মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

টাঙ্গাইলে বর্বর নির্যাতনের শিকার শিশু বায়েজীদ

প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল ২০১৫
  • পাঁচ কোটি টাকা আর সুন্দরী পুত্রবধূ পেতে

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল, ১৩ এপ্রিল ॥ জিনের বাদশার অলৌকিক শক্তিতে পাঁচ কোটি টাকা এবং সুন্দরী পুত্রবধূ পাওয়ার লোভে চার বছরের শিশু বায়েজীদকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে। বর্বর নির্যাতনের শিকার পঙ্গু বায়েজীদকে নিয়ে মা শাহীদা বেগম এখন টাঙ্গাইলের মধুপুর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বেডে বসে চোখের জলে ভাসছেন।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি উপজেলার বলিয়াবাড়ীর রিক্সাচালক হাসান আলীর মেয়ে শাহীদা বেগমের বিয়ে হয় একই গ্রামের আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে। আগের স্ত্রী তিন সন্তান রেখে মারা গেলে দ্বিতীয় বিয়ে করে সে। টাঙ্গাইল পৌরসভার চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আব্দুল হাই জেলা শহরের ঈদগাহ মাঠ এলাকায় ভাড়া বাসায় সপরিবারে বাস করে। প্রথম পক্ষের বড় ছেলে শামীম হোসেন, সৎমা ও ভাইবোনের সঙ্গে থেকে টেক্সটাইল কলেজে লেখাপড়া করে। দুই মাস আগে পরিচয় হয় ধনবাড়ি পৌরসভার ছত্রপুর চরভাতকুড়া গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে কথিত জিনের বাদশা সবুজ মিয়ার সঙ্গে। এক পর্যায়ে সবুজ মিয়া শামীমের পরিবারকে অলৌকিকভাবে পাঁচ কোটি টাকা এবং মহিলা জিনের সঙ্গে বিয়ে করানোর প্রস্তাব দেয়। এজন্য গত ৬ মার্চ রাতে বাসায় শামীমকে গায়ে হলুদ দিয়ে সাজানো হয়। সবুজ শামীমকে সারারাত তন্ত্রমন্ত্র পড়ায়। পরদিন শামীমের সৎমা শাহিদাকে নির্দেশ দেয়া হয় স্বপরিবারে এক সপ্তাহ ভিক্ষা করার জন্য। জিনকে বধূ হিসেবে এবং ৫ কোটি টাকার লোভে পরিবারের সকলে মিলে টাঙ্গাইল শহরে এক সপ্তাহ ভিক্ষে করে বেড়ায়। প্রত্যেক দিন আদায় হওয়া ভিক্ষার হাজার-বারশ’ টাকা সবুজের হাতে তুলে দেয়। এরপর সবুজ আরও ২০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানায়। শাহীদা বেগম রিক্সাচালক বাবার স্মরণাপন্ন হলে সুদে ২০ হাজার টাকা জুগিয়ে দেয়। এরপর ৭০ ঘাটের জল। পাঁচশ’ প্রজাতির বৃক্ষ পাতা সংগ্রহ করানো হয়। সর্বশেষে নিষ্ঠুর শর্ত। চার বছরের কচি শিশু বায়েজীদের পুরুষাঙ্গের চামড়া লাগবে। গত ২০ মার্চ রাতে বায়েজীদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে তার পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ ব্লেড দিয়ে কাটে। শিশু বায়েজিদ যন্ত্রণায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে। জ্ঞান ফিরলে কান্নাকাটি করলে তার দুটি হাত ও পা ভেঙ্গে দেয়া হয়। গত ২ এপ্রিল সবুজ বায়েজীদের শরীরের অন্তত দশ জায়গায় ফুটো করে রক্ত নেয়। এ সব দ্রব্য একত্রিত করে আগামী ২০ এপ্রিল কালী সাধন করবে সবুজ। আর সেদিনই মিলবে ৫ কোটি টাকা ও বধূরূপী সুন্দরী পরী। ব্যাপক রক্তক্ষরণ হওয়ায় এবং হাত-পা ভেঙ্গে ফেলার যন্ত্রণায় শিশু বায়েজীদ কান্নাকাটি করতে থাকলে তার মুখ স্কচটেপ দিয়ে বন্ধ রাখা হয়। শরীরে প্রচ- জ্বর উঠলে মা শাহীদা বেগম সুযোগ বুঝে বায়েজীদকে নিয়ে বাসা থেকে পালিয়ে বাবার বাড়ি আসে। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় বায়েজীদকে মধুপুর হাসপাতালে ভর্তি করে। শিশুটি কিভাবে বেঁচে রয়েছে তা দেখে চিকিৎসকরা হতবাক হয়ে গেছেন। তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।

প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল ২০১৫

১৪/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: