মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগে পূর্বাঞ্চল চ্যাম্পিয়ন

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৫৭ এ. এম.

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ফরমেটে আয়োজিত বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগের (বিসিএল) ফাইনালে নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন হয় ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চল। ৩ উইকেটে বিসিবি উত্তরাঞ্চলকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলল পূর্বাঞ্চল।

চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় ম্যাচটিতে। শেষ মুহূর্তে কখনও উত্তরাঞ্চল, কখনও পূর্বাঞ্চল জিততে পারে; এমন পরিস্থিতি দাঁড় হয়ে যায়। শেষপর্যন্ত আবুল হাসান রাজুর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে জিতে যায় পূর্বাঞ্চল। শেষে রাজু ৩৫ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় যে অপরাজিত ৩৯ রান করেন, সেখানেই পূর্বাঞ্চল চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়।

অথচ ম্যাচটি হতে পারত ওপেনার মাহমুদুল হাসানের। এ ব্যাটসম্যানও শতক করলেন। ১০৭ রান করলেন। অলরাউন্ডার নাসির হোসেনও উজ্জ্বল নৈপুণ্য দেখালেন। চার রানের জন্য শতক করতে পারলেন না। কিন্তু না। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দিবারাত্রির এ ম্যাচটি শেষ হতে দেখা গেল নায়ক ‘রাজু’। উত্তরাঞ্চলও ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৯১ রানের বড় স্কোরই গড়ে। জয়ের ভীতও গড়ে। কিন্তু জয় আর পায় না। শেষে গিয়ে রাজু এতটাই বিধ্বংসী বোলিং করেন, সব হিসাব পাল্টে দেন।

এ বিশাল রান তাড়া করতে নেমে পূর্বাঞ্চল ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৩১ রান করে। জিততে যখন ৩০ ওভারে আরও ১৬১ রান দরকার, এমন সময় বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর খেলা বন্ধ হয়ে যায়। সোয়া এক ঘণ্টা পর যখন খেলা শুরু হয়, বৃষ্টি আইনের মারপ্যাঁচে পড়ে ৪৬ ওভারে ২৭৮ রানের টার্গেট দাঁড় হয়। শুরুতে বৃষ্টি পড়ে খেলা বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত মুমিনুল হক ৬২ ও তাসামুল হক ১০ রান করে ব্যাট করছিলেন। এ দুইজনের আগে তামিম ইকবাল ৫ রান করেই আউট হয়ে যান। আর লিটন কুমারের ব্যাট থেকে আসে ৫০ রান। মুমিনুল শেষপর্যন্ত ৭৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। আসিফ আহমেদও এসে যে ৫২ বলে ৪৬ রান করেন, তখনই পূর্বাঞ্চলের দিকে ম্যাচ হেলে পড়ে। কিন্তু ২৪১ রানে গিয়ে আসিফ আউট হতেই ৭ উইকেটের পতনে আবার পূর্বাঞ্চল হারের শঙ্কায় পড়ে যায়। সেখান থেকে বলতে গেলে একাই দলকে টেনে তুলেন রাজু। মুহূর্তেই দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। শেষ তিন ওভারেই ম্যাচ বের করে নেন রাজু। ৪৪তম ওভারে গিয়ে নাসিরের ৬ বলে ১৮ রান নেন রাজু-আরাফাত! সেখানেই মূলত ম্যাচ বের হয়ে যায়।

১২ বলে জিততে যখন ১৪ রান দরকার, এমন সময়ে গিয়ে ৪৫তম ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান রাজু। এরপর ২ রান নেন। তৃতীয় বলে রাজু ১ রান নেয়ার পর আরাফাত শেষ তিন বলে জ্বলে উঠেন। দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েই ম্যাচ জিতিয়ে দেন। ১৮ রানে অপরাজিতও থাকেন। এক ওভার হাতে রেখে ৭ উইকেটে ২৮১ রান করে জিতে পূর্বাঞ্চল। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের জন্য রাজুই ম্যাচ সেরা হন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর ॥

পূর্বাঞ্চল-উত্তরাঞ্চল ম্যাচ-মিরপুর

উত্তরাঞ্চল ইনিংস ২৯১/৯; ৫০ ওভার (মাহমুদুল ১০৭, নাসির ৯৬, মুশফিক ৩১; আসিফ ২/৫০, আরাফাত ২/৫১)।

পূর্বাঞ্চল ইনিংস ২৮১/৭; ৪৫ ওভার (মুমিনুল ৭৮, লিটন ৫০, আসিফ ৪৬, আবুল ৩৯*, আরাফাত ১৮*; তাইজুল ৩/৫৬)।

ফল ॥ পূর্বাঞ্চল ৩ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরা ॥ আবুল হাসান রাজু (পূর্বাঞ্চল)।

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৫৭ এ. এম.

১৩/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: