কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বৈশাখের টুকিটাকি

প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল ২০১৫
  • আবু সুফিয়ান

বাঙালীর জীবনে বৈশাখ আসে নবজাগরণের বার্র্তা নিয়ে। এ উৎসবে কালবৈশাখীর প্রলয়ঙ্করীর ঝড়ও যেন তুচ্ছ হয়ে যায়। চারদিকে পড়ে যায় সাজ সাজ রব। বর্ণিল হয়ে ওঠে উৎসবের আকাশ। এ দিনটিকে উদযাপন করতে চলে নানা আয়োজন। আর এ আয়োজনের বড় একটি অংশ হচ্ছে পোশাক। বৈশাখী উৎসবকে রাঙিয়ে দিতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে ফ্যাশন হাউসগুলো। বরাবরের মতো এবারও দেশীয় বুটিক ক্রেতাদের আকৃষ্ট করবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়েছে ফ্যাশন হাউসগুলো। পসরা সাজিয়েছে পছন্দসই পণ্যের। উপস্থাপন করেছে নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, শর্ট পাঞ্জাবি, কুর্তাসহ ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের পোশাক। এর পাশাপাশি শোভা পাচ্ছে গয়না, গিফট আইটেম, গৃহসজ্জা সামগ্রীসহ নানা রকম আইটেম। যা বৈশাখী আয়োজনে এনেছে ভিন্ন মাত্রা। একটা সময় ছিল যখন শুধু বৈশাখের পোশাক কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় কাটত। কিন্তু এখন পোশাকের সঙ্গে অন্যান্য অনুষঙ্গ কিনতে প্রচুর সময ব্যয় হয়। অর্থাৎ বৈশাখী পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে গয়না, চুড়ি, ব্যাগ, মেকআপ ইত্যাদি কেনাকাটা করা যেন বৈশাখী কেনাকাটার অংশ হয়ে গেছে।

চুড়ি

হাতভর্তি চুড়ি ছাড়া বাঙালিয়ানা ভাব যেন পূর্ণতা পায় না। শাড়ির সঙ্গে চুড়ির যেন এক নিবিড় সম্পর্ক। রেশমি চুড়ি, বেলোয়ারি, জয়পুরি যে চুড়ির কথাই বলা হোক না কেন, এই বৈশাখে তা অবশ্যম্ভাবী। বাঙালী নারী চুড়ি ছাড়া বৈশাখী উৎসবের কথা কল্পনাই করতে পারে না। ফ্যাশন হাউসগুলো এখন বৈশাখী পোশাকের পাশাপাশি সাজিয়েছে চুড়ির পসরা। একেক ডজন কাচের চুড়ির দাম পড়বে ২৫-৩৫ টাকার মধ্যে। রেশমি চুড়ির ডজন ২০-২৫, জয়পুরি ১৪০-১৮০, চুমকি ও পুঁতির চুড়ি ৫০-৭০, নকশি ( খাজ কাট ) চুড়ি ৩০-৪০, এবং এক্সক্লুসিভ কালারফুল চুড়ি মিলবে ২০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। অবশ্য কিছু রঙিন চুড়ি রয়েছে যেগুলো দেখতে খুবই সুন্দর এবং দামও হাতের নাগালে। প্রতি ডজন মিলবে ৭০-৯০ টাকায়।

ব্রেসলেট, আংটি, লকেট

যে কোন উৎসবের অনুষঙ্গ হিসেবে ব্রেসলেট, আংটি, কিংবা লকেটের চাহিদা যেন হু হু করে বেড়ে যায়। বৈশাখ এলে যেন তা আরও দ্বিগুণ মাত্রায় ধাবিত হয়। যে কারণে ফ্যাশনে হাউসগুলো বৈশাখী পোশাকের পাশাপাশি পসরা সাজিয়েছে ব্রেসলেট, লকেট, আংটিসহ আরও নানা অনুষঙ্গের। হাত বাড়ালেই মিলবে এগুলো।

প্রাণের উৎসবে মিলিত হয়ে একাত্ম হয়ে যাওয়া যেন বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য। আর এ ঐতিহ্য আরও বেশি বর্ণিল হয়ে ওঠে বৈশাখী সাজগোজ।

গয়না

পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে গয়না পরা এখন বেশ জনপ্রিয়। কোন সময় ম্যাচ করা কালার আবার কোন সময় কন্ট্রাস্ট কালারের গয়না দারুণভাবে মানিয়ে যায়। তবে গয়না যে শুধু মেয়েরাই পরে তা কিন্তু নয়। এখন ছেলেদের গয়নাও পাওয়া যাচ্ছে। গলার মালা, হাতের ব্রেসলেট, কানের রিং এখন ছেলেদের নিয়মিত গয়না অংশ হয়ে গেছে। ছেলেদের গয়না অবশ্য ম্যাচিং করে পরার অবকাশ রাখে না। তবে মেয়েরা বৈশাখী শাড়ি কিংবা সালোয়ার কামিজের সঙ্গে মানিয়ে গয়না সংগ্রহ করে থাকে। সোনা, রুপা, এন্টিক, ইমিটেশন কিংবা মাটির যে গয়নাই হোক না কেন, যেটাতে মানিয়ে যায় ভালো সেটা সংগ্রহেই তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। তবে এ সময়টায় এন্টিক ও মাটির গয়না চল একটু বেশিই হয় অন্যান্য গয়নার তুলনায়।

প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল ২০১৫

১৪/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: