আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নির্বাচনী প্রচারে খালেদার পুড়িয়ে মানুষ হত্যার চিত্র তুলে ধরুন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৫৪ এ. এম.

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে সাংগঠনিকভাবে সর্বশক্তি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষে চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া মাঠে নামলে সেক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে প্রয়োজনে নির্বাচনী প্রচারে নামানোর দাবি তুলেছেন দলটির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে কিছু না বললেও শুধু এটুকু বলেছেন, সজীব ওয়াজেদ জয় নির্বাচনী মাঠে নামলে সেক্ষেত্রে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হবে কি না, তা জেনে নেয়ার পর বিষয়টি চিন্তাভাবনা করা হবে।

বুধবার রাতে গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এসব আলোচনা হয় বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, বৈঠকে দল সমর্থিত একক প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে ব্যাপকভাবে প্রচারে নামার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের সময় বিএনপি-জামায়াত জোটের ৯২ দিনের ভয়াল তা-ব, নাশকতা ও পুড়িয়ে মানুষ হত্যার বীভৎস চিত্রও নগরবাসীর সামনে তুলে ধরারও আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেই দলসমর্থিত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই নির্বাচন জনগণের সামনে বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসযজ্ঞ ও নৈরাজ্যকে ‘না’ বলার সুযোগ এনে দিয়েছে। এই নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে জনগণ বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও, মানুষ হত্যা, নির্যাতনসহ যত রকম অপকর্ম আছে তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে ঘুরেফিরেই আলোচনার প্রাধান্য পায় তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ইস্যুটি। তবে দলীয় নীতিনির্ধারণী সর্বোচ্চ ফোরামের এ ধরনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীই বরাবর সূচনা বক্তব্য রাখলেও বুধবার তাঁর পরিবর্তে বক্তব্য রাখেন সৈয়দ আশরাফ। বক্তব্যে তিনি আগামীতে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথাও জানান।

সূত্র জানায়, বৈঠকে পটুয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ আওয়ামী লীগের জেলা কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস, ১৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস এবং ২৩ জুন দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পালনের সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে বিএনপি-জামায়াত জোটের ৯২ দিনের ভয়াল নাশকতা-সহিংসতা ও পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার বীভৎস কর্মকা- নগরবাসীর সামনে তুলে ধরারও সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া ইতোমধ্যে দেশের যেসব জেলায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেসব পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি দ্রুত কেন্দ্রে জমা দেয়ার জন্য সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দেয়া হয়।

তিন সিটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে জানিয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার অনুযায়ী এই নির্বাচনও সব ধরনের প্রভাবমুক্তভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এখন পর্যন্ত কেউ এ নির্বাচনে কোন রকম প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে এমনটিও শোনা যায়নি। আশা করি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। আর এই নির্বাচনে জনগণ যে রায় দেবে, সেটাই মেনে নেয়া হবে।

সৈয়দ আশরাফ বলেন, এখন পর্যন্ত মাঠের যে খবরাখবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম তিন সিটিতেই আমাদের প্রার্থীরা বিশেষ করে মেয়র প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। ওয়ার্ডগুলোর নির্বাচনের পুরো চিত্র এখনও আমাদের কাছে পৌঁছেনি। দুই-একদিনের মধ্যে সেটিও আমাদের কাছে পরিষ্কার হবে। তবে বেশিরভাগ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদেও আমাদের দলসমর্থিত প্রার্থীরা জিতবেন বলে আমরা আশা করছি।

আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকেই তিন সিটি নির্বাচনে দলসমর্থিত প্রার্থীদের জয়লাভে সহযোগিতা করার জন্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, দলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিধিনিষেধের কারণে এই নির্বাচনে অনেকেই অংশ নিতে পারবেন না। তারপরও আইনের মধ্যে থেকে যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব আমাদের প্রার্থীদের ততটুকুই সহযোগিতা করতে হবে। সিটি হোক, উপজেলা হোক, ইউনিয়ন হোক কিংবা স্থানীয় সরকারের যে পর্যায়ের নির্বাচনই হোক না কেন, সব নির্বাচনই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। পরিস্থিতিও আমাদের অনুকূলে। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারলে আমাদের সব প্রার্থীই জয়ী হবেন।

আগামীতে সিটি কর্পোরেশনসহ সবপর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে সৈয়দ আশরাফ আরও বলেন, বিশে^র সব দেশেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয়ভাবে হয়। একমাত্র আমাদের দেশেই এমন বিধান নেই। আগামীতে এই নির্বাচনও যাতে দলীয়ভাবে হয় তার জন্য সংসদে আইন আনা হবে। আশা করি ওই আইন অনুমোদনের পর পৃথিবীর অন্য সব গণতান্ত্রিক দেশের মতো বাংলাদেশেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয়ভাবে হবে। তিনি বলেন, এতে রাজনীতি ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো শক্তিশালী হবে। গণতন্ত্রও সুনিশ্চিত হবে। দলগুলোতে শৃঙ্খলা বাড়বে, দলে থাকা কর্মীদের জবাবদিহিতা ও দায়িত্বও বাড়বে।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কার করবে আওয়ামী লীগ ॥ এদিকে ধানম-িতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, দল সমর্থিত একক মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর বাইরে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন তাদের প্রথমে বুঝিয়ে নির্বাচন থেকে সরানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি না হলে দল তাদের বহিষ্কার করবে।

প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৫৪ এ. এম.

১৬/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: