মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

জলাবদ্ধতা যানজট আর বেহাল রাস্তা নিত্যসঙ্গী

প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল ২০১৫
  • ঢাকা সিটি ওয়ার্ড পরিক্রমা ১৬, ১৭ ও ১৮

আনোয়ার রোজেন ॥ আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী বলছেন, ওয়ার্ডে উল্লেখযোগ্য কোন নাগরিক সমস্যা বর্তমানে নেই। সরকারদলীয় স্থানীয় সাংসদ ওয়ার্ডের উন্নয়নে অনেক কাজ করেছেন। কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে তিনি শুধু সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করবেন। তবে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বলছেন উল্টো কথা। তার মতে, ওয়ার্ডের সুষম উন্নয়ন হয়নি। ঘনবসতিপূর্ণ ও শিক্ষিত বাসিন্দাদের ওয়ার্ড হলেও এখানে সরকারী কোন চিকিৎসাকেন্দ্র নেই। নেই কমিউনিটি সেন্টার ও পাঠাগার। নির্বাচিত হলে এসব প্রতিষ্ঠান স্থাপনে সরকারের সহযোগিতা চাইবেন তিনি। অপর তিন প্রার্থী প্রতিশ্রুতি দেয়ার চেয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন ওয়ার্ডে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোতেই। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে এমন চিত্র। ভোটাররা বলছেন, সুনির্দিষ্ট নাগরিক সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতি দেবেন যিনি, ভোটারদের রায় পাবেন তিনি। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা দুইটি- জলাবদ্ধতা ও অনুন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। মার্কেট এলাকা হওয়ায় অসহ্য যানজটই ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা। এছাড়া নিয়মিত ড্রেন উপচে ময়লা পানি ওঠা, মার্কেট এলকায় নীরব চাঁদাবাজির সমস্যাও রয়েছে।

১৬ নম্বর ওয়ার্ড : রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ডিএসসিসির সাবেক ৫০ নম্বর ওয়ার্ডটি নতুন ১৬ নম্বর ওয়ার্ড। সোনারগাঁ রোড সংলগ্ন ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, কাঁঠালবাগান, সার্কুলার রোড, গ্রীন স্কয়ার, গ্রীন কর্নার, গ্রীন রোড, হাতিরপুল, ক্রিসেন্ট রোড, আল আমিন রোড ও ওয়েস্ট এ্যান্ড স্ট্রিট নিয়ে ওয়ার্ডটি গঠিত। সচ্ছল বাসিন্দা ও ঘনবসতিপূর্ণ এই ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৫০ হাজার ৮১। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৭ হাজার ৭৯০। আর নারী ভোটার সংখ্যা ২২ হাজার ২৯১।

প্রার্থী পরিচিতি ॥ মনোয়নপত্র যাচাই বাছাই, বাতিল ও প্রত্যাহার শেষে এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদের লড়াইয়ে টিকে আছেন ৫ প্রার্থী। আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন পেয়েছেন সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ হোসেন হায়দার হিরু (ঘুড়ি প্রতীক)। আর সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার সিরাজুল ইসলামকে (রেডিও প্রতীক) সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। দলের সমর্থন না পেলেও বিএনপি হিসেবে পরিচিত সাদেকুর রহমান নির্বাচনে নেমেছেন ঝুড়ি প্রতীক নিয়ে। এছাড়া জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী অপু শিকদার (ঠেলা গাড়ি প্রতীক) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু আকতারও (লাটিম) আছেন কাউন্সিলর হওয়ার লড়াইয়ে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের আশীর্বাদপুষ্ট মোঃ হোসেন হায়দার হিরু। নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নের ধারাকেই এগিয়ে নিতে চান হোসেন হায়দার হিরু। মুঠোফোনে তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, ‘আশপাশে অনেক বেসরকারী হাসপাতাল থাকলেও ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য কোন সরকারী চিকিৎসা কেন্দ্র নেই। নির্বাচিত হলে সরকারের সহযোগিতায় একটি চিকিৎসা কেন্দ্র নির্মাণের চেষ্টা করব।

১৭ নম্বর ওয়ার্ড ॥ ডিএসসিসির সাবেক ৫১ নম্বর ওয়ার্ডটি নতুন ১৭ নম্বর ওয়ার্ড। অন্তর্ভুক্ত এলাকার মধ্যে একদিকে রয়েছে লেক সার্কাস, উত্তর ধানম-ি, আবেদ ঢালী সড়ক, বশির উদ্দিন রোড, কলাবাগান, গ্রীনরোড (পশ্চিম), গ্রীন রোড স্টাফ কোয়ার্টার। অন্য পাশে তল্লাবাগ, শুক্রাবাদ ও সোবহানবাগ। বেসরকারী স্কয়ার হাসপাতাল এই ওয়ার্ডেই অবস্থিত। মোটামুটি সচ্ছল বাসিন্দাদের ওয়ার্ড এটি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩৬ হাজার ৪৮৬। পুরুষ ভোটার ১৯ হাজার ৮০১, মহিলা ভোটার ১৬ হাজার ৬৮৫।

প্রার্থী পরিচিতি ॥ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে এই ওয়ার্ডে মোট কাউন্সিলর প্রার্থী আছেন মাত্র ৩। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সালা উদ্দিন আহমেদ ঢালী (ঘুড়ি প্রতীক) পেয়েছেন দলীয় সমর্থন। বিএনপি থেকে সমর্থন পেয়েছেন সাবেক ওয়ার্ড কমিশনারের ভাতিজা সাইদুর রহমান (ঠেলাগাড়ি প্রতীক)। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন আকতার হোসেন নিরু (ঝুড়ি প্রতীক)। ওয়ার্ড ঘুরে জানা গেছে, ২০০২ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট আমলের সিটি নির্বাচনে এই ওয়ার্ড থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন আবদুল লতিফ। এবারের নির্বাচনে বিএনপির এই নেতার পরিবর্তে লড়ছেন তার ভাতিজা মোঃ সাইদুর রহমান। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে সাইদুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, ওয়ার্ডের অন্য এলাকার তুলনায় শুক্রাবাদ ও তল্লাবাগ এলাকা উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে। নির্বাচিত হলে প্রথমে এই দুটি এলাকার জলাবদ্ধতা ও পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দেব। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সালাউদ্দিন আহমেদ ঢালী বলেন, ওয়ার্ডে কোন মাতৃসদন কেন্দ্র নেই। তাছাড়া শুক্রাবাদ ও তল্লাবাগ এলাকায় কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ও নেই। নির্বাচিত হলে এ দুটি প্রতিষ্ঠান স্থাপনে চেষ্টা করব।

১৮ নম্বর ওয়ার্ড ॥ রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কোলাহলপূর্ণ ওয়ার্ডটি হলো ১৮ নম্বর ওয়ার্ড (সাবেক ৫২)। ওয়ার্ডভুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে মিরপুর রোড (নীলক্ষেত থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি পর্যন্ত), শহীদ জাহানারা ইমাম সরণি (এলিফ্যান্ট রোড), ড. কুদরত-ই-খুদা সড়ক (নিউ এলিফ্যান্ট রোড), শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনির চৌধুরী সড়ক (সেন্ট্রাল রোড), নীলক্ষেত বাবুপুরা, নায়েম রোড ও কলেজ স্ট্রিট। মোট ভোটার সংখ্যা ৩৮ হাজার ৫৯৮। ভোটারদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই পুরুষ, যা সংখ্যায় ২৪ হাজার ৪২৬। বিপরীতে নারী ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ১৭২।

প্রার্থী পরিচিতি ॥ কাউন্সিলর পদে নির্বাচনী দৌড়ে আছেন ৭ প্রার্থী। ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী লড়ছেন। আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন জসিম উদ্দিন আহমেদ (টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীক)। এছাড়া রয়েছেন নিউমার্কেট থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবদুল খালেক (ঘুড়ি প্রতীক)। বিএনপি থেকে সমর্থন পেয়েছেন নিউমার্কেট থানা বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন (ঠেলাগাড়ি প্রতীক)। তবে কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা কেএম জোবায়ের এজাজও (লাটিম প্রতীক) নির্বাচনে আছেন। তবে দু’জনের প্রচারে বিএনপির কাউকে ওয়ার্ডে দেখা যায়নি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ নির্বাচনী ওয়াদা বিষয়ে বলেন, জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করাই হবে তার অগ্রাধিকার। তাছাড়া সরকারের ভিশন অনুযায়ী ওয়ার্ডটিকে তিনি ঢাকার প্রথম ডিজিটাল ওয়ার্ডে রূপান্তর করতে চান। দলীয় সমর্থন না পেয়েও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল খালেক জনকণ্ঠকে বলেন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত এলাকা গড়ব। ওয়ার্ডে জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী হচ্ছেন এস্কান্দার মোল্লা (রেডিও প্রতীক)। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন এসএম মতিউর রহমান (ঝুড়ি প্রতীক) ও মোঃ জামাল উদ্দিন (ট্রাক্টর প্রতীক)।

প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল ২০১৫

১৪/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: