মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আন্দোলনের নামে যারা পুড়িয়ে মেরেছে তাদের খুঁজে বের করুন

প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল ২০১৫
আন্দোলনের নামে যারা পুড়িয়ে মেরেছে তাদের খুঁজে বের করুন
  • ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আন্দোলনের নামে যারা মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে, সেই অপরাধীদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে নাটোর ও ফেনী জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এ নির্দেশনা দেন। আন্দোলনের নামে নাশকতায় বিএনপি কেবলই ‘শক্তিক্ষয়’ করেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভবিষ্যতে দলটি আর কখনও সরকার হটানোর কথা ভাবতে পারবে না বলে মনে হয়।

গত ৫ জানুয়ারি থেকে তিন মাস ধরে বিএনপির অবরোধ-হরতালে নাশকতার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়ার কী অর্জন হয়েছে সেটা আমার জানা নেই। জঘন্য কর্মকা- করেছেন উনি। মানুষকে এভাবে প্রতিপক্ষ করে, মানুষকে এভাবে কোন রাজনৈতিক নেতা খুন করতে পারে? এটা আমিও ভাবতে পারি না। কারণ আমাদের রাজনৈতিক কর্মকা- জনগণের স্বার্থে।

আন্দোলনের নামে নাশকতামূলক কর্মকা- চালিয়ে ‘বিএনপির শুধু শক্তিই ক্ষয় হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণকে খুন করে তার কী অর্জন? উনাকে কোর্টেও যেতে হয়েছে। সারেন্ডার করতে হয়েছে। আবার ঘরেও ফিরে যেতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ কিন্তু বহাল তবিয়তেই আছে। তিনি বলেন, আশা করি ভবিষ্যতে আর কোমরে এত জোর হবে না যে, আবার সরকার নামানোর কথা চিন্তা করতে পারবে।

নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে ৩ জানুয়ারি গুলশানে নিজের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হন খালেদা জিয়া। পরে পুলিশ ব্যারিকেড সরিয়ে নিলেও তিনি কার্যালয়ে অবস্থান চালিয়ে যান। এর মধ্যে বিশ্ব এজতেমা ও এসএসসি পরীক্ষার কারণে হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হলেও তাতে সাড়া দেননি খালেদা। একুশে ফেব্রুয়ারি ও ২৬ মার্চে শ্রদ্ধা জানাতেও কার্যালয় থেকে বের হননি তিনি। টানা কয়েকটি তারিখে আদালতে হাজিরা না দেয়ায় খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। এরপরও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। শেষ পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আয়োজন শুরু হলে বিএনপির কর্মসূচী শিথিল হয়। খালেদাও গত ৫ এপ্রিল আদালতে গিয়ে জামিন নিয়ে নিজের বাসায় ফিরে যান।

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেনÑ জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসী কর্মকা- যারা করেছে, যারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে এবং প্রত্যেক এলাকায় যারা অপরাধে জড়িত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলব, তাদের খুঁজে খুঁজে বের করতে হবে, তাদের বিচার করতে হবে। দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্যই ‘এ ধরনের অপরাধীদের’ শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, জ্বালাও, পোড়াও, নানা ধরনের সন্ত্রাসী, জঙ্গী কাজ করে কয়েকটি দল যেভাবে মানুষের ক্ষতি করেছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। কাজেই এ ধরনের ঘটনা যাতে আর কেউ ঘটাতে না পারে এবং জঙ্গীবাদী কোন কর্মকা- যেন বাংলাদেশে না হয়, অবশ্যই সে বিষয়ে আপনারা যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। এ সময়ে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। তারা আন্দোলনের নামে এ ন্যক্কারজনক কর্মকা- চালিয়েছে। প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতো মানুষের কল্যাণের জন্য। মানুষের জন্যইতো রাজনীতি। কিন্তু যে রাজনীতিতে মানুষ পুড়িয়ে মারা হয় সেটি কী রাজনীতি? সাধারণ মানুষকে তারা টার্গেট করে পুড়িয়ে মেরেছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কঠোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য রাখবেন। সন্ত্রাসী, জঙ্গীবাদদের কোন ছাড় দেবেন না। বাংলার মাটিতে জঙ্গীবাদের কোন স্থান নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাঝখানে আমরা একটি দুঃসময় পার করলাম। প্রায় তিন মাস পর্যন্ত। সকল বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসহ সকলেই যেভাবে ধৈর্য ধরে এ অবস্থা মোকাবিলা করেছেন, সহযোগিতা করেছেন, সেজন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

স্থানীয় সমস্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও উন্নয়ন নিয়েও কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন সরকার প্রধান। কালবৈশাখীর এ মৌসুমে ঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আশা করব, আপনারা যার যার দায়িত্ব পালন করে মানুষের পাশে থাকবেন। দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের নেয়া কর্মসূচীগুলো বাস্তবায়ন করতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্যও স্থানীয় প্রশাসনকে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়নে নেয়া প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবেন। এ কাজগুলো যেন ভালভাবে হয় সেক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখবেন। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চাই। এ লক্ষ্যে আপনাদের দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্রবিমোচন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়ন আমাদের মূল লক্ষ্য। এ বিষয়টি সকলকে মনে রাখতে হবে এবং সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল ২০১৫

১৪/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: