রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাংলাদেশ বিনিয়োগের একটি সম্ভাবনাময় দেশ ॥ বার্নিকাট

প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল ২০১৫, ০১:১৮ এ. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা দৃঢ় করতে সম্ভাব্য সব রকম পদক্ষেপ নেবে যুক্তরাষ্ট্র বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট। তিনি বলেছেন, বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। অ্যামেরিকান চেম্বার ইন কমার্স, বাংলাদেশের (অ্যামচেম) মধ্যাহ্ন ভোজ সভায় মার্কিন রাষ্টদূত এ কথা বলেন।

রাজধানীর একটি হোটেলে বুধবার অ্যামচেমের সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে ভোক্তাদের একটি বড় বাজার রয়েছে, যাদের ক্রয়ক্ষমতা দ্রুতই বাড়ছে। এ দেশে ব্যবসা করে সফল হওয়া সম্ভব। বিশ্বাস করুন, যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারী খাত এ সব কথা শুনছে। আমার বিশ্বাস, এদেশের প্রতি তাদের (বিনিয়োগে) আগ্রহ দিন দিন বাড়বে। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ এখন ৬০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৫০০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করে। আর আমদানি করে ১০০ কোটি ডলারের পণ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের এ তথ্য তুলে ধরে বলেন, আমরা কি এর (দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য) পরিমাণ বাড়াতে পারি? আমার বিশ্বাস, উত্তরটি হবে, হ্যাঁ। আমি ঢাকায় আমার মেয়াদকালেই এটি দেখতে চাই এবং আর এ কাজে ব্যবসায়ীরা আমাকে পাশে পাবেন।

বাংলাদেশ সম্পর্কে এই রাষ্ট্রদূতের অভিমত হলো, গত দুই দশকের বড় ধরনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ এখন এ অঞ্চলের অপরিহার্য অংশে পরিণত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। কৌশলগত কারণে বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রও বেশ আগ্রহী।

মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশে আসার আগে এদেশে ব্যবসা করছেÑ যুক্তরাষ্ট্রের এমন লোকজনের সঙ্গে আমি আলাপ করেছি। তারা বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। তিনি আরও বলেন, একটি বার্তা স্পষ্ট, সেটা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো এবং তাদের স্থানীয় অংশীদারেরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে। তারা নতুন নতুন প্রযুক্তিও এদেশে আনছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক পরিবেশকে ব্যবসাবান্ধব করতে হলে আলোচনার মাধ্যমে যে কোন বিবাদ নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এজন্য স্পষ্ট পথনক্সা থাকতে হবে। ব্যবসা করার পরিবেশ বাড়ানো যুক্তরাষ্ট্রসহ যে কোন দেশের জন্যই চ্যালেঞ্জ। তবে এটি বাণিজ্য ও প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য খুবই জরুরী। তিনি এও বলেন, বাংলাদেশে নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ীরা এখন এ দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মূলধন বিনিয়োগের কথা বলছেন। এ সব ক্ষেত্রে নেয়া পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে ২০১৩ সালের নবেম্বরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা রূপরেখা চুক্তি (টিকফা) সই হয়। এ নিয়ে বছরখানেক আগে একটি বৈঠকও ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রসঙ্গে সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ব্যবসা সংক্রান্ত যে কোন বিষয়, যে সব আপনারা আলোচনায় আনতে চান, আমাদের জানান। সেগুলো টিকফার পরবর্তী সভায় আলোচনা করা হবে।

সভায় অ্যামচেমের সভাপতি আফতাব-উল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বড় অংশীদার। যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র বজায় থাকুক, সন্ত্রাসী দমনে কার্যকর ভূমিকা নিক, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি করুক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করুক। তিনি বলেন, দুর্নীতি, আমলাতন্ত্র, সাংঘর্ষিক রাজনীতি এদেশের বড় সমস্যা। এগুলো ব্যবসাকে বাধাগ্রস্ত করে। এ সব দূর করতে পারলে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের এদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করবে।

প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল ২০১৫, ০১:১৮ এ. এম.

১৬/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: