মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শাহজালালে সাড়ে চার কোটি টাকার সোনা, কোটি টাকার আতর টুপি উদ্ধার

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল ২০১৫, ০১:৩৫ এ. এম.
  • ধরা পড়ল ৫ জন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নারী ও শিশু দেখলে দুনিয়ার সবাই আলাদা সমীহ করে। সম্মান দেখায়। তারা অগ্রাধিকার পায় সব ক্ষেত্রেই। হয়ত এ সুযোগটাকেই কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন এক দম্পতি। কিন্তু বিধিবাম। এমন কৌশলও কাজে আসেনি। ধরা খেলেন সোনাসহ এই দম্পতি। সঙ্গে তাদের পাঁচ বছরের ছোট্ট বাচ্চাটিও।

আবার হুজুর আলেম উলামাদের প্রতিও মানুষের থাকে ন্যূনতম সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ। ধর্মীয় বেশভুষা ও চেহারা সুরতের দরুনও তারা দেশ-বিদেশে পান বিশেষ সম্মান। এ সুযোগটুকুকেই পুঁজি করে এতদিন চোরাই পণ্যের ব্যবসা করছিলেন হাজী মোশাররফ। কিন্তু এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের নজরদারিতে তিনিও ধরা পড়েন।

রবিবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আলোচিত ছিল এ দুটো ঘটনা। এতে উদ্ধার করা হয় সাড়ে চার কোটি টাকা মূল্যের ৯ কেজি সোনা ও কোটি টাকার আতর, টুপি, হিজাব ও নামাজের বিছানা। জানা যায়, ৯ কেজি স্বর্ণসহ চারজনকে আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। আটকরা হলেন, মাইন উদ্দিন (৪২), তার স্ত্রী আবিদা সুলতানা (৩৩) ও তাদের সন্তান মোজাক্কির মইন (৫) এবং পলি রানী (২৫)।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর মহাপরিচালক ড. মইনুল খান জানান, সকাল সাতটায় কুয়ালালামপুর থেকে আসা একটি বিমানে (বিজি০৮৭) একই পরিবারের তিনজন আসেন। পরে তাদের শরীর তল্লাশি করে ২০টি স্বর্ণের বার ও গহনা পাওয়া যায়। যার ওজন ৪ কেজি ৯৭৫ গ্রাম এবং মূল্য আনুমানিক আড়াই কোটি টাকা। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অপরদিকে একই ফ্লাইট থেকে পলি রানী নামে অপর এক নারীকে চার কেজি ৪৬০ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রিয়াদুর ইসলাম (এসি) জানান, একটি হেয়ার ড্রায়ার মেশিনের ভেতরে অভিনব কৌশলে সাজিয়ে চার কেজি ৪৬০ গ্রাম স্বর্ণ নিয়ে আসেন ওই নারী। তিনি বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে করে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে এসেছে।

এদিকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বের হওয়ার সময় প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের আতর, টুপি ও একটি স্বর্ণের বারসহ এক হজ ব্যবসায়ীকে আটক করে বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। এ সময় হাজী মোশাররফ ট্র্যাভেলস এ্যান্ড ট্যুরসের মালিক মোশাররফ হোসেনকে (৫৫) আটক করা হয়। রবিবার দুপুরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক নম্ব^র ক্যানোপি এলাকা থেকে এসব মালামালসহ তাকে আটক করা হয়।

বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মোশাররফ হোসেন এয়ার এ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইট থেকে নেমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কৌশলে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় এপিবিএনের একটি দল তাকে অনুসরণ করে বিমানবন্দরের এক নম্বর ক্যানোপি এলাকা থেকে তাকে আটক করে। পরে তার কাছ থেকে ১৯ কার্টন আতর এবং বিপুল পরিমাণ টুপি, হিজাব ও কাপড় উদ্ধার করা হয়। এ সব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এ ছাড়া মোশাররফের দেহ তল্লাশি করে এক শ’ ১৬ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণের বারও উদ্ধার করা হয়।

এপিবিএনের গণমাধ্যম শাখার সহকারী পুলিশ সুপার তানজিনা আক্তার ইভা জানান, মোশাররফ হজযাত্রী ব্যবসার আড়ালে অনেকদিন ধরেই এসব অবৈধ কাজ করে আসছিলেন। এর আগেও তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের মালামাল এনেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মোশাররফের বাড়ি বরিশাল জেলায়। হাজী মোশাররফ ট্র্যাভেলস এ্যান্ড ট্যুরসের কার্যালয় রাজধানীর ফকিরাপুলে।

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল ২০১৫, ০১:৩৫ এ. এম.

১৩/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: