মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এসো হে বৈশাখ

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল ২০১৫
  • তৌফিক অপু

বাঙালীর ইতিহাস ঐতিহ্য হাজার বছরের। নিজস্ব কৃষ্টি কালচারের বর্ণচ্ছটায় আলোকিত বাঙালীর ঐতিহ্য দেখে বিমোহিত পুরো বিশ্ব। একটি জাতির ঐতিহ্য এতটা সমৃদ্ধশালী হতে পারে তা অনেকেরই মনে বিস্ময় সৃষ্টি করে। বাঙালীর রীতিনীতির ধরনটাই যেন আলাদা। একেকটি উৎসব পার্বণ পালিত হয় একেক আঙ্গিকে। প্রতিটি উৎসবেই প্রাণের আবেগে মিলিত হয় সবাই। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এক কাতারে এসে দাঁড়ায় সবাই। বাঙালীর তেমনি একটি চিরায়ত উৎসব পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। পুরো জাতি মেতে ওঠে বৈশাখী উৎসবে। অন্যান্য আট দশটা উৎসবের চেয়ে বৈশাখী উৎসবটা একটু ভিন্ন। ধীরে ধীরে এ উৎসবটি বাঙালীর অন্যতম উৎসবে পরিণত হয়েছে। প্রাণের উচ্ছ্বাসে, নাড়ির টানে একে অপরের ভেদাভেদ ভুলে এক হয়ে উদযাপন করে পহেলা বৈশাখ। প্রতিটি ঘরে ঘরে চলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি। বাঙালীর জীবনে বৈশাখ আসে নব জাগরণের বার্র্তা নিয়ে। এ উৎসবে কাল বৈশাখীর প্রলয়ঙ্কারীর ঝড়ও যেন তুচ্ছ হয়ে যায়। চারদিকে পড়ে যায় সাজ সাজ রব। বর্ণিল হয়ে ওঠে উৎসবের আকাশ। এ দিনটিকে উদযাপন করতে চলে নানা আয়োজন। এ আয়োজনের রেশটাই যেন অন্যরকম। ঘরে বাইরে সর্বত্র লাগে বৈশাখী হাওয়া। পহেল বৈশাখের সকাল থেকে চলে বৈশাখকে বরণ করে নেয়ার প্রস্তুতি। পরিবার পরিজন নিয়ে বর্ষ বরণের এ প্রস্তুতি যেন জাগ্রত করে বাঙালীবোধকে। বারো মাসে তেরো পার্বণে অভ্যস্ত বাঙালী জাতি পহেলা বৈশাখকে অন্যান্য উৎসবের চেয়ে একটু ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করে। আনন্দ উদ্দীপনার মাত্রা একটু বেশিই থাকে। সকাল বেলাই পান্তা ইলিশ খেয়ে যাত্রা শুরু যেন ঐতিহ্যে রূপ নিয়েছে। বাড়ির সদস্যদেরও এ আয়োজন নিয়ে উৎসাহের কমতি থাকে না। তাছাড়া ভোজন রসিক হিসেবে বাঙালীর সুনাম অনেকদিনের। তাই কোন বেলায় কি কি খাওয়া হবে সবকিছু নিয়েই মাতামাতি চলে। যা পুরো দিনের আবহে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। সেই সঙ্গে ঘর সাজানোর ব্যাপারটা তো রয়েছেই। পহেলা বৈশাখে ঘর সাজানোটা অন্যান্য উৎসবের মতো নয়। অর্থাৎ বিভিন্ন ধর্মীয় কিংবা সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে যেভাবে বাড়ি ঘর সাজানো হয় পহেলা বৈশাখে ঠিক সেভাবে সাজানো হয় না। বিশেষ এই দিনটাতে পুরো ঘরে বাঙালিয়ানা ভাব ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হায়। যেমন বসার ঘরে সোফার কুশন কভার, ফ্লোর বেড কভারে প্রবাহমান বাংলার রূপ ফুটিয়ে তোলা যায়।

কিংবা শোবার ঘরের বেড এবং বালিশ কভারে যদি বাঙালিয়ানা ভাব ফুটিয়ে তোলা যায় তাহলে কেমন হয় ব্যাপারটি। অনেকেই এসব বিষয়টিতে আদেক্ষেতা হিসেবে দেখেন। তবে ব্যাপারটি মোটেও তা নয়। গ্লোবালাইজেশনের এই যুগে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত সবাই। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে বর্তমান প্রজন্মও কাজ করে যাচ্ছে পুরোদমে। যে কারণে আগের সেই অলস সময় পার করার মতো অবসর এখন আর হয়ে ওঠে না। যার ফলে বিশেষ কোন দিবস ছাড়া কাজ রেখে অন্য দিকে মনোনিবেশ করা বেশ কষ্টসাধ্য। সবকিছু ছাপিয়ে পহেলা বৈশাখ যেন অন্যরূপে ধরা দেয় আমাদের কাছে। ফলশ্রুতিতে যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন এ দিনটার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয় বেশ জোরেশোরেই। কিভাবে দিনটি কাটানো যায়, কিভাবে ঘরটা গোছানো যায় কি কি মেনু রাখা যায় ইত্যাদি নিয়ে যেন ঘুম হারাম হওয়ার যোগাড়। একটা সময় ছিল যখন বৈশাখ শুধু উৎসব পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন এর পরিধি বেড়ে গেছে বহুগুণে। উৎসবের সঙ্গে যোগ হয়েছে আতিথিয়েতা ও উপহার আদান প্রদান। এখন বৈশাখ মানেই উৎবের রঙে নিজেকে রাঙানো, প্রিয়জনকে কিছু দেয়া, বৈশাখ মানেই গৃহ সজ্জা, বৈশাখ মানেই আতিথেয়তা। এ ট্রেডিশনটি গড়ে উঠেছে খুব বেশিদিন হয়নি। তবে এর গতি বৃদ্ধি করতে ফ্যাশন হাউসগুলো থেকে শুরু করে বিভিন্ন হাউসহোল্ড শপ, শো পিস শপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিছুদিন আগেও উৎসবভিত্তিক পোশাক কিংবা পণ্য সামগ্রীর সমাহার খুব বেশি চোখে পড়ত না। আর এখন দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। হাতের কাছেই পাওয়া যাচ্ছে বৈশাখী পোশাক, উপহার সামগ্রী, খাদ্য দ্রব্য এবং ঘর সাজানোর উপকরণ। যার ফলে বেড়েছে উপহার আদান প্রদান। অন্যান্য উৎসবের মতোই বৈশাখী উৎসবে প্রচুর উপহার আদান প্রদান করা হয়। বৈশাখকে কেন্দ্র করে বড় ছোট সবার জন্য পোশাক বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। লাল সাদার কম্বিনেশনের এ পোশাকগুলো উপহার হিসেবে দারুণ ভাবে মানিয়ে যায়।

আড়ং, আজিজ সুপার মার্কেট, দেশী দশসহ দেশীয় বুটিক হাউসে দেখা মিলবে বৈশাখী পোশাকের। আবার গৃহ সজ্জার জন্য বেড কভার, শো-পিস, পর্দা, কুশন কভার পাওয়া যাবে হাতের নাগালেই। বিশেষ করে দেশী দশ, আড়ং এবং আজিজ সুপার মার্কেটে হাউসহোল্ড পণ্যের সমাহার ঘটেছে। রয়েছে ঘর সাজানোর বিভিন্ন শো পিস। যেমন মাটির পুতুল, গ্রামীণ হুঁকো, হাতে বানানো মুখোশ, ওয়াল ম্যাট, বাঁশের তৈরি ফুলদানি, টেবিল ল্যাম্প, ঝাড়বাতি ইত্যাদি। যা ঘরের শোভা বৃদ্ধি করবে বহু গুণে। পান্তা ইলিশ যেন বৈশাখের অন্যতম খাবারে পরিণত হয়েছে। তবে এর সঙ্গে অন্যান্য খাবার যেমন খই, মুড়ির মোয়া, চিড়ার মোয়া, নারকেলের নাড়ু, নকশি পিঠার কদরও প্রচুর। সময়ের ব্যবধান এবং স্বল্পতার কারণে এসব খাবার বাসায় বানানো হয়ে ওঠে না কিংবা অনেকে বানাতেও জানেন না। তাই বলে কি থেমে থাকবে বৈশাখী উৎসব? কখনই না। বরং উৎসবের মাত্রা আরও বহুগুণে বাড়িয়ে দিতে হাতের কাছেই রেডিমেড এসব খাবার পাওয়া যাচ্ছে। যার ফলে সময় এবং কষ্ট দুটোই লাঘব হয় এবং রঙিন হয়ে ওঠে উৎসবের আকাশ। বাঙালীর জন্য বৈশাখ এক মহা মিলন মেলা। আর এ উৎসবকে রাঙিয়ে তুলতে যে যার মতো সাজিয়ে নেন আপন ভুবন।

ছবি : আহমেদ রিয়াদ ও তুষার মির্জা

মডেল : সজিব, রেইন, সোহাগ,

পুষ্পিতা, তানভীর, লী ও পাভেল

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল ২০১৫

১৩/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: