কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

গণসংযোগ চলছে জোরেশোরে

প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল ২০১৫
  • দু’একদিনেই নাছির ও মনজুরের ইশতেহার

মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ আজ থেকে আর মাত্র ১২ দিন পর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। কিন্তু এ নির্বাচনে অন্যতম দুই শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত আ জ ম নাছির উদ্দিন ও বিএনপি সমর্থিত মনজুর আলমের পক্ষে বুধবার পর্যন্ত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষিত হয়নি। এছাড়া এ দু’প্রার্থীর দলীয় পর্যায়ে কাউন্সিলর প্রার্থিতা নিয়ে নানা গ্রপিং ও কোন্দল দানা বেঁধেছে। নাগরিক কমিটির পক্ষে আ জ ম নাছিরের জন্য নির্বাচনী ইশতেহার প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানিয়ে আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে তা সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে জনগণের জন্য তুলে ধরা হবে বলে জানানো হয়েছে। পক্ষান্তরে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন এম মনজুর আলমের জন্য অনুরূপ ইশতেহার প্রস্তুতিতে লিপ্ত। মনজুর আলমের পক্ষে ঠিক কখন এ ইশতেহার ঘোষণা করা হবে তা বুধবার পর্যন্ত জানা যায়নি।

এদিকে, এই দুই প্রধান প্রার্থীসহ আরও ১০ মেয়রপ্রার্থী থাকলেও তাদের প্রচারণার কোন উত্তাপ লক্ষণীয় নয়। বুধবার ইসলামিক ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী এইচএম মজিবুল হক শুক্কুর সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামকে স্বপ্নের মালয়েশিয়ার আদলে গড়ে তুলবেন। অপরদিকে, সুন্নী নাগরিক ঐক্য পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা এমএ মতিন চট্টগ্রাম মহানগরীর সমস্যা সমাধানে ১৩ দফা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে গত সোমবার জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠ মেয়রপ্রার্থীদের মধ্যে সর্বপ্রথম নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। যেহেতু মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আ জ ম নাছির উদ্দিন ও বিএনপি সমর্থিত মনজুর আলমের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ থাকবে সেক্ষেত্রে তাদের প্রচার ও বক্তব্যসমূহকে ভোটাররা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রাধান্য দিচ্ছেন। দুই প্রার্থীও দুপুর থেকে রাতের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটভিক্ষা করে চলেছেন। আ জ ম নাছির চট্টগ্রামকে স্বপ্নের মেগাসিটিতে পরিণত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে চলেছেন। মনজুর আলম পুনরায় মেয়র পদে নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা নিরসনে তাঁর প্রয়াস অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বিশ্বমানের নগরী গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে চলেছেন। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিলর নির্বাচনে স্থানীয় ভোটারদের যে যেভাবে কাছে টেনে নিতে পারবে তিনি ততই লাভবান হবেন। কিন্তু মেয়র পদে রয়েছে জটিল সমীকরণ। কেননা, মহানগরীতে শুধু চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তুলে ভোটার হয়েছেন। রিক্সা শ্রমিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও ধনিক শ্রেণী, বিভিন্ন পেশাজীবী, চাকরিজীবীসহ নানা ধরনের মানুষ রয়েছেন। যাঁরা মহানগরীতে ভোটার হয়ে আছেন। এঁদের যেভাবে প্রভাবিত করা যায় তাঁরা সেভাবেই প্রভাবিত হয়ে থাকেন। প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থন এসব শ্রেণী পেশার লোকজনের মাঝে থাকলেও স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে ভোটের হিসাব-নিকাশ নানাভাবে হয়ে থাকে, যার প্রতিফলন ভোটের দিন ঘটে।

আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িতরা আশাবাদী তাঁদের সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী জয়ী হবেন। অনুরূপভাবে বিএনপি ঘরানার লোকজনও মনে করছেন তাঁদের প্রার্থী ২০১০ সালের নির্বাচনে যে পরিমাণ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন এবার এ ব্যবধান আরও বৃদ্ধি পাবে। কথাটি মানতে নারাজ আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িতরা। তাঁদের মতে, ঐ সময় দল সমর্থিত মেয়রপ্রার্থীকে নিয়ে যে গ্রুপিং হয়েছিল সেসব গ্রুপের নেতারা এবার একমঞ্চে এসে গেছেন।

এটা আ জ ম নাছিরের জন্য প্লাস পয়েন্ট। পক্ষান্তরে, ঐ সময়ে যে আশা-আকাক্সক্ষা নিয়ে মনজুর আলমকে মানুষ ভোট দিয়েছিল, নির্বাচিত হয়ে তিনি এর কোন প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি, অর্থাৎ ব্যর্থ হয়েছেন। এ ব্যর্থতার গ্লানির স্বাদ ভোটে তাঁকে নিতেই হবে। ভদ্র, নম্র ও বিনয়ী মনজুর আলমের জন্য প্লাস পয়েন্ট হলেও ভোটের লড়াইয়ে হিসাব-নিকাশ ভিন্নভাবে হয়ে থাকে। সে হিসাব নিয়েই প্রতিফলন ঘটবে প্রার্থীর নির্বাচনী লড়াইয়ে।

এদিকে, সিটি নির্বাচনের দিনক্ষণ খুব বেশি না থাকলেও এখনও নির্বাচনের জোরালো ঢেউ বলতে যা বোঝায় তা এখনও ওঠেনি। তবে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই জমজমাট রূপ নিতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের বিভিন্ন মহলের ধারণা। লিফলেট, হ্যান্ডবিল বিতরণ, মাইকিং ও প্রার্থীদের যে গণসংযোগ এলাকাভিত্তিক চলছে এতে এখনও এককভাবে কারও পক্ষে একতরফা রূপ নেয়নি। সঙ্গত কারণে চট্টগ্রামের মেয়র নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলকভাবে সম্পন্ন হবার সম্ভাবনা বেশি।

প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

১৬/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: