের আঁধারের

বিরুদ্ধে সোচ্চার তুমি

অকুণ্ঠিত আলোর বর্ণালি

উৎস এক আনন্দ স্বপ্নের।

এই বৈশাখে

চঞ্চল শাহরিয়ার

নারায়ণগঞ্জে গেলে আবারও

নীপার কাছেই যাবো। বুঝিয়ে বলবো

গতবারের ভুলের কুয়াশাগুলো

জানালার গ্রীল থেকে মুছে দিতে।

তারপর চাষাঢ়ার মোড়। দেওভোগ

শিববাড়ি মন্দিরের পাস দিয়ে যেতে যেতে

ওর হাতে গুজে দেবো হারানো ফুলের ঘ্রাণ।

সাদা আর ফিরোজা রঙের ড্রেস পরা নীপা

কালো হীরের মতো ঝলমলে নীপা

চলো শীতালক্ষ্যায় নৌকায় ঘুরি।

তোমার না বলা কথাগুলো আজ

কান পেতে শুনতে চাইছে বৈশাখী দুপুর।

বৈশাখী পদাবলী

মানজুর মুহাম্মদ

১.

ঘূর্ণি তোলে এই সুদূরে গ্রীসের কোলে

ভালোবাসার বৈশাখী দিন,

এই অবেলায় তোমার স্মরণ জল ডাকে আর

ব্যথায় করে মন চিন চিন।

২.

চোখ ইশারার বৈশাখী দিন পোড়ায় আজো

চোখটা জ্বলে,

গ্রীক দেবীরা ভালোবেসে আমায় নিয়ে

স্বর্গে চলে।

৩.

স্বর্গে দেখি কালবৈশেখী খাচ্ছে চুমু

তোমার গালে,

বৈশাখটা শত্রু ভীষণ, দেয় না হাওয়া

আমার পালে।

৪.

গ্রীস নগরে দেবীর রূপে

পাই না খুঁজে সেই বৈশাখ

এথেন্সের আজ সব প্রহরে

সেই দুপুরের প্রেম দেয় ডাক।

প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল ২০১৫

১৭/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: