আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সাঈদ খোকনের ইশতেহার ঘোষণা ॥ যানজটমুক্ত ও বিশ্বমানের ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল ২০১৫
সাঈদ খোকনের ইশতেহার ঘোষণা ॥ যানজটমুক্ত ও বিশ্বমানের ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যানজট নিরসন, গ্যাস-পানি-বিদ্যুতসেবা নিশ্চিত করা, দূষণমুক্ত বুড়িগঙ্গাসহ পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। রবিবার সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সহস্র নাগরিক কমিটির ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।

ইশতেহার ঘোষণার সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাঈদ খোকনের নির্বাচনী সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের কৃষি সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক, ঢাকা মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ, সহস্র নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ম. হামিদ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, নাজমা হোসাইন, মাসুদ কামাল প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এক সময়ের ঐতিহ্য আর বর্তমানের ঘিঞ্জি-আতঙ্কের পুরনো ঢাকাকে ‘স্বপ্নের ঢাকা’ হিসাবে গড়ে তুলতে চান খোকন। সরু অলি-গলির পুরান ঢাকাসহ রাজধানীবাসীকে নিত্যদিন যানজটের যে বিড়ম্বনা পোহাতে হয় তা থেকে উত্তরণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন নবীন এই মেয়র প্রার্থী। ইশতেহারের শিরোনাম ‘আধুনিক, উন্নত ও বিশ্বমানের মহানগর গড়ে তোলা’। নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি জানান, বাসযোগ্য ও আধুনিক উন্নত বিশ্বমানের মহানগর গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য। সাঈদ খোকনের নির্বাচনী ইশতেহারে অগ্রাধিকার দেয়া ৫টি বিষয় হলো- যানজট নিরসন, দূষণমুক্ত, নাব্য ও নিরাপদ বুড়িগঙ্গা, পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতসেবা নিশ্চিত করা, পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর মহানগরী প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং নাগরিকদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা। সাঈদ খোকনের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যান্য কর্মসূচী হলো-ডিজিটাল মহানগরী, শিক্ষার সুযোগ সবার জন্য অবারিত করা, বস্তি উন্নয়ন ও হরিজন সম্প্রদায়ের মানবিক মর্যাদা ও সমতা সৃষ্টি, আবাসন সমস্যার সমাধানে জরুরী পদক্ষেপ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, অগ্নিকা- প্রতিরোধ, ক্রীড়া ও চিত্ত বিনোদনের ক্ষেত্র তৈরি, কামরাঙ্গীরচরের নতুন তিনটি ওয়ার্ড, ধর্মপালন এবং নগর সুশাসন নিশ্চিত করা। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী-চলতি মাসের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে শনিবার উত্তরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ও ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগ : দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সকল সনদ অনলাইনে প্রক্রিয়াধীন করা। ই-টেন্ডার ব্যবস্থার মাধ্যমে টেন্ডার দুর্নীতি কমিয়ে আনা। সিটি কর্পোরেশনের সকল বিল মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে সম্পাদনের ব্যবস্থা করা। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ডোর স্টপ সার্ভিস বা স্পেশাল হেল্প লাইনের ব্যবস্থা করা। এসএমএস ও ই-মেইল অভিযোগ প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা। অন-লাইনে বিভিন্ন সংস্কারযোগ্য কাজের আবেদন প্রক্রিয়া চালু করা, ডিএসসিসি এর ওয়েবসাইড এ বিভিন্ন প্রক্রিয়াধীন চলমান কাজের প্রতিনিয়ত আপডেট করা, মেয়র ও নাগরিকদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতিবিনিময়ের পাক্ষিক আয়োজন করা।

সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়ন : নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাসমূহ তাৎক্ষণিক মেরামতের প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। যান ও জন চলাচলের পথে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা অতিদ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা করা। পটহোলস, ভাঙারাস্তা, ভাঙা মেনহোল, রাস্তা, ফুটপাথ, সারফেস ড্রেন ও সড়ক মেডিয়ান ইত্যাদি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। নিরাপদ পারাপারের লক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় স্থানগুলোতে ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস নির্মাণ ও বিদ্যমানগুলোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া। সড়ক বাতিগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজন অনুসারে মেরামতের মাধ্যমে এর নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্ষমতা ও উপযোগিতা নিশ্চিত করা। ইউটিলিটি লাইন স্থাপন, মেরামত ও উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা কর্তৃক খননকৃত সড়ক অতিদ্রুত মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ। একটি সমন্বয় সেলের মাধ্যমে বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সংস্থা যথা- বিদ্যুত, ওয়াসা, ডেসা, তিতাস, রাজউক, বিটিসিএল ইত্যাদির সঙ্গে সমন্বয় করে সড়ক খোঁড়া ও মেরামতের অনুমোদন করা। নগরীর সড়কপথ ও ফুটপাথ সবসময় প্রতিবন্ধকতামুক্ত ও ব্যবহার উপযোগী রাখা। বাস টার্মিনালগুলোর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ ও চাঁদাবাজমুক্ত করা, মান উন্নয়ন ও সেবা কর্মসূচী, পর্যাপ্ত যাত্রী ছাউনি, পর্যাপ্ত নামাজের স্থান, মাতৃদুগ্ধদান স্থান, পাবলিক টয়লেট, বিশুদ্ধ পানি, প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র, অভিযোগ ও তথ্যকেন্দ্র, পর্যায়ক্রমে ওয়াইফাই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

বাসযোগ্য ঢাকা : বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলার জন্য ১৫ ধরনের পরিকল্পনা নেয়া হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- সড়ক, ফুটপাথ, খেলারমাঠ, ফুটওভারব্রিজ, আন্ডারপাস, ফ্লাইওভার, মার্কেটের চারপাশ, খোলা ড্রেন, ডিপ ড্রেন, পরিষ্কারে কঠোরভাবে সময় ও মান নিশ্চিত করা। স্যানিটেশন এন্ড সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করা। উপযুক্ত ও কার্যকরী ড্রেনেজ সিস্টেম বাস্তবায়ন করা। ল্যান্ড ফিল্ড ম্যানেজম্যান্ট নিশ্চিত করা। প্রাইমারী ও সেকেন্ডারি পয়েন্ট থেকে আবর্জনা বর্জ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিহারসহ বর্জ্য চূড়ান্ত অপসারণের প্রতিটি ধাপে গতিশীলতা ও পরিবেশ সম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। প্রতিটি ওয়ার্ডে কমপক্ষে একটি করে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন, লিটারবিন ও আবর্জনা মজুদের কন্টেইনার তৈরি, স্থাপন, সরবরাহ ও রক্ষণারেক্ষণ। জলাবদ্ধতা অভিযোগে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ। নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ। হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা। সুস্থ ও নিরাপদ বসবাসের ব্যবস্থা গ্রহণ। বিভিন্ন অর্থনৈতিক স্তরের মানুষের কাজ করার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। এছাড়াও গণস্বাস্থ্য, সমাজ কল্যাণসহ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে নেয়া হবে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ।

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল ২০১৫

১৩/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: